You are here
Home > দূরনীতি ও অপরাধ > রাণীনগরে শালিসি বৈঠকে জোর করে কাবিন করার অভিযোগ ॥ রাতে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু!

রাণীনগরে শালিসি বৈঠকে জোর করে কাবিন করার অভিযোগ ॥ রাতে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু!


একেএম কামালউদ্দিন টগর,নওগাঁ প্রতিনিধি- :

নওগাঁর রাণীনগরে বিয়ের প্রায় ৭ মাস পর শালিসি বৈঠকে জোর করে কাবিন করার পর রাতে মোবারক হোসেন (৫৫) নামের এক বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে । ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার একডালা ইউনিয়নের শিয়ালা গ্রামে। পুলিম লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, একই ইউনিয়নের দিঘির পার গ্রামের মৃত পরেশ উল¬ার ছেলে মোবারক আলী ভুট্রু এলাকার একডালা গ্রামের মৃত তানিজ উদ্দীনের মেয়েকে বিয়ে করে দীর্ঘ দিণ ধরে ঘড়জামাতা থেকে সংসার করে আসছিল । এর মাঝে তাদের সংসারে দু’ ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম নেয়। গত প্রায় এক বছর আগে তাদের সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দন্দ-কলহের কারনে মোবারক আলী শিয়ালা গ্রামে তার বোন জড়িনার বাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে গত সাত মাস আগে ওই গ্রামের মৃত আলেফ উদ্দীনের বিধাব মেয়ে দুলালী (৪৫) বিয়ে করে। বিয়ের প্রায় ৬মাস অতি বাহিত হলে তাদের মধ্যে দন্দ শুর হয় । এতে প্রায় দের মাস আগে স্থানীয় দুলাল হোসেন ও চঞ্চল হোসেন চুনুর সমঝোতায় নগদ ১০ হাজার টাকা ও ৪মন চাল দিয়ে স্ত্রী দুলালীকে ছেড়ে চলে যায় । এই ঘটনার জ্বের ধরে স্ত্রী দুলালী গত বুধবার দিন গত রাতে গ্রামের কতিপয় লোকজন নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে ওই গ্রামের সাবেক মেম্বার আইজুর হক বুলবুল এর নেতৃত্বে মোবারক হোসেনকে বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করার চাপ প্রয়োগ করে। বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন মাতাব্বরের উপস্থিতীতে কাবিন রেজিষ্ট্র সমপন্ন করা হয় । এর পর মোবারক আলী হাসি-খুশি ভাবেই খাবারের জন্য বাজার করে আনলেও রাতে তার রহস্য জনকভাবে মৃত্যু হয় । মোবারকের স্ত্রী দুলালী জানান,রাতের খাবার খেয়ে একসাথে ঘুমিয়ে পরলে রাত অনুমান ১১টা নাগাদ সে ছট-ফট করতে থাকে । এসময় স্থানীয় লোকজনদের ডেকে হাসপাতালে যাবার সময় পথি মধ্যে মারা যায় । তিনি আরো জানান,৭মাস আগে তারা দুজন এলাকার দিঘীরপার গ্রামের এক ফকিরের মাধ্যমে বিয়ে করে নেন। কিন্তু সে সময় কাবিন রেজিষ্ট্রি ছিলনা। তাই গ্রামের লোকজন ডেকে কাবিন করে নিয়েছি । তবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা বলতে পারেন নি।
মোবারকের বোন আলতাফুন নেছা জানান,আমার ভাই দির্ঘ দিন ধরে আমার বাড়ীতে আছে কিন্তু আমাদেরকে না জানিয়ে আমার বাড়ী থেকে বুলবুল মেম্বারের লোকজন শালিস করার কথা বলে জ্বোর করে ডেকে নিয়ে এসেছিল । ছেলে আব্দুল খালেক জানান,শালিসের নামে বুলবুল মেম্বার ও তার লোকজন জ্বোর করে আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে কাবিন রেজষ্ট্রি করিয়েছে এবং সু কৌশলে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে ।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক মেম্বার বুলবুল হোসেন তার বিরদ্ধে আনিত অভিযোগ বানোয়াট দাবি করে জানান,শান্তি শৃংখলার জন্য আমরা একটা মিমাংসা করে দিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে মাত্র ৯হাজার ৯শত ৯৯ টাকা দেনমোহর ধার্য করে কাবিন রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে । তবে কিভাবে তার মৃত্য হয়েছে তা বলতে পারছিনা ।
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস,আই তরিকুল ইসলাম জানান, যদিও এজাহারে বিষ খাইয়ে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে কিন্তু বিষের তেমন কোন আলামত প্রাথমিক ভাবে মেলেনি । তিনি জানান লাশের ডান কান ও মলদার দিয়ে রক্ত ঝড়ছে । তবে কিভাবে বা কি কারনে তার মৃত্যু হয়েছে ময়না তদন্ত রিপোট পেলেই তা পরিষ্কার জানা যাবে। এঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Top