You are here
Home > আন্তর্জাতিক > রাম রহিমের রায় দেওয়া বিচারকের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ

রাম রহিমের রায় দেওয়া বিচারকের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ

ভারতের স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণাকারী বিচারপতি জগদীপ সিংহের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

নির্দেশ দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, শুক্রবার দুই নারীভক্তকে ধর্ষণের দায়ে গুরমিত সিংহকে দোষী সব্যস্ত করতেই পাঞ্জাব-হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালিয়েছে গুরমিত ভক্তরা। এ রকম পরিস্থিতিতে এই মামলার বিচারপতির বিপদের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে গেছে। তাই সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) যে বিশেষ আদালতের বিচারপতি এ রায় ঘোষণা করবেন, তাঁর (জগদীপ সিংহ) নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হরিয়ানা সরকারকে বিচারপতি জগদীপ সিংহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশিকায় বলা হয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) হাতেই বিচারপতির দায়িত্ব তুলে দিতে হবে। এই মামলার বিচারপতির ক্ষেত্রে কোথাও কোনো খামতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে, শনিবার সকালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে নিজের বাসভবনে জরুরি বৈঠকে বসেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ অন্য আধিকারীরা।

এদিকে, ধর্ষণ মামলায় শুক্রবার ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত সিংহ রাম রহিমকে হরিয়ানা রাজ্যের পাঁচকুলার বিশেষ আদালত দোষী সাব্যস্ত করার পর ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় হরিয়ানা ও পাঞ্জাবজুড়ে এ পর্যন্ত ৩১ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

এ রকম পরিস্থিতিতে শুক্রবার পাঁচকুলার ঘটনার জেরে ৩৪০টিরও বেশি ট্রেনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।

ভারতের উত্তর রেলের সিপিআরও নীরজ শর্মা জানিয়েছেন, পালওয়াল এবং রেওয়ারি শাখা ছাড়াও পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সমস্ত ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এরই মধ্যে ৬০০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ৫টি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

এনসিআর থেকে সব বাস পরিষেবা বন্ধ রেখেছে দিল্লি পরিবহন। উত্তরপ্রদেশের সব স্কুলে ছুটি দেওয়া হয়েছে। পাঁচকুলায় বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার দিনভর সতর্ক থেকে হরিয়ানার শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে আবেদন জানিয়েছেন সমস্ত সরকারি কর্মী, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীকে।

সহিংসতার ঘটনায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত মোট ১৫ জন কট্টর গুরমিত শিষ্যকে আটক করেছে সেনা। এ ছাড়া হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৫৫০ জনকে। কুরুক্ষেত্রে ডেরার দুটি আশ্রম সিল করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে এখনো পর্যন্ত নতুন করে হিংসার খবর পাওয়া না গেলেও থমথমে সিরসা ও পাঁচকুলা। চলছে সেনার ফ্ল্যাগমার্চ। হরিয়ানা রাজ্যের ১১টি জেলায় জারি করা হয়েছে কারফিউ। পাঞ্জাবের তিনটি জেলাতেও বলবৎ রয়েছে কারফিউ। নৈনিতাল, নয়ডা, গাজিয়াবাদ, মেরঠে জারি করা রয়েছে ১৪৪ ধারা।

 

Leave a Reply

Top