You are here
Home > দূরনীতি ও অপরাধ > শিক্ষক ও ছাত্রীদের ক্লাস বর্জন, অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ

শিক্ষক ও ছাত্রীদের ক্লাস বর্জন, অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ

সৈয়দ ওবায়দুল হোসেন, বাগেরহাট :

বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এস. এম. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম ও দূনর্ীতির অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষক ও ছাত্রীরা। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে ক্লাস বর্জন কওে শিক্ষক ও ছাত্রীরা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে। বুধবার সকাল থেকে কলেজ চত্বরে অবস্থান নিয়ে ছাত্রীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে। শিক্ষক ও ছাত্রীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ কলেজের উন্নয়ন না করে কলেজ ফান্ডের টাকা নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে। গাড়ির খরচ গ্রহনের পরও ছাত্রী পরিবহনে গাড়ী ব্যবহার না করে গাড়ী আটকে রাখা, হোষ্টেলে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, কলেজের ভিতরের বিভিন্ন গাছের ফল ভক্ষনসহ নানা বিধ অভিযোগ করে। এই অভিযোগে শিক্ষকরা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন দাখিল করেছে।

এদিকে অধ্যক্ষের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বুধবার সকালে অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে কারন দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। এই খবর কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার দুপুরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একসাথে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে। এ সময়ে তারা অধ্যক্ষের অপসারনের দাবীতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।

আন্দোলনরত ছাত্রীদের অভিযোগ কলেজে বিভিন্ন সময় উন্নয়নের টাকা বরাদ্দ আসলেও অধ্যক্ষ কোনো উন্নয়ন কাজে তা ব্যয় না করে আত্মসাত করেন। কলেজ ক্যাম্পাসের পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া এবং কলেজের গাছ কেটে নিজের বাসার কাজে লাগানোসহ আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ সময়ে আন্দোলনরতরাই দ্রুতই শিক্ষামন্ত্রীর নিকট কলেজ অধ্যক্ষের অপসারন দাবী করেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে উপাধক্ষ্য ঝর্না হালদার, বিপ্রদাস সরকার, মো. আল আমিন হোসেন, এবিএম হাসানুজ্জামান, কাজল কুমার গুহসহ ২৪ জন শিক্ষক ও কর্মচারী শিক্ষা মন্ত্রী ও মহা পরিচালক বরাবর অধ্যক্ষের অপসারণ দাবী করে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

এদিকে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এস. এম. রফিকুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদী ষড়যন্ত্রের ফসল এই আন্দোলন। একটি পক্ষ উষ্কানি দিয়ে ছাত্রীদের সাথে নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে। আসলে তার কঠোরতার কারণে কলেজের অনেকে কোন অনিয়ম করতে পারে না। আর এ কারণে আন্দোলনের নামে কলেজের শিক্ষকদের একটি অংশ অনৈতিক দাবী করছে। অধ্যক্ষ তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল ধরনের অনিয়ম ও দূনর্ীতির অভিযোগ আস্বীকার করেছেন। একই সাথে তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Top