You are here
Home > জাতীয় > সড়ক ও জনপথের (সওজ) সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল : সেতুমন্ত্রী

সড়ক ও জনপথের (সওজ) সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল : সেতুমন্ত্রী

ইমন খান, গাজীপুর :

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে রাস্তা মেরামত ও মনিটরিংয়ের (তদারকি) জন্য সড়ক ও জনপথের (সওজ) সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়ে মহাসড়ক পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টি তো হবেই। বৃষ্টিকে ভিলেন বানিয়ে, অজুহাত সৃষ্টি করে রাস্তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী থাকবে, এটা হয় না। বৃষ্টিরও ট্রিটমেন্ট আছে। যখন বৃষ্টি চলে, তখনো রাস্তার ট্রিটমেন্ট থাকতে হবে, চিকিৎসা আছে। যখন যেই রোগ, সেই রোগের চিকিৎসা তখন করতে হবে। বৃষ্টি চলাকালেও আমাদের ইঞ্জিনিয়ার, কন্ট্রাক্টরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা মাঠে থাকবে। সঙ্গে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, তারা সবাই মাঠে থাকবে। এখন থেকেই তারা মাঠে অবস্থান নেবে। মহাসড়কে যাতে যানজটের সৃষ্টি না হয় সেজন্য ঈদের সাতদিন আগে মহাসড়কের উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখা হবে, তবে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ অব্যাহত থাকবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধুমাত্র ঈদের দিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের (সওজ কর্মকর্তা-কর্মচারী) ছুটি থাকবে। বাকি সময় তারা রাস্তায় থাকবে। কারণ, এবার দেশে একটা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক-মহাসড়ক সচল রাখার জন্যই প্রকৌশলীদের মাঠে থাকতে হবে। গত ঈদের চাইতেও এবার ঈদযাত্রা সহায়ক ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করেন তিনি।

কাদের আরো বলেন, বৃষ্টি-বাদলকে অজুহাত দেখিয়ে ঘরমুখো যাত্রা বিঘ্নিত হবে, এটা আমি বলতে চাই না, এটা আমাদের লক্ষ্য নয়। যে কোনো অবস্থায় আমরা, বৃষ্টি-বাদলের মধ্যেও আমাদের সড়ক আমরা ইউজ্যাবল রাখব, পাস্যাবল রাখব, সচল রাখব, যানবাহন চলাচলে উপযোগী রাখব। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। এখানে হাইওয়ে পুলিশ, পুলিশ, মালিক-শ্রমিক সবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সর্বত্রই আমরা যোগাযোগ করেছি।

এ সময় হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান, সাসেক প্রকল্প পরিচালক দিলীপ কুমার গুহ, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে ৫০টি পয়েন্টে এক থেকে তিন কিলোমিটার রাস্তা এখনো পানির নিচে রয়েছে। অবশ্য বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রকৌশলীরা সেখানে গিয়ে রাস্তা মেরামতের কাজ সম্পন্ন করছে। এবার আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে। কারণ এবার দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে। কোনো অবস্থায় যাতে কোনো রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য অনুপযোগী না হয়, সে ব্যাপারে সার্বক্ষণিকভাবে ২৪ ঘণ্টা আমাদের অফিসাররা, প্রকৌশলীরা রাস্তায় থাকবে।’

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘কোরবানি ঈদে সমস্যা হচ্ছে পশুবাহী পরিবহন। এগুলোর জন্য রাস্তায় যানজট হয়, গাড়ির লম্বা টেল হয়। কারণ এ গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলে, যানবাহন স্লো হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা আগেভাগে জানিয়ে দিয়েছি, পশুবাহী গাড়িগুলোর যেন ফিটনেস থাকে। এগুলো যখন তখন যদি আটকে যায়, বন্ধ হয়ে যায়, তা হলে তো যান চলাচল সমস্যা হবে এবং যানজটের কারণ হবে।’

Leave a Reply

Top