You are here
Home > অর্থনীতি > হাসকিং মিলগুলো পূর্নজীবিত করা হলে কৃষকরা ধানের দাম পাবেন : খাদ্যমন্ত্রী

হাসকিং মিলগুলো পূর্নজীবিত করা হলে কৃষকরা ধানের দাম পাবেন : খাদ্যমন্ত্রী


নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন, অটোরাইচ মিলাররা একচেটিয়া ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু টাকার কারণে পেরে উঠতে পারেনা। তাদের কারণে প্রতিযোগীতার বাজারে টিকতে না পেরে হাসকিং মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হাসকিং মিলগুলো যদি পূর্নজীবিত করা যায় তাহলে কৃষকরা ধানের দাম পাবেন। কারণ তখন ধান কেনার প্রতিযোগিতা থাকবে। অটোরাইচ এবং হাসকিং মিলগুলোকে যদি বরাদ্দ দেয়া হয় তাহলে কৃষকরা ন্যায্য ধানের দাম পাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এছাড়া অটোরাইচ মিলাররা নিজেদের চিন্তা না করে ছোট ভাইদের (হাসকিং মিল) সাথে নেয়ার পরামর্শ দেন।


খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের হাসকিং মিল গুলোকে আমাদের পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। অটোমেটিক রাইস মিলের চাপে তারা মারা যাবার উপক্রম। এই মিলগুলোকে চালু করতে পারলে কৃষকরা ধানের নায্য মূল্য পাবে কারন তখন ধান কেনার প্রতিযোগিতা থাকবে। সারা দেশে ভোক্তা, মিল মালিক, কৃষক, ব্যবসায়ী কেহ যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেটাই আমার দপ্তরের চেষ্টা থাকবে। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমরা ক্ষুধামুক্ত দেশ করেছি, এখন পুষ্টিকর যুক্ত, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। খাদ্য বিভাগ ৭০ কোটি মানুষের ক্ষুধার সাথে সম্পৃক্ত।


শনিবার বিকেল ৫টায় নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপ আয়োজিত শহরের ঠিকানা কমিউনিটি সেন্টারে সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আটদিনে জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের ৯টি দাবী পেয়েছি। চেষ্টা করব সবগুলো দাবী পূরনের। তবে দাবীগুলোর মধ্যে ২ নং দাবী ৫০ হাজার মেট্রিকটন ধারন ক্ষমতার সিএসডি আগে তৈরীর চেষ্টা করব। যতটুকু মেধা আছে প্রয়োজন হলে আরো মেধা অর্জন করে সততার সাথে কাজ করব। আমি লোভী না। লোভ যেন আমাকে স্পর্শ করতে না পারে। অহংকার যেন আমার মধ্যে না আসে।


এসময় নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখে, নওগাঁ-৩ আসনের সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম, নওগাঁ-৫ আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো: মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশিদুল হক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি আলীগ নিমর্মল কৃষ্ণ সাহা, নওগাঁ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল, চাউলকল মালিক গ্রুপের সাধারন সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার, সাবেক সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পলাশ ও সজিব, নওগাঁ জেলা ধান্য চাউল আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা চন্দন সহ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। এসময় জেলার সকল চাউল কল মালিক গ্রুপের সদস্যরা।
জেলা চাউলকল মালিক গ্রুপের সাধারন সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার খাদ্যমন্ত্রীর কাছে ৯টি দাবী পেশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- চাউল কলকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা, খাদ্য উদ্বৃদ্ধ এ জেলার প্রত্যেক উপজেলায় ২ হাজার মেট্রিক ট্রন ধারনক্ষতার গুদাম নির্মান করা, সারা বছর সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যহৃত রাখা, মিলের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী বরাদ্দ বিভাজন করা, হাসকিং মিলের ক্ষেত্রে নূন্যতম ৫০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ, প্রয়োজন ব্যতিত বিদেশ থেকে সকল প্রকার চাউল আমদানী বন্ধ করতে হবে।
নওগাঁ জেলা ধান্য চাউল আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা চন্দন সহ বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল রয়েছে। কিন্তু তারপরও বিদেশ থেকে প্রায় ৩৯ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। যার কারনে চালকল মালিকরা লোকসান গুনছে। কিছু কিছু মিডিয়া বলছে- চালের বাজার উর্ধ্বগতি। যা বেফাস মিথ্যা কথা। বেমালুম ষড়যত্রের অংশীদার। কিন্তু আমরা বলছি নিন্মমূখী। কৃষক ও মিল মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা ব্যবসা করি রাস্তায় নামতে রাজি নয় এবং প্রতিবাদ করতে জানিনা। কিন্তু আমাদের কাছে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক আছে। আমরা যদি মনে করি কয়েক ঘন্টার মধ্যে সমস্ত প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া আমাদের জন্য কোন বিষয় না। আপনারা সাবধান হয়ে যান বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।


সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা খাদ্যমন্ত্রীকে ফুল ও ক্রেষ্ট দিয়ে সংবর্ধিত করেন। এর আগে সকালে খাদ্যমন্ত্রী জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস ও শিশু পরিবার পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply

Top