You are here
Home > প্রচ্ছদ > ১০০ পরিবার ঈদ আনন্দবঞ্চিত

১০০ পরিবার ঈদ আনন্দবঞ্চিত

ইউপি নর্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুজন খুন হওয়ার পর আতঙ্কে নড়াইলের পেড়লী ইউনিয়নের বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের ঈদ আনন্দ নেই।

স্টাফ রিপোর্টারঃ ভয় ও আতঙ্কে পালিয়ে থাকায় নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের ১০০ পরিবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত শুক্রবার সরেজমিনে পেড়লীর সাধারণ মানুষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, পেড়লী অনেক আগে থেকেই জামায়াত-অধ্যুষিত এলাকা। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইউপি নির্বাচনপরবর্তী এ ধরনের তাণ্ডবের সুযোগ পেত না আওয়ামী লীগ নামধারী জামায়াত-শিবিরের লোকজন। আওয়ামী লীগ করে এমন ৬০টি পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুরসহ লুটপাট হতো না। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় প্রায় ১০০ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িছাড়া হতেন না।

গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত হয় পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জারজিদ মোল্লার কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন পরাজিত হন। নির্বাচনের দুদিন পর ২৫ মে সকাল ৮টার দিকে পেড়লীর মহসিন মোড় এলাকায় নৌকার সমর্থক মুরাদ মুন্সিকে মারধর করেন জারজিদের সমর্থকেরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে জাহাঙ্গীরের সমর্থকেরা প্রতিপক্ষের মোফাজ্জেল শেখ ও তাঁর ছেলে সাদ্দাম শেখ, ভাই শামীম শেখ এবং প্রতিবেশী মোজাহের হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেন। এ ঘটনার পর জারজিদ মোল্লার সমর্থকেরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুরসহ লুটপাট করেন। বাধা দিতে গেলে বদরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করেন। মোফাজ্জেল শেখ ২৫ মে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বদরুল ইসলাম ২৭ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। মোফাজ্জেল মোল্লার মৃত্যুর পর কালিয়া থানায় ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে মামলার আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার ও প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে গ্রামের মোল্লা, মুন্সি ও শেখ বংশের ১০০টি পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িছাড়া হন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মধ্য পেড়লীর খালের উত্তর পাড়ে শেখ ও দক্ষিণ পাড়ে মোল্লা, শেখ ও মুন্সি বংশের মানুষের বসবাস। খালের উত্তর পাড়ের মানুষের মধ্যে ঈদ আনন্দ বিরাজ করলেও দক্ষিণ পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের নারী-শিশুরা রয়েছেন আতঙ্কের মধ্যে। এত দিনেও স্বাভাবিক হতে পারেনি আওয়ামী লীগের সমর্থক পরিবারগুলো। পরিবারগুলোর পুরুষেরা ফিরতে পারছেন না তাঁদের বাড়িঘরে। পেড়ী গ্রামের রেজাইল মোল্লার স্ত্রী হেমেলা খাতুন বলেন, বাড়িঘরে কিছুই নেই। সব লুট করে নিয়ে গেছেন মোফাজ্জেল গ্রুপের লোকজন। ৬০টি বাড়ি থেকে ১৭৫টি গরু, দেড় হাজার মণ ধানসহ সব মালামাল লুট করা হয়েছে। মফিজুর রহমানের স্ত্রী রোজি বেগম, খোকন মোল্লার স্ত্রী মেরি খাতুনসহ অনেকে বলেন, কালাম শেখ, আকবর শেখ, লেকবর শেখ, বালাম শেখসহ বহু লোক প্রতিদিন রাতে বাড়ির ওপর এসে হুমকি দিচ্ছেন। বাড়িতে পুরুষ লোক নেই। ছেলেমেয়ে নিয়ে এবার ঈদ করা হবে না।

নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্লা বলেন, ‘কে বা কারা বাড়িঘর ভাঙচুরসহ লুটপাট করছে, তা জানা নেই। আমার বদনাম করার জন্য অনেকে আত্মীয়স্বজনদের খবর দিয়ে এগুলো পাচার করছেন।’

কালিয়া থানার ওসি মো. গণি মিয়া বলেন, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অসহযোগিতার কারণে।

Leave a Reply

Top