You are here
Home > খেলাধুলা > স্পিন ভারী দল অস্ট্রেলিয়ার

স্পিন ভারী দল অস্ট্রেলিয়ার

স্পিন ভারী দল অস্ট্রেলিয়ার

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের সফরের পরই বাংলাদেশ সিরিজের জন্য স্কোয়াড ঘোষণার কথা ছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের। কিন্তু বেতন-ভাতা নিয়ে বোর্ড বনাম ক্রিকেটারদের লড়াইয়ে সে সফর হয়নি, সংকট নিরসনের পর গতকাল ঘোষিত হয়েছে দুই টেস্টের সিরিজের জন্য ১৪ সদস্যের দল। তাতে একজনের কপাল খুলেছে, আরেকজনের কপাল পুড়েছে। চোটের কারণে একেবারে শেষ মুহূর্তে ঝরে পড়েছেন জেমস প্যাটিনসন, তাঁর জায়গা নিয়েছেন জ্যাকসন বার্ড। তবে অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত দলের চমক নবাগত মিচেল সোয়েপসন।

তাঁর নামটা অবশ্য বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফরকালেই জেনেছেন সবাই। কুইন্সল্যান্ডের ২৪ বছর বয়সী এ লেগ স্পিনারের ওই সফরে অন্তর্ভুক্তি ‘সাড়া’ ফেলেছিল অস্ট্রেলীয় মিডিয়ায়। রাজ্য দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৪ ম্যাচে ৩২.৮২ গড়ে ৪১ উইকেট আহামরি নয় মোটেও। তবে দীর্ঘ পরিসরে সোয়েপসনের লেগ স্পিনের ভবিষ্যৎ আছে বলেই বিশ্বাস নির্বাচকদের। তাই মিডিয়ার চোখ কপালে উঠলেও পিছু হটেননি তাঁরা। ভারত সফর সোয়েপসনের জন্য ছিল আন্তর্জাতিক ড্রেসিংরুমের উত্তাপ গায়ে মাখার সুযোগ।

অস্ট্রেলিয়ার দল গঠনের পরিকল্পনায় এটা পরিষ্কার যে, কন্ডিশনের কারণে বাংলাদেশে তাঁর টেস্ট অভিষেক একরকম নিশ্চিতই। নাথান লায়নের অফ স্পিন, অ্যাস্টন অ্যাগারের বাঁ-হাতি স্পিনের সঙ্গে সোয়েপসনের লেগ স্পিনের ট্রায়াঙ্গলে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের হতচকিত করে দেওয়ার ছক নিয়েই যেন আসছে অস্ট্রেলিয়া। স্পিন ভাণ্ডারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের নামটাও জুড়ে দেওয়া যায়।অবশ্য দল গঠন-পূর্ব মিডিয়ার ভাবনায় এবারও ছিলেন না সোয়েপসন। বরং দুই মাস আগে মিচেল স্টার্কের পরিবর্তে একজন বোলারকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিতই ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার সেরা পেসারের সম্ভাব্য বদলি হিসেবে এই লেগির চেয়ে তাসমানিয়ার পেসার জ্যাকসন বার্ডকেই বাংলাদেশিগামী বিমানে দেখতে পাচ্ছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু নির্বাচকরা নিয়েছেন সোয়েপসনকে। অবশ্য কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বার্ডও ঢুকেছেন দলে, ডারউইন থেকে ঢাকার ফ্লাইট ধরছেন ঠিকই, তবে সেটি প্যাটিসনের ইনজুরির কারণে। ইংলিশ কাউন্টি নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন ভিক্টোরিয়ার এ ফাস্ট বোলার। পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১২.০৬ গড়ে ৩২ উইকেট নিয়েছেন প্যাটিনসন। লোয়ার অর্ডারে ব্যাটেও রান করেছেন তিনি। দুটি ফিফটিসহ ৪৯.২৫ গড় প্যাটিনসনের। কাউন্টির পর অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া শেফিল্ড শিল্ডেও ১৭ গড়ে ২৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাতে জস হ্যাজেলউড আর প্যাট কামিন্সের সঙ্গে তাঁর ‘পেসার ত্রয়ী’ হওয়াই ছিল পূর্বনির্ধারিত। প্রাথমিক দলে তিনি ছিলেনও। কিন্তু পিঠের পুরনো ব্যথা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় প্যাটিনসনকে ছাড়াই বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া। পায়ের ইনজুরির কারণে দুই মাস আগেই এ সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন মিচেল স্টার্ক। এখন সে তালিকায় প্যাটিনসনের নাম যোগ হওয়ায় নিঃসন্দেহে সেরা পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া। অবশ্য চোট খুব গুরুতর নয় বলেই জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে আসন্ন অ্যাশেজ সিরিজের কথা ভেবে প্যাটিনসনকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি নির্বাচকরা।

প্যাটিনসনের ‘বিশ্রাম’ পাওয়া নয়, বোধগম্য কারণে নবাগত সোয়েপসনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষেই বেশি ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম নির্বাচক ট্রেভর হন্সকে, ‘বাংলাদেশ সিরিজের জন্য পেস আক্রমণে যে অস্ত্র আছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট বলেই একজন বাড়তি স্পিনার (সোয়েপসন) নেওয়া হয়েছে। উপমহাদেশের এটা মিচেলের দ্বিতীয় সফর। আমরা মনে করি এতে ও দারুণভাবে উপকৃত হবে। ’

স্কোয়াড : স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার (সহ-অধিনায়ক), অ্যাস্টন অ্যাগার, হিলটন কার্টরাইট, প্যাট কামিন্স, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, ম্যাথিউ ওয়েড (উইকেটরক্ষক), জস হ্যাজেলউড, উসমান খাজা, নায়ান লায়ন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, জেমস প্যাটিনসন, ম্যাট রেনশ ও মিচেল সোয়েপসন।

Leave a Reply

Top