You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে, ৩৮৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে, ৩৮৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত

খন্দকার মোহাম্মাদ আলী, সিরাজগঞ্জ :

বন্যার পানিতে সিরাজগঞ্জের ৫টি উপজেলায় ৩৯টি ইউনিয়নের ৩৮৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব গ্রামের ১ হাজার ১শত ২৪ পরিবার সম্পূর্ণ্য এবং ৭৮ হাজার ৬ শত ৯৮ পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার আশ্রয় নিয়েছে ১৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র সহ বঁাধ ও উচঁু স্থানে। বঁাধে আশ্রয় নেয়া মানুষেরা পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বঁাধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘন্টায় ২৩ সেন্টিমিটার কমলেও এখনও বীপদ সীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার কাজিপুর উপজেলার নতুন মেঘাই-ঢেকুরিয়া হাট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২০-২২টি গ্রামের মানুষের মধ্য চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফাটল এলাকায় ধ্বস ঠেকাতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ সদস্যদের সাথে গ্রামবাসী মিলিতভাবে বালির বস্তা নিক্ষেপ করে।

এদিকে গত তিনদিনে তাড়াশ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার সগুনা, নওগঁা, মাগুড়া বিনোদ ও তাড়াশ সদর ইউনিয়নের ২শ হেক্টর বোনা আমন ধান তলিয়ে গেছে।

অপর দিকে জেলায় যখন বন্যা কবলিত মানুষ গুলো দুর্ভোগে রয়েছে এ সময়ের মধ্যে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্ট কালের পরিবহন ধর্মঘট ও পৌর কর্মচারীদের কর্মবিরতি জেলাবাসীর মধ্যে দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার বন্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যার পানিতে সিরাজগঞ্জের ৫টি উপজেলায় ৩৯টি ইউনিয়নের ৩৮৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব গ্রামের ১ হাজার ১শত ২৪ পরিবার সম্পূর্ণ্য এবং ৭৮ হাজার ৬ শত ৯৮ পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫টি উপজেলার ২ কিলোমিটার বঁাধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

১৮৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২৩ হাজার ১শত ২০ জন আশ্রয় নিয়েছে। ২ হাজার ৪ শত ৫টি টিউবওয়েল, ১টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ৫৬ টি মেডিকেল টিম, ২টি পৌরসভা ও ৫ হাজার ৩ শত ৮ জন লোক সম্পূর্ণ্য এবং ৩ লাখ ১১ হাজার ৬শত ৭৭ জন লোক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬ হাজার ৫ শত ৫টি বাড়ি ঘর সম্পূর্ণ্য এবং ৪৩ হাজার ৮শত ১৩ বাড়ি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩ হাজার ৪শত হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ্য এবং ১২ হাজার ৫শত ৪৯ হেক্টর ফসলি জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এপর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাজীপুরে ৩ হাজার ৮শত ২৪টি হাঁস মুরগীক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ্য এবং ১৯১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চৌহালীতে ৫টি ও কাজীপুরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ্য নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ৫১.৫২ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ্য এবং ১৬৮.১৪ কিলোমিটার রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ২৯ ব্রীজ ও কালভার্ড এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা শাখা সুত্রে জানা যায়, বন্যা মোকাবেলায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা দুর্যোগ কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রন কক্ষ খোলা হয়েছে।

নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মঝে কাজীপুরে ১৫শ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১শ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১লাখ টাকা, সদর উপজেলায় ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৭৫ মেট্রেক টন চাল, নগদ ১ লাখ টাকা, শাহজাদপুরে ৪শত প্যাকেট শুকনো খাবার, ৮৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১লাখ টাকা, বেলকুচিতে ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ টাকা, চৌহালীতে ৮ শত প্যাকেট শুকনো খাবার, ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৪৬.৭০০ মেট্রিক টন জিআর চাল, জিআর ক্যাশ ৩ লাখ টাকা ও ৫শত পিচ নতুন তাবু মজুদ আছে। বন্যা মোকাবেলার জন্য আরো ৩শত মেট্রিক টন জিআর চাল, ৫ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ ও ৪ হাজার প্যাকেল শুকনা খাবারের বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Top