You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর >  সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাই কাল হলো তার

 সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাই কাল হলো তার

পগর মাহমুদ সাগর ঃ

শৈশব এবং কৈশোরে টংগীর স্বনামধন্য সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে বাবার স্বপ্ন অনুযায়ী ঐ কলেজ থেকে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান করে নেয়। বিদ্যালয়ে পড়াকালীন প্রতিটি ক্লাসেই তার ব্যক্তিত্ব, মেধা ও নিয়মানুবর্তিতার জন্য ক্লাস ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। উচ্চমাধ্যমিকে কলেজের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত প্রিয়জন ছিলেন এই নূর-মোহাম্মদ শরীফ। কলেজের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকায় শহীদ আহসানউল্লাহ স্যারের আদর্শকে ধারণ করে নিয়মিত দলীয় সভা-সমাবেশে সদলবলে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। ২০০১ এর সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় বিএনপি-জামাতের চোখের কাটা হয়ে পড়েন মাত্র ১৫ বছর বয়সেই। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিরোধীপক্ষ তার বাড়িঘরে হামলা করে এবং অস্ত্র প্রদর্শন সহ প্রাণনাশের ভীতি প্রদর্শন করে। কিন্তু বরাবরই অন্যায় ও হুমকিকে অবজ্ঞা করে তিনি তার আদর্শকে সমুন্নত রাখতে কাজ করে গেছেন। 

২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানে ছাত্রদের অধিকার আদায়ে কাজ করে গেছেন। সরকার বিরোধী ছাত্রসংগঠন লিয়াকত-বাবু ভাইয়ের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিরুধী শিবিরে থেকে সরকারি দলের ভি সি ও নেতাদের কাছ থেকে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় গাজীপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদ, ক্ষণিকা বাস কমিটি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অফ টংগী সহ বিভিন্ন সংগঠনের মূল নেতৃত্বে থেকে কাজ করে গেছেন।

এরপর দলের বড় কোনো পদ-পদবীতে না থেকেও কাজ করে চলেছেন তৃণমূলের অবহেলিত মানুষদের নিয়ে। ১/১১ তে রাজনীতি যখন গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত, দূর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা যখন দিশেহারা তখন মানুষকে সন্ত্রাস, মাদক ও অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে গড়ে তুলেছেন দিগন্ত যুব ও সমাজকল্যাণ সংসদ নামে একটি উন্নয়নমূলক সংগঠন।

ছাত্র ও যুব রাজনীতির ধারা, সুবিধাবাদীদের অবস্থান, নিজের পাওয়া না পাওয়ার নানা বিষয় নিয়ে তার একান্ত সাক্ষাতকার।

# জনপ্রিয় একজন ছাত্রনেতা, একজন সফল ছাত্রসংগঠক কিন্তু রাজনীতিতে বড় কোন পদে আসেননি অনেক বছর, এটা কেন?

★★ যখন আমার প্রয়োজন ছিল, ছাত্র সমাজের জন্য কাজ করেছি তখন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলাম। সাধারণ ছাত্রদের অধিকার রক্ষা, সরকারি দলের ছাত্রদের ক্ষমতার দাপটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস অনেকেরই ছিলোনা। দল ক্ষমতায় আসার পর আমার দলের কাছে চাওয়া পাওয়ার কিছু ছিলোনা। চাকরি বা রাজনৈতিক ব্যবসা লাভের প্রত্যাশা না থাকায় নিজের ক্যারিয়ার নিজে গড়ার চেষ্টা করেছি। নিজেকে মেধা ও শ্রম দিয়ে কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য সময় নিয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে, শহীদ আহসান উল্লাহ স্যারের চেতনায় বিশ্বাস করে রাজনীতি করেছি কিছু পাওয়ার জন্যে নয়।

# কিন্তু মেধাবী ছাত্রনেতারা যদি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হন, তাহলে তো পরবর্তীতে মেধাবীরা ছাত্র রাজনীতিতে উৎসাহ হারাবেন।

★★ নিষ্ক্রিয় কথাটার সঙ্গে আমি একমত নই। একেক জনের কাজের জায়গা বা কাজের ধাঁচ একেক রকম। আমি হয়তো পদের রাজনীতি করিনি। ফলে মিডিয়ার ক্যামেরা আমাকে দেখছে না। কিন্তু গাজীপুর তথা টংগীর জনগণ, আমার নিজের এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ আমাকে সব সময় পায়। তাদের সান্নিধ্য আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি একাধিক উন্নয়নমূলক সংগঠন নিয়ে কাজ করি। এতেও রাষ্ট্রের উন্নয়ন হয়। জনগণের উন্নয়ন হয়। আমি মানুষের সঙ্গে আছি। এটাই আমার তৃপ্তি।

