সমীকরণ পাল্টে দিলেন সাব্বির-মুশফিক – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > খেলাধুলা > সমীকরণ পাল্টে দিলেন সাব্বির-মুশফিক

সমীকরণ পাল্টে দিলেন সাব্বির-মুশফিক

ক্রিয়া প্রতিবেদকঃ সাব্বির রহমান ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে রাখতে সক্ষম হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সাব্বিরে ৬৬ ও মুশফিকুরের অপরাজিত ৬২ রানের সুবাদে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটে ২৫৩ রান করেছে টাইগাররা।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচেও টস জিতে এবার প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নিতে কার্পণ্য করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তার সিদ্বান্তে ব্যাট হাতে নেমে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। প্রথম ৯ ওভারে মাত্র ১৩ রান যোগ করেন তারা। তবে দশম ওভারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তামিম ও সৌম্য। অস্ট্রেলিয়ার অফ-স্পিনার নাথান লিঁও’র বলে লেগ বিফোর ফাঁদে পড়েন তামিম। ৩৪ বল মোকাবেলা করে ৯ রান করেন তামিম।

তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে এবারও ব্যর্থ ইমরুল কায়েস। ১১ বলে ৪ রান করে লিঁও’র ডেলিভারিতে লেগ বিফোর হন ইমরুল। ২১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন সৌম্য ও মোমিনুল। অনেকটা সর্তক অবস্থাতেই শুরু করেন তারা। তবে খুব বেশিক্ষণ নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি সৌম্য।

লিঁও’র উপর কিছুটা চড়াও হন সৌম্য। ইনিংসের ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর পর শেষ ডেলিভারিতে উইকেট ছেড়ে লং-অন দিয়ে ছক্কা হাঁকান সৌম্য। এতে সাহস ফিরে পান সৌম্য ও মোমিনুল। তাই রান তোলার কাজটা বুঝে-শোনেই করছিলেন সৌম্য ও মোমিনুল। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির আগ মুহূর্তে লিঁওর ডেলিভারিতে লেগ বিফোর ফাঁদে পড়েন সৌম্য। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮১ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ রান করেন সৌম্য। তার বিদায়ে ৩ উইকেটে ৭০ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। সৌমের সাথে তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রান যোগ করেন মোমিনুল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রান।

বিরতি থেকে ফেরার পর উইকেট পতনের তালিকায় নাম তোলেন মোমিনুলও। লিঁও’র চতুর্থ শিকার হবার আগে ২টি চারে ৬৭ বলে ৩১ রান করেন মোমিনুল। লেগ-বিফোর ফাঁদে তামিম-সৌম্য-ইমরুল-মোমিনুলকে শিকার করেন লিঁও। ফলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একই বোলারের কাছে উপরের সারির প্রথম চার ব্যাটসম্যানের এলবিডব্লু হয়ে আউট হওয়া নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা।

৮৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে থাকা বাংলাদেশকে চিন্তামুক্ত করার দায়িত্ব পান ঢাকা টেস্টের নায়ক সাকিব আল হাসান। তার সঙ্গী ছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৩টি বাউন্ডারিতে ভালো কিছু করার ইঙ্গিতও দেন সাকিব। কিন্তু সাকিবের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ান অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি স্পিনার অ্যাস্টন আগার। সাকিবকে ২৪ রানের বেশি করতে দেননি আগার।

১১৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর চা-বিরতি আগ পর্যন্ত সর্তকতার সাথেই খেলতে থাকেন মুশফিকুর ও সাব্বির রহমান। এমন অবস্থায় ৫ উইকেটে ১৫৫ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। এসময় অধিনায়ক মুশিফক ২৯ ও সাব্বির রহমান ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। চা-পানের ছোট্ট বিরতি শেষেও নিজেদের মতো করে খেলেছেন মুশফিক ও সাব্বির। অস্ট্রেলিয়া বোলারদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলে দলের স্কোর ২শ’ রানে নিয়ে যান এ জুটি। এরপর টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন সাব্বির। হাফ-সেঞ্চুরির পরও দমে যাননি সাব্বির। নিজের ইনিংসটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু নিজ ভুলেই ব্যক্তিগত ৬৬ রানে স্টাম্পিং হয়ে থেমে যান সাব্বির। লিঁওর পঞ্চম শিকার হবার আগে ১১৩ বলের ইনিংসে ৬টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান সাব্বির। মুশফিকের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ১০৫ রান যোগ করেন সাব্বির। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ষষ্ঠ উইকেটে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান।

৮২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সাব্বির আউট হবার দিনের বাকী সময়টুকু আর কোন বিপদ হতে দেননি মুশফিক ও নাসির হোসেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৮তম ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে দিন শেষে ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন মুশি। তার ১৪৯ বলের ইনিংসে ৫টি চারের মার ছিলো। ৩টি বাউন্ডারিতে ৩৩ বল মোকাবেলা করে ১৯ রানে অপরাজিত নাসির। অস্ট্রেলিয়ার লিঁও ৭৭ রানে ৫ উইকেট নেন। ৬৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ১১তমবারের মত ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মত ৫ বা ততোধিক উইকেট নিলেন লিঁও। এছাড়া আগার ৪৬ রানে ১ উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড :
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস :
তামিম ইকবাল এলবিডব্লিও ব লিঁও ৯
সৌম্য সরকার এলবিডব্লিও ব লিঁও ৩৩
ইমরুল কায়েস এলবিডব্লিও ব লিঁও ৪
মোমিনুল হক এলবিডব্লিও ব লিঁও ৩১
সাকিব আল হাসান ক ওয়েড ব আগার ২৪
মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ৬২
সাব্বির রহমান স্টাম্পিং ওয়েড ব লিঁও ৬৬
নাসির হোসেন অপরাজিত ১৯
অতিরিক্ত (বা-৫) ৫
মোট (৬ উইকেট, ৯০ ওভার) ২৫৩

উইকেট পতন : ১/১৩ (তামিম), ২/২১ (ইমরুল), ৩/৭০ (সৌম্য), ৪/৮৫ (মোমিনুল), ৫/১১৭ (সাকিব), ৬/২২২ (সাব্বির)।

অস্ট্রেলিয়া বোলিং :
প্যাট কামিন্স : ১৭-৪-৩৩-০,
নাথান লিঁও : ২৮-৬-৭৭-৫,
স্টিভ ও’কেফি : ২০-০-৭০-০,
অ্যাস্টন আগার : ১৭-৬-৪৬-১,
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল : ৩-০-৬-০,
হিল্টন কার্টরাইট : ৫-১-১৬-০।

Leave a Reply

Top