লাদেন হত্যার বিবরণ দিলেন তার সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী আমল – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > আন্তর্জাতিক > লাদেন হত্যার বিবরণ দিলেন তার সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী আমল

লাদেন হত্যার বিবরণ দিলেন তার সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী আমল

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে আল-কায়দার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের গোপন আস্তানায় তাকে হত্যার জন্য যেদিন মার্কিন নেভি সিল অভিযান চালিয়েছিল, সে রাতে লাদেনের পাশেই ছিলেন তার চতুর্থ স্ত্রী আমল। তাদের সঙ্গে ছিলেন তার এক ছেলে হুসেন। গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তারা এই দু’জন। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন আমল।

আসলে ব্রিটিশ সাংবাদিক ক্যাথি স্কট-ক্লার্ক এবং আদ্রিয়ান লেভি একটি বই লিখেছেন। ‘দ্য এক্সাইল’ নামে সেই বইয়ের জন্যই তারা কথা বলেছিলেন আমলের সঙ্গে। আর সে কথা প্রসঙ্গেই বেরিয়ে এসেছে অনেক অজানা তথ্য। খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে ‘দ্য এক্সাইল’। সম্প্রতি ওই বই নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য সানডে টাইমস’-এ কলম ধরেছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। সেখানে লাদেন হত্যা এবং নেভি সিলের গোপন অভিযানের কথাও উঠে আসে।

তাঁরা লিখেছেন, অ্যাবটাবাদে তিন স্ত্রী এবং ১৭ জন ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকতেন ওসামা। প্রায় ছ’বছর ধরে সেখানে আত্মগোপন করেছিলেন। ২০১১ সালের ১ মে মাসেই ডেরাতেই অভিযান চালান মার্কিন নেভি সিলের কম্যান্ডোরা। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র তথ্য অনুযায়ী, ওই রাতে মার্কিন সেনার দু’টি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার নামে অ্যাবটাবাদ কম্পাউন্ডে। ওই বাড়িরই তিন তলায় খোঁজ মেলে লাদেনের। সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়।

আমল ওই দুই সাংবাদিককে জানিয়েছেন, “সেই রাত ছিল বিভীষিকাময়। তিন তলার বাড়িতে লাদেনের চার স্ত্রী-র মধ্যে তিন জন থাকতেন। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে সেখানেই থাকতেন ওসামা। রাত ১১টা নাগাদ রাতের খাওয়া ও প্রার্থনা সেরে সকলেই ঘুমিয়ে পড়েন। আচমকা একটি শব্দে আমলের ঘুম ভাঙে। উঠে বসেন ওসামাও। তার মুখে ছিল আতঙ্কের ছায়া। স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের বাড়ির নীচে গোপন কুঠুরিতে চলে যেতে বলেন। ”

আমল আরও জানান, ওসামা নাকি সেই সময়ে বলেন, ‘ওরা আমাকে চায়, তোমাদের নয়। ’ কিন্তু, রাজি হননি আমল। বাকিরা চলে গেলেও ছেলে হুসেনকে নিয়ে তিনি থেকে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন দুই মেয়েও। পরিবারেরই কোনও বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে মার্কিন বাহিনী ওই গোপন আস্তানার সন্ধান পায়, সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন আমল। এবং এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত।

আমলের কথা অনুযায়ী, দুর্গের তিন তলার উঠে প্রথমেই ওসামার এক ছেলে খালিদের মুখোমুখি হয় নেভি সিলের সদস্যেরা। তার হাতে ছিল একে-৪৭। খালিদকে হত্যা করে তিন তলায় উঠে একের পর এক ঘরে তল্লাশি চালাতে থাকেন তারা। এর পর আচমকাই পর্দা সরিয়ে আমলদের ঘরে ঢুকে পড়েন তারা। কমান্ডোদের বাধা দিতে মুহূর্তের মধ্যেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ওসামার দুই মেয়ে সুমাইয়া ও মিরিয়াম। এগিয়ে যান আমলও। কিন্তু তারা তার পায়ে গুলি করেন।

আমল বলেন, পায়ে গুলি লাগার পরেই আমি পড়ে যাই। বুঝতে পারি ওরা প্রাণে মেরে ফেলবে। তাই মরে পড়ে থাকার ভান করি। সেই সময় নাকি আতঙ্কে কাঁপছিলেন ওসামার বাকি স্ত্রী ও সন্তানেরা। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওসামাকে হত্যা করে তারা। গুলিতে লাদেনের মাথা ফুঁড়ে দিয়েছিলেন মার্কিন নেভি সিলের কম্যান্ডোরা। এরপর তার দেহ ও পরিবারের বাকি জীবিত সদস্যদের নিয়ে বেরিয়ে যান কম্যান্ডোরা। তার আগে দ্বিতীয় স্ত্রী খাইরিয়া ও দুই মেয়েকে দিয়ে ওসামার মৃতদেহ শনাক্তকরণ করিয়েছিলেন তারা।

হোয়াইট হাউসে বসে পুরো অপারেশনটা নাকি লাইভ দেখেছিলেন মার্কিন শীর্ষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কজর্মকর্তারা। এরপর সেই রাতের অভিযান নিয়ে, নানা রকম তথ্য উঠে আসে। আমলের এই বক্তব্য সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। সম্প্রতি লাদেনকে একাই হত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেন মার্কিন নেভি সিল টিমের প্রাক্তন সদস্য রবার্ট ও’নিল। সম্প্রতি প্রকাশিত তার বই-‘দ্য অপারেটর: ফায়ারিং দ্য শটস দ্যাট কিলড বিন লাদেন’-এ সেই রাতের খুঁটিনাটি বিবরণ দিয়ে এমনটাই দাবি করেছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Top