সেই রকিবুলের ব্যাটেই কালবৈশাখী – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > খেলাধুলা > সেই রকিবুলের ব্যাটেই কালবৈশাখী

সেই রকিবুলের ব্যাটেই কালবৈশাখী

স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৭টি চার, ১০টি ছক্কা। ১৩৮ বলে ১৯০ রান। দুর্দান্ত এই ইনিংসটা কাল বিকেএসপিতে আবাহনী-মোহামেডান প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে। ব্যাটসম্যানের নামটা অনুমান করুন তো!

যাঁরা এই ম্যাচের খোঁজখবর রেখেছেন, তাঁদের জন্য খুব সহজ প্রশ্ন। কিন্তু যাঁরা রাখেননি? ঠিক নামটি অনুমান করা একটু কঠিনই তাঁদের জন্য। ব্যাটসম্যানের নাম রকিবুল হাসান! এমন তাণ্ডব যাঁর নামের সঙ্গে ঠিক যায় না। ‘দীর্ঘ সংস্করণের ব্যাটসম্যান’ তকমা গায়ে লাগিয়েই না ক্যারিয়ারটা পার করে দিলেন তিনি!

সেই রকিবুলই কাল ঝোড়ো এক ইনিংস দিয়ে গড়লেন কত কীর্তি! লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশি কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এখন তাঁর। বাংলাদেশের মাটিতেও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এটি। ২০১১ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনের অপরাজিত ১৮৫ ছিল আগের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৬-০৭ মৌসুমে রকিবুল ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। যেটি এখনো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে
বাংলাদেশের একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরি হয়ে আছে। ক্রিকেটের দুটি সংস্করণে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডের মালিক এখন রকিবুল।

রেকর্ড গড়ার আনন্দটা অবশ্য পরিপূর্ণ হয়নি মোহামেডান অধিনায়কের। অসাধারণ এই ইনিংসের পরও যে হেরে গেছে তাঁর দল। নিজের কীর্তির আনন্দ আর দলের হারের আক্ষেপ তাই মিলেমিশে একাকার ম্যাচ শেষে তাঁর প্রতিক্রিয়ায়, ‘বড় ইনিংস খেলে খুব ভালো লাগছে। আবার দলকে জেতাতে না পারায় কিছুটা খারাপও লাগছে। খানিকটা আক্ষেপ তো আছেই।’

প্রথম ফিফটিটা করেছিলেন ৩০ বলে। সেঞ্চুরি এল ৬২ বলে। ১০৭ বলে ১৫০। রকিবুলের তাণ্ডবের সামনে ৩৬৬ রান করেও তখন নিরাপদ বোধ করছে না আবাহনী। শেষ ওভারে যখন রকিবুল স্ট্রাইক পেলেন, জয়ের জন্য ৫ বলে দরকার ছিল ২৯ রান, আর তাঁর ডাবল সেঞ্চুরির জন্য ১০। কিন্তু লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার চেষ্টা নয়, রকিবুল দলের জয়টাই চাইছিলেন, ‘ওই সময় ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য ছিল না। ডাবল সেঞ্চুরি বা ও রকম কিছুর কথা ভাবিনি। আমার লক্ষ্য ছিল, কোনোভাবে যদি দলকে জেতানো যায়। কোনোভাবে পাঁচটা ছক্কা মারতে পারলে আমরা জিতে যেতাম। ওই চেষ্টা করতে গিয়েই আউট হয়ে গেছি।’

ডাবল সেঞ্চুরি পাননি, দলও হেরেছে। তারপরও কাল সব ছাপিয়ে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের নায়ক রকিবুল। আউট হয়ে যখন ফিরছেন, মুগ্ধ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরা ছুটে গিয়ে অভিনন্দন জানালেন তাঁকে। জড়িয়ে ধরলেন এর আগে আবাহনীর দুই সেঞ্চুরিয়ানের একজন নাজমুল হোসেন। ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে যিনি রীতিমতো অভিভূত, ‘অসাধারণ ইনিংস! আমি কোনো দিন মাঠে থেকে এ রকম ইনিংস দেখিনি। খুবই উপভোগ করেছি, অনেক কিছু শিখেছিও।’

২০০৮ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ সফরের সময় ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল রকিবুলের। ওই বছরই নভেম্বরে বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট অভিষেক। দীর্ঘ সংস্করণের ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত হয়ে যাওয়ার পরও অবশ্য ৯টির বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি। ওয়ানডে খেলেছেন ৫৫টি। ২০১১ সালের পর তো জাতীয় দলেই সুযোগ হয়নি। অথচ গত বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেই সর্বোচ্চ ৭১৯ রান ছিল তাঁর। জাতীয় দলে আবার খেলার ইচ্ছে হয় না?

প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই মিশে থাকল নির্বাচকদের উপেক্ষার যন্ত্রণাটা, ‘সত্যি কথা বলতে এখন মাথায় এগুলো কিছুই নেই। এখন জাতীয় দলে অনেক প্রতিযোগিতা। স্বপ্ন তো অবশ্যই আছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে এখন ভাবছি না। এ মুহূর্তে আমি মোহামেডানের হয়ে খেলতে পারছি, এটাই বড় বিষয়।’

এটাই বড় বিষয়? মনে হয় না। বড় বিষয় তো ধীরগতির ব্যাটিংয়ের প্রতিশব্দ হয়ে যাওয়া রকিবুলের এমন বিধ্বংসী রূপে দেখা দেয়া!

One thought on “সেই রকিবুলের ব্যাটেই কালবৈশাখী

Leave a Reply

Top