You are here
Home > আন্তর্জাতিক > লন্ডনে অগ্নিকাণ্ডঃ যা জানা গেল

লন্ডনে অগ্নিকাণ্ডঃ যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যরাত। বেশির ভাগ মানুষ ঘুমিয়ে। আচমকা আগুন আগুন বলে চিৎকার। ঘুমন্ত লোকগুলো ধড়ফড় করে জেগে দেখেন জানালায় আগুন জ্বলছে। সবকিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল লন্ডনের ২৪ তলা ভবনটিতে। শুরু হলো ছোটাছুটি। যে যেভাবে পারছেন, সবাই ছুটছেন। অনেকে সন্তানদের ভেজা তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে নিচ নামতে থাকেন। অনেকে সাহায্য চেয়ে চিৎকার করছিলেন। যাঁরা সৌভাগ্যবান, তাঁরা নামতে পেরেছেন, আর যাঁরা পারেননি, তাঁরা পুড়ে মরেছেন। আর কেউ বেঁচে আছেন বলে মনে করছে না ফায়ার সার্ভিস। বেঁচে থাকা অনেকে রাত কাটিয়েছেন প্রিয় বাড়ির কাছাকাছি খোলা আকাশের নিচে। পুড়ে যাওয়া ভবন ভেঙে পড়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক নজরে এই অগ্নিকাণ্ডের কিছু তথ্য…

  • যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের নর্থ কেনসিংটনে ২৪ তলা এক ভবনে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আগুন লাগে।
  • ভবনটির নাম গ্রেনফেল টাওয়ার।
  • অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, আহত অবস্থায় ৬৯ জন হাসপাতালে আছেন, তাঁদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
  • ফায়ার সার্ভিস স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৪ মিনিটে আগুনের খবর পায়। ছয় মিনিটের মধ্যে তারা সেখানে পৌঁছায়।
  • প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রাত দুইটার দিকে পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
  • রাত তিনটার দিকে লন্ডন ফায়ার ব্রিজ টুইট করে জানায়, পুরো ভবনে আগুন জ্বলছে।
  • দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত।
  • আগুন জ্বলেছে ১১ ঘণ্টার বেশি সময়।
  • লন্ডনের মেয়র সাদিক খান জানিয়েছেন ফায়ার ফাইটাররা ১২ তলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন।
  • গ্রেনফেল টাওয়ারে অন্তত ১২০টি ফ্ল্যাট ছিল।
  • ভবনে ৬০০ থেকে ৮০০ লোকের আবাস। এখনো অনেকের হদিস নেই।
  • উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন ২০০ জনের বেশি ফায়ার ফাইটার।
  • প্রায় ১০০ জন চিকিৎসক-কর্মী সেবা দিচ্ছেন।
  • ভবন থেকে বের হওয়ার একটিমাত্র সিঁড়ি ছিল।
  • গ্রেনফেল টাওয়ারটি ১৯৭৪ সালে তৈরি হয়। এটি পশ্চিম লন্ডনের কেনসিংটনের উত্তরে অবস্থিত। এই এলাকায় চাকরিজীবীরা বেশি থাকেন।
  • ভবনটি গত বছর সংস্কার করা হয়। এতে ব্যয় হয় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। এতে নতুন জানালা লাগানো হয় ও হিটিং সিস্টেম রাখা হয়।
  • এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরই সেন্টার ফর ফায়ার সেফটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আংগুস ল জানান, ভবনের সৌন্দর্যবর্ধনে দেয়ালের বাইরে দিকে লাগানো আবরণই আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
  • সংস্কারকারী প্রতিষ্ঠান রাইডন জানায়, সংস্কারের সময় ভবনটিতে অগ্নিনিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
  • গ্রেনফেল টাওয়ার রেসিডেনন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এর সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড কলিনস বলেন, ভবনের বাসিন্দারা বারবার আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা উন্নত করতে বলেছিলেন। কিন্তু ভবন কর্তৃপক্ষ তা কানে তোলেনি।
  • যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সূত্র: এএফপি

Leave a Reply

Top