You are here
Home > আন্তর্জাতিক > স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে আবেদন রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীর

স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে আবেদন রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর অন্যতম হত্যাকারী রবার্ট পায়াস। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজা খাটছেন রবার্ট। দীর্ঘ ২৭ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকার ফলে বেঁচে থাকার ইচ্ছাটাই চলে গেছে রবার্টের। তাই আর বেঁচে থাকা নয়, স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে বুধবারই চেন্নাইয়ের পুঝাল সংশোধনাগারের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান রবার্ট।
সংশোধনাগারের সুপারকে একটি চিঠি লিখে নিজের ইচ্ছার কথা জানানোর পরই জেল সুপার তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
চিঠিতে রবার্ট জানান ‘আমি ২৭ বছরের বেশি বন্দি জীবন কাটাচ্ছি। আমি সরকারের উদ্দেশ্য বুঝতে পারছি এবং আমাদের পরিবারের লোকেরাও আমাকে আর কারাগারে দেখতে আসে না। আমি তাই বেঁচে থাকার কোন প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাই না। আমি আর কখনও কারাগার থেকে ছাড়া পাবো না, তাই আমি স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য আবেদন জানাচ্ছি’।
রাজ্যের এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানান ‘এই চিঠির ওপর ভিত্তি করে আমরা কোন পদক্ষেপ নিতে পারছি না। আমরা এই আবেদনটিকে রাজ্য পুলিশের ডিজি’এর মাধ্যমে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। বিষয়টি এখন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সুপ্রিম কোর্টেও এই মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে’।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরামপুদুরে এক নির্বপাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার সময় আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারান রাজীব গান্ধী। সেই হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় সাতজনকে। এর মধ্যে এলটিটিই কমান্ডো রবার্ট পায়াস ছাড়াও রয়েছে এ.জি.পেরারিভালন, জয়কুমার, রবিচন্দ্রন, সান্থন, মুরুগান এবং নলিনী শ্রীহরণ। এদের মধ্যে রবার্ট, পেরারিভালন, জয়কুমার, রবিচন্দ্রনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। বাকীদের ফাঁসির সাজা শোনায় আদালত। পরে অবশ্য এই ৩ জনকে সেই সাজার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজীব গান্ধীর ওই ৭ হত্যাকারীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্য সরকারের সেই সিন্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

Leave a Reply

Top