# দলীয় পদ পদবীতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ পাওয়া যায়। আপনি কী মনে করেন?

★★ না, আমি একমত না। যে কর্মে থাকে, বর্তমানে থাকে, নেতাকে অনুসরন করে তাকে কখনোই অবমূল্যায়ন করা সম্ভব না। যে নিজেকে `বঞ্চিত` মনে করে সে বঞ্চিত হয়েই আছে। আমি বলব, নেতাকে অনুসরণ করুন। মূল্যায়ন আসবেই। একটা না একটা পর্যায়ে পদ পেয়ে যাবেন। আপনি মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন। এটার চাইতে বড় মূল্যায়ন আর কী আছে?

# দল ক্ষমতায়। চারদিকে সুবিধাভোগীদের দৌরাত্ম। আপনার মতো নেতৃত্বকে ষড়যন্ত্রের স্বীকার হতে হচ্ছে। এর মাঝে কোন হতাশা বা কষ্ট অনুভূত হয় কী?

★★ না, বরং কৌতুহল জাগে। মহাসমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে যখন কোন নোংরা পানি ঢুকে যায়, তখন ওটা আর নোংরা থাকে না। পরিষ্কার হয়ে যায়। আজকে যাদেরকে হাইব্রীড হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে তাদেরকেও স্বাগতম জানানো দরকার। আপনি আমার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। আমি প্রগতিশীল ও স্রোতের প্রতিকুলে আছি বলেই তো আপনি আমার সাক্ষাৎকার নিতে উৎসাহী হলেন। আমার মতো সারা বাংলায় অসংখ্য নূর-মোহাম্মদ শরীফ আছেন। কই, আপনি তো তাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন না। কারাবরন করেছি ঠিক আছে কিন্তু আমি সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত ও দলীয় কোন্দল বাদ দিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখি। সেখানে যাদের দ্বিমত আছে তারা আমার উপর অসন্তুষ্ট থাকতেই পারে কিন্তু আমি নই। ঘুনে ধরা একটা পাত্র পরিস্কার করতে একজন মানুষের কতটা পরিশ্রম করতে হয় আর আস্ত একটা সমাজ পরিবর্তন করতে আমাকে জেল খাটতে হবে না, আঘাত পেতে হবেনা তা কি করে হয়। মানুষের কাজ কখনো বৃথা যায় না। নীতি-আদর্শ না থাকলে তাকে নেতা বলা যায় না। তাই সুবিধাভোগীদের মাঝে নীতি ধরে রাখা, নির্লোভী হওয়া এবং জনতার জন্য কাজ করাটাই নেতার পরিচয়। আমি এ কাজে সফল হবোই, ইনশাআল্লাহ।

# যুবলীগ তার গৌরবান্বিত ঐতিহ্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। ফ্যাক্টরি দখল, ডিশ দখলসহ নানা ধরনের দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ এখন যুবলীগের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়। উত্তরণের উপায় কী?

★★ যুবলীগ যে করে তার অবশ্যই একটা চেতনা আছে। আমাদের সেই চেতনার বাতিঘর শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শ অনুসরণ করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। যে শেখ হাসিনাকে নেতা মানবে তার পক্ষে কোন অন্যায় সম্ভব না। যদি সে অন্যায় করে তাহলে বুঝতে হবে আনুগত্যে গলদ আছে।

# আপনি কি মনে করেন আপনার যোগ্যতা মেধা ও সততার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি?

★★ মোটেও না। আমি মনেকরি, গাজীপুরের মাটি ও মানুষের প্রিয়নেতা আলহাজ্ব মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল এম পি, যুবলীগের আহবায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল ও যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম আমাকে ভালোবাসা, শ্রম ও মেধার সর্বোচ্চ উপহার প্রদান করেছেন। আমার ব্যাপারে সকলেই অত্যন্ত পজিটিভ এবং তার ফলেই আজকে আমার এই অবস্থান। আমি সকলের কাছেই কৃতজ্ঞ।

Leave a Reply

Top