রাবা হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গেছে ৪ বছরঃ যা ভাবছে ব্রাদারহুড – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > আন্তর্জাতিক > রাবা হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গেছে ৪ বছরঃ যা ভাবছে ব্রাদারহুড

রাবা হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গেছে ৪ বছরঃ যা ভাবছে ব্রাদারহুড

২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট। এ দিন হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর সাথে ১৭ বছরের তরুণী আসমা বেলতাগিও কায়রোর রাবা স্কোয়ারে ছিলেন। গলা ছেড়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন গণতন্ত্র আর সুশাসন ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে। কিন্তু দূর থেকে ছুটে আসা একটি স্নাইপারের বুলেট থামিয়ে দেয় তার কণ্ঠ। আসমা লুটিয়ে পড়েন রাস্তায়।

মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে অব্যাহত বিক্ষোভ সেদিন কাঁপিয়ে দিয়েছিল সদ্য ক্ষমতা দখল করা সামরিক শাসকদের ভিত। কিন্তু ক্ষমতা হারানোর ভয়ে নির্মমভাবে বিক্ষোভ দমন করে সামরিক বাহিনী। পূর্ব কায়রোর রাবা আল-আদওয়া স্কয়ারে সেদিন সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে নিহত হন দুই হাজার ৬০০ বিক্ষোভকারী, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন মুসলিম ব্রদারহুডের কর্মী-সমর্থক। অবশ্য সরকারি বাহিনীর দাবি সেদিন মাত্র ৬২৩ জন নিহত হন।

এর কয়েক সপ্তাহ আগে সেনাপ্রধান জেঃ আবদুল ফাতাহ সিসির নেতৃত্বে ব্রাদারহুড থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করা হয়। এর প্রতিবাদে মুরসি সমর্থকেরা বিক্ষোভ শুরু করলে ব্যাপক দমনপীড়ন শুরু হয় দেশব্যাপী। হাজার হাজার ব্রাদারহুড কর্মীকে হত্যা, নির্যাতন ও কারাবন্দী করা হয়। অনেক মিসরীয় শান্তিকামী মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। নিহত আসমা বেলতাগির মা সানা আবদুল গাওয়াদ মোহাম্মদ তাদের একজন।

ওই ঘটনার পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। বর্তমানে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বসবাসকারী সানা বলেন, ‘দেশের মর্যাদা ও সমৃদ্ধির জন্য আমার মেয়ে জীবন দিয়েছে, তাই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া আমার জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু সরকার আমাদের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল।’

সানা মোহাম্মদের স্বামী অর্থাৎ আসমা বেলতাগির বাবা মোহাম্মদ বেলতাগি গত তিন বছর ধরে স্বৈরশাসকদের কারাগারে বন্দী আছেন। ব্রাদারহুডের এই নেতাকে অনেক মামলার আসামি করা হয়েছে। আসমার দুই ভাই আনাস ও খালেদও বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন মিসরের কারাগারে। সানা বলেন, ‘তারা আমাদের পরিবারের একজন সদস্যকেও ছাড়েনি। এমনকি ১৩ বছরের বালক হোসামকেও জেলে পাঠিয়েছে। যে কারণে আমি প্রিয় মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।’

রাবা স্কয়ারে সন্তান হারানো আরেক মা ইমান মাহমুদ গোমান। তার ছেলে তরুণ মুসাব আলসামি ছিলেন প্রতিভাবান ফটো সাংবাদিক। ঘটনার পর দেশ ছেড়েছেন ইমান মাহমুদ। বর্তমানে সুদানে বসবাসরত এই মিসরীয় বলেন, ‘আমাদের একটি পরিবর্তিত, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ দেশের স্বপ্ন ছিল। আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগও পেয়েছিলাম।’ সরকারি বাহিনীর নারকীয়তার সেই দিনে ছেলে রাবা স্কয়ার থেকে ফোন করে তাকে জানিয়েছিল বিক্ষোভের কথা। এরপর আরেক ছেলে মোহাম্মদকে নিয়ে তিনিও বেরিয়ে গিয়েছিলেন রাবা স্কয়ারের উদ্দেশে।

বিক্ষোভে যোগ দেয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি মুসাবের মোবাইল ফোন থেকে একটি কল পান। অপরিচিত এক লোক জানায়, তিনি ফোনটি রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছেন। এই মা বুঝতে পারেন তার সন্তান হয়তো আর বেঁচে নেই। ছেলে হারানোর পরও এতটুকু আফসোস নেই এই মিসরীয় মায়ের। কল্যাণের পথে সংগ্রাম করতে গিয়ে সন্তান জীবন দিয়েছে, এ জন্য তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা গর্ব করেন।

‘শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম চলবে’
বহু ত্যাগ তিতিক্ষার পরও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে মিসরের ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড। রাবা হত্যাকাণ্ডের চার বছর পরেও গণতন্ত্রের দাবি থেকে এতটুকু পিছু হটেনি সংগঠনটি। এ উপলক্ষে এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সর্বোচ্চ নেতা মাহমুদ ইজ্জত বলেছেন, সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকারে পরিণত হওয়ার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই হবে সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা। আমরা রাবাকে স্মরণ করব স্বাধীনতা আত্মমর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে।

Leave a Reply

Top