You are here
Home > প্রচ্ছদ > মিরপুরের রাস্তায় নৌকা ; গর্তে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে পথচারীরা

মিরপুরের রাস্তায় নৌকা ; গর্তে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে পথচারীরা

স্টাফ রিপোর্টার : অথৈ পানিতে ডুবেছে রাজধানীর মিরপুরের রোকেয়া সরণিসহ বিভিন্ন এলাকা। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা। সরকারি ছুটির দিন থাকায় অনেকেই বাসা থেকে বের না হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বের হওয়া মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ ছিল না। এক দিকে রাস্তা, অলিগলিতে কোমর পানি, অন্য দিকে প্রয়োজনের চেয়ে যানবাহন ছিল অনেক কম। তার মধ্যে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে অনেক যানবাহনই রাস্তায় বিকল হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছিল রাস্তায় খানাখন্দ ও বড় গর্ত। পানির কারণে সেগুলো দেখতে না পেয়ে অনেকেই হাবুডুবু খেয়েছেন রাস্তার গর্তের মধ্যে। ছোট যানবাহনের চাকা পড়ে উল্টে গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিন মিরপুরের সেনপাড়া, কাজীপাড়া শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, পল্লবীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন সব চিত্র দেখা যায়।

মিরপুর-১০ নম্বর থেকে রোকেয়া সরণি হয়ে আগারগাঁওয়ের দিকে রওনা দিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। সেনপাড়া থেকে শুরু করে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে শুধু অথৈ পানি। রাস্তার দুই পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানগুলোর মধ্যে স্রোত খেলছিল। বিশেষ করে রাস্তা দিয়ে বড় বড় যানবাহন চলাচলের সময় রাস্তার পানি বিশাল ঢেউয়ের আকার ধারণ করে আছড়ে পড়ছিল ওই সব দোকানের বন্ধ থাকা শাটারের ওপর। যার কারণে ওই এলাকার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই ছিল বন্ধ। কিছু কিছু দোকানের শাটার খুলে লোকজনকে বালতি দিয়ে পানি সেচতে দেখা গেছে। তবে রাস্তা দিয়ে বাস চলাচলের সময় ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে আবার পানিতে ভরিয়ে দিচ্ছিল দোকানগুলো। একটু সামনে এগোতেই দেখা যায় ডিঙি নৌকা নিয়ে বের হয়েছেন কয়েকজন। সেখানে কেউ কেউ নৌকায় বসে সেলফি তুলছেন।

জানতে চাইলে আরিফ হোসেন নামে একজন জানান, তারা সেনপাড়ার ভেতরের দিকের বাসায় ভাড়া থাকেন। বাসা থেকে নামতেই কোমর পানি। তাই এলাকার একজন নৌকা বের করেছেন। তিনি জনপ্রতি ২০ টাকার বিনিময়ে গলির ভেতর থেকে লোকজন নিয়ে রোকেয়া সরণিতে নামিয়ে দিচ্ছেন। বেসরকারি এই চাকরিজীবী জানান, অফিসের জরুরি প্রয়োজনে তাকে মতিঝিল যেতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে এমন দুর্যোগের মধ্যে বাসা থেকে বের হয়েছেন।

শাড়ি ভিজিয়ে কোমর পানি দিয়ে হেঁটে যাওয়া জাহানারা জানান, আল হেলাল হসপিটালে তার রোগী ভর্তি রয়েছেন। রোগীর প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র আনতে তাকে বের হতে হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় কোমর পানি। একটি রিকশাও পাননি তিনি। যে কয়েকটি রিকশা চলতে দেখেছেন তাতে যাত্রী ছিল, যার কারণে বাধ্য হয়ে হাঁটতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোনটা রাস্তা আর কোনটা ফুটপাথ তা বঝুতে পারছেন না। ইতোমধ্যে রাস্তার গর্তে পা পড়ে হাবুডুবু খেয়েছেন। তাই শাড়িসহ পুরো শরীরটাই ভিজে গেছে।

আরো একটু সামনে এগোতেই দেখা যায় বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার উল্টো দিক দিয়ে ১০ নম্বরের দিকে ফিরে আসছে। চালকরা জানান, আর সামনে এগোনো যাবে না। কারণ কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়ার দিকে কোমর পানি। বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার সেখানে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এমনকি কয়েকটি মিনিবাসও বিকল হয়ে গেছে। মোটরসাইকেল রাস্তার পাশে রেখে সামনে এগিয়ে দেখা যায় ১৫-২০টি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে আছে। এর মধ্যে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার এমনকি কয়েকটি মিনিবাসও রয়েছে।

মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১ নম্বরের দিকে যেতে রাস্তায় তেমন পানি নেই। সিটি করপোরেশনের মিরপুর জোন অফিসের সামনে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে ২০-২৫টি বাস। যেগুলো রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। সেখানে বাসের চালক ও হেলপাররা বিভিন্ন কথা বলছিলেন। বাসগুলো কেন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে জানতে চাইলে তারা বলেন, পানির কারণে বাসগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোমরের ওপর পর্যন্ত পানি জমে আছে। ওই সব যায়গায় বাস গেলেও ইঞ্জিনে পানি ঢুকে তা বিকল হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের বেশ কয়েকটি বাস কিছু কিছু পয়েন্টে বিকল হয়ে আছে। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তা ছাড়া পানির কারণে রাস্তায় যাত্রীও অনেক কম।

Leave a Reply

Top