You are here
Home > প্রচ্ছদ > মাঠে ময়দানে সক্রিয় আ’লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা

মাঠে ময়দানে সক্রিয় আ’লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাইবান্ধা-৫ আসনে (সাঘাটা-ফুলছড়ি) নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী দুই প্রার্থী ইতোমধ্যে সভা-সমাবেশের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এই দুই প্রার্থী ছাড়াও জাতীয় পার্টি (জাপা) ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করে চলেছেন। গাইবান্ধা-৫ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে নেতাকর্মীরা নিশ্চিত হয়েছেন।

অপর দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনও বসে নেই। তিনিও দলীয় মনোনয়নের আশায় নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তবে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে এলাকায় জল্পনা-কল্পনা চলছে। ফজলে রাব্বী মিয়া এই আসনে জাতীয় পার্টির টিকিটে চারবার এমপি নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারো এমপি নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। ফজলে রাব্বী মিয়া সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন এবং আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত বলে তিনি সভা- সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন।

অপর দিকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহমুদ হাসান রিপন বর্তমানে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমর্থন পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও বিগত দিনে নেতৃত্বশূন্যতা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করায় তারা ঝিমিয়ে পড়েছিলেন। মাহমুদ হাসান রিপন দু’টি উপজেলার ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। ফলে ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে নবউদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মূলধারার নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রায়ই সভা-সমাবেশ করে চলছেন। এ দু’টি উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত প্রাধান্য দিয়ে মাহমুদ হাসান রিপনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি বিজয়ী হবেন এমনটাই আশা নেতাকর্মীদের।

দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী অবিভক্ত বাংলার কৃষিমন্ত্রী মরহুম আহমেদ হোসেন সরকারের (উকিল) নাতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহবুবর রহমান নিটল পিতামহের আদর্শ লালন করে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। মাহবুবর রহমান নিটল এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনিও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় এলাকায় সভা-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন।

এক সময়ে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা-৫ আসনে দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। ফুলছড়ি উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন আহম্মেদ বলেন, এ আসনে বেগম রওশন এরশাদ এমপি থাকাকালে ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার মানুষের প্রাণের দাবি নদী ভাঙন রোধে ব্যাপক কাজ করেছেন। তার সময়ে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। রওশন এরশাদ প্রার্থী হলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ বলে তিনি দাবি করেন। এ দিকে কোনো কারণে তিনি নির্বাচন না করলে তার পরিবর্তে প্রার্থী হবেন সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক এবং সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু। তার যোগ্য নেতৃত্বে এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থা থাকায় তিনি দুই-দুইবার সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় সভা-সমাবেশ করে চলেছেন এবং জাতীয় পার্টির আসনটি পুনরুদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি নির্বাচিত হলে এ দু’টি উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

স্বাধীনতার পরপরই এই আসনে একবার বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রোস্তম আলী মোল্লা। অসুস্থ’তার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় পরে যোগ্য প্রার্থী না থাকায় সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় দলীয় বিশাল ভোটব্যাংক থাকা সত্ত্বেও বরাবরই এখানে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এবার তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ করছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা রাহিদুল ইসলাম রাহী। তিনি বিগত সময়ে নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনায় সহযোগিতাসহ দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাহিদুল ইসলাম রাহী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জয়লাভ করা সম্ভব বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। বিএনপির অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সমাজসেবক নাজেমুল ইসলাম নয়ন। তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ দিকে সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে নেতাকর্মীরা জানান। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনিও জয়লাভ করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গাইবান্ধা-৫ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ একাংশ) প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা: একরাম হোসেন। চিকিৎসাসেবায় তার অবদান থাকায় তিনি এ দু’টি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে সুপরিচিত এবং তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অপর দিকে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কে হবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন মামলা থাকায় এখানে জামায়াতের দলীয় কর্মকাণ্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Top