You are here
Home > জাতীয় > রাজশাহী মেয়র এর মতবিনিময় সভায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি !!!!

রাজশাহী মেয়র এর মতবিনিময় সভায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি !!!!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীতে নগর ভবনে কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা চলাকালে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতির ঘটনায় দুই নারী কাউন্সিলরসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন কাউন্সিলর নূরুন্নাহার, মুসলিমা বেগম, মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) শেখ আবুল জাফর ওরফে টুটু, কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, উপদেষ্টা সুমন আহাম্মেদ ও জালাল উদ্দিন। আহত ব্যক্তিরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে নগর ভবনে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা শুরু হয়। সভার উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনের বিষয়টি সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের অবহিত ও সমঝোতা করা। বিকেল পাঁচটার দিকে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল হামিদ সরকার ওরফে টেকনের একটি বক্তব্যের জের ধরে কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাঁরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একে অপরের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী কর্মচারীরা সভা ত্যাগ করে বাইরে চলে যান। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করলে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বক্তব্য দেন।

কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহমেদ লাইভ নিউজ বিডিকে বলেন, কাউন্সিলর আবদুল হামিদ সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন নয়, তাঁরা জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আজমীর আহমেদ বলেন, তাঁরাও কাউন্সিলরকে পাল্টা দুর্নীতিবাজ কাউন্সিলর বলে প্রতিবাদ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল হামিদ বিএনপির ক্যাডার ও কাউন্সিলরদের নিয়ে তাঁদের ওপরে হামলা চালান। এতে তিন কর্মচারী আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন।

আহত অপর তিনজন সম্পর্কে আজমীর আহমেদ বলেন, তাঁরা কেউ আহত হননি। মিথ্যা কথা বলেছেন।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর আবদুল হামিদ সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে অন্য কাউন্সিলররা স্বীকার করে বলেছেন, ‘আবদুল হামিদ সরকার বলেছেন, এরা জঙ্গি কায়দায় আন্দোলন করছে।’ এতেই কর্মচারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, মতবিনিময় সভায় শান্তিপূর্ণভাবে একটা সমাধানে আসার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। এ সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আন্দোলন দেখেই বোঝা যায় যে এটা উদ্দেশ্যমূলক। কারণ, বাজেট পাস হওয়ার পরে তাঁরা আন্দোলন জোরদার করছে।

বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছেন। গত ৯ জুলাই তাঁরা নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি শুরু করে। ১৩ জুলাই সমঝোতার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা নগর ভবনের তালা খুলে দেন।

Leave a Reply

Top