মিয়ানমারের হেলিকপ্টারের বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > জাতীয় > মিয়ানমারের হেলিকপ্টারের বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন

মিয়ানমারের হেলিকপ্টারের বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মিয়ানমারের হেলিকপ্টারের বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় মিয়ানমারের প্রতি বাংলাদেশ কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাসে এ-সংক্রান্ত একটি কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করেছে। ওই পত্রে বলা হয়েছে যে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বাংলাদেশের উখিয়া সীমান্তে শুক্রবার সকালে তিন দফায় আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া গত ২৭ এবং ২৮ আগস্টও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশ মিয়ানমারের উদ্দেশে বলেছে, অনুরূপ ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা সহায়তা পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিতে পারে।

এদিকে বাসস পরিবেশিত খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য সমবেদনা ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়িপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোন করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতির জন্য তুরস্কের জনগণের আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন ও এযাবতকালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় এবং চলমান সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ গৃহীত পদক্ষেপসমূহের প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা জানানো হয়েছে। টেলিফোনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুপ্রতীম সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিরাজমান পরিস্থিতি ও মায়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর চলমান নিপীড়ন ও মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি রাষ্ট্রপতিকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এবিষয়ে তুরস্ক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সম্পর্কে অবহিত করেন। রোহিঙ্গা বিষয়ক সমস্যাটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামের আলোচনায় উপস্থাপনে তুরস্কের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তুরস্কের রাষ্ট্রপতিকে এবং তুরস্কের জনগণকে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে টেলিফোন আলাপ ও বাংলাদেশের প্রতি তাঁর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি অত্যাচার ও দমন-পীড়নের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ৩০ বৎসরেরও বেশী সময় ধরে বাংলাদেশ গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, সীমিত সম্পদ ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি-নীতি অনুযায়ী মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা মুসলিমদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবস্থানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিবেশগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাদের প্রতি খাদ্য, বাসস্থান, ওষুধ, শিক্ষা ও অন্যান্য সকল সুবিধাদি প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

তিনি অবিলম্বে সহিংসতা থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে মায়ানমারের সাধারণ নাগরিকদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কাফি আনান কমিশনের সুপারিশসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ বিষয়ে তিনি ওআইসি, জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তুরস্কের অব্যাহত সহায়তা কামনা করেন এবং তুরস্কের ভবিষ্যত সহায়তার অভিপ্রায়কে স্বাগত জানান।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে তিনি ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং রোহিঙ্গা সমস্যায় তুরস্কের সমর্থন ও তার টেলিফোন কলের জন্য আবারো ধন্যবাদ জানান।

জাতিসঙ্ঘ সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের চেকপোস্টে হামলা পরবর্তী সামরিক প্রতি আক্রমণ শুরু হওয়ার পরে ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রয়টার্সকে জাতিসঙ্ঘের এক কর্মকর্তা জানান, আগস্টের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা উগ্রবাদী জঙ্গি নির্মূলে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ পরিচালনা করছে এবং সেনাবাহিনীকে বলা হয়েছে বেসামরিক জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিম্চিত করতে। কিন্তু বাংলাদেশে পলায়নরত রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার পাঁয়তারা করছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ শুরু হওয়া সংঘর্ষে এক সপ্তাহে ৩৭০ রোহিঙ্গা জঙ্গি, ১৩ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, দুই জন সরকারি কর্মকর্তা ও ১৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে রাখাইন প্রদেশের রাজধানী সিতওয়েতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ২০০ জন নিহত হয়েছে, প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

Leave a Reply

Top