You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > সিরাজগঞ্জে যমুনায় পানি বৃদ্ধি, কাজীপুরে রিং বাঁধ ধসে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

সিরাজগঞ্জে যমুনায় পানি বৃদ্ধি, কাজীপুরে রিং বাঁধ ধসে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

খন্দকার মোহাম্মাদ আলী, সিরাজগঞ্জ :

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। যা বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

যমুনা নদী বেষ্টিত কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত সাড়ে ৯০০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ফসলি জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২১ হাজার পরিবার।

এদিকে যমুনা নদীর পানির প্রবল স্রোতে কাজীপুরে উপজেলা পরিষদের নির্মিত রিং বাঁধের অন্তত ৬০ মিটার এলাকা ধসে নতুন নতুন এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে মানুষ, গবাদি পশু আর আসবাপত্র নিয়ে বঁাধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন। বঁাধের উপর ঝুপড়ি ঘর তুলে কোন মতে রাত যাপন করছেন তারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কাজীপুর আসনের সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, যমুনার পানি বাড়ার কারণে চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এ পর্যন্ত ৫টি উপজেলার ৯৩৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের ২১ হাজার ৫৫২ পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার্তদের বিতরণের জন্য ৪৯৪ টন চাল ও ৮ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হলে এগুলো বিতরণ করা হবে।

কাজীপুর আসনের সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয় বলেন বঁাধ ভাঙ্গার কারনে অতংকিত হবার কিছু নাই। আমরা সব সময় নজর রাখছি যাতে বঁাধ ভেঙ্গে না যায়। আমাদের পর্যপ্ত পরিমান ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, রাতে হঠাৎ করেই বাঁধটিতে ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের পাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বঁাধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নয়। এটি কাজীপুর উপজেলা পরিষদের উদ্যেগে করা হয়েছিলো। এই মুহুর্তে সেটি মেরামত করা সম্ভব না। আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রন বঁাধ এখন পর্যন্ত ঠিক রয়েছে। কোন সমস্যা নেই।

কাজীপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, উপজেলা পরিষদ বিভিন্ন সময় জিআর, টিআর এর অর্থ দিয়ে বঁাধটি নির্মান করে। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে বঁাধ ধসে পড়ে। বঁাধের বিভিন্ন স্থানে ইদুরের গর্ত রয়েছে। সেখান দিয়ে পানি যাতে বের না হয় সে চেষ্টা করা হচ্ছে। পানির স্রোতের কারনে এই মুহুর্তে বঁাধটি মেরামত করা সম্ভব না। পানি কমে গেলে মেরামত করা হবে। বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Top