You are here
Home > প্রচ্ছদ > সরকার জবরদস্তি ও বেআইনিভাবে ক্ষমতায় থাকছেঃ রিজভী

সরকার জবরদস্তি ও বেআইনিভাবে ক্ষমতায় থাকছেঃ রিজভী

স্টাফ রিপোর্টারঃ বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারীর মসনদ এখন উল্টে পড়ার অপেক্ষায়। এই রায়ে প্রমাণিত হয়েছে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের রাষ্ট্রমতায় থাকাটা জবরদস্তিমূলক ও বেআইনি। দেশে এখন অবশ্য আওয়ামী আইন চলছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিরোধীদলের প্রতি ক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী যেন সবসময় ক্রোধের আগুনে দগ্ধ হচ্ছেন। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন।

তিনি বলেন, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের বাধা উপেক্ষা করে দেশজুড়ে পুরোদমে চলছে বিএনপির দুই মাসব্যাপী প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান। দলের এই কর্মসূচি ইতোমধ্যে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফরম পূরণ করে দলের সদস্য হতে তরুণ-তরুণী, কৃষক-শ্রমিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। নারীদের মধ্যে আগ্রহ বেশি। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ৪২ লাখের অধিক সদস্য সংগ্রহ ফরম বিক্রি হয়েছে যা, টার্গেটের প্রায় অর্ধেক। প্রতিদিনই নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন সদস্য হতে আগ্রহীরা হাজির হচ্ছেন। দলের জেলা ও মহানগরীর নেতারা আসছেন ফরম কিনতে। এ দিকে কোনো কোনো জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য সংগ্রহের ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে বাধা দিচ্ছে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা। কিন্তু কোনো বাধাই আটকাতে পারছে না বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, মো: মুনির হোসেন, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন দলের তুফানদের নারকীয় উল্লাসে দেশ আজ ক্ষতবিক্ষত। এই তুফানরাই সারাদেশে মানুষের ঘরবাড়ি, জায়গা-জমি দখলের পাশাপাশি নারীদের সম্ভ্রম নিয়ে পৈশাচিক আনন্দে মেতেছে। নারী ও শিশুরা এদের প্রধান টার্গেট। আদিম উল্লাসে এরা নারী-শিশু নির্যাতন করে এক বিকৃত সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ জন নারী ও শিশুর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সোনার ছেলেদের বিভৎস উৎপীড়ন থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নববধূ এবং শিশুরাও।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে যে নির্দেশনা এসেছে, তাতে এই তুফানদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে ক্ষমতাসীনরা ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত, কিন্তু অবরুদ্ধ গণতন্ত্রে পীড়িত মানুষ ঘনতমসাবৃত এই দুঃসময়ে আলোর ক্ষীণ রেখা দেখতে পাচ্ছেন। এই রায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নির্বাচন, আইনের শাসন বাস্তবায়নসহ নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে- বর্তমান সংসদ অকার্যকর, অবাধ দুর্নীতি, মানবাধিকার হুমকির মুখে আর প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আজ গুটিকয়েক লোকের একচেটিয়া ব্যবহারের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা জোরাল করার এই আত্মঘাতী প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া বিশ্বাসযোগ্য সংসদ প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।
রিজভী বলেন, মূলত সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রকাশের পর বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাটা জবরদস্তিমূলক ও বেআইনি। দেশে অবশ্য এখন আওয়ামী আইন চলছে। বিরোধী মত এবং সরকার সমালোচকদের ওপর রাজদণ্ড নেমে আসছে। বর্তমান সরকার দেশে সত্যিকারার্থে যে উন্নয়ন করেছে তা হলো অশান্তি, হিংসা আর হানাহানির।

খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়েনি, স্থিতিশীল রয়েছে যা, সম্পূর্ণরূপে অসত্য। আওয়ামী নেতা ও মন্ত্রীরা যে ডাহা মিথ্যাচার করেন, এটি তার আরো একটি উদাহরণ। বাজারে প্রায় সকল পণ্যের দাম এখন দ্বিগুণ-তিনগুণ। ৭০-৮০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। তেল, চিনি, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ।
মন্ত্রীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে চাল আমদানির কথা বলছেন, অথচ আমদানির পরও চালের বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী মিথ্যা কথা বলে জনগণকে দুঃসহ জীবনযাপনে বাধ্য করছেন। আওয়ামী লীগ দম্ভে ও গর্বে আত্মস্ফীত। তাই তারা মিথ্যা বলতে কুণ্ঠিত হন না।
বিএনপি নেতাদের হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার জয়পুরহাট জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও পাঁচবিবি থানা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল গফুরকে জেলগেট থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে জনসম্মুখে হাজির করার জোর দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া ফেনী জেলার সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্মআহ্বায়ক এ জি ওসমানী মাহফুজ, লেমুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ চৌধুরী, লেমুয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ও ছনুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। সেই সাথে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা বিএনপি অফিস হামলা চালিয়ে বন্ধ করে দেয়ায় ধিক্কার জানান রিজভী।

Leave a Reply

Top