You are here
Home > জাতীয় > মাকে পেয়েছিলেন বলেই বাবা সফল হয়েছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

মাকে পেয়েছিলেন বলেই বাবা সফল হয়েছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের মতো সাথী পেয়েছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধে সফল হতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, ফজিলাতুন নেছার এতসব অবদান জানতে পেরেই সম্ভবত ঘাতকরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মায়ের বিভিন্ন স্মৃতিচারণা করে শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমৃত্যু তাঁর বাবার পাশে ছিলেন মা ফজিলাতুন্নেসা। শক্ত হাতে ঘর-সংসার তো সামলেছিলেনই, রাজনীতির চড়াই-উতরাইয়ে বঙ্গবন্ধু আর আওয়ামী লীগের নেতাদেরও দিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সব দিকনির্দেশনা। আর এসব স্মৃতিচারণা করতে করতেই বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু জেলে থাকার সময় বাসার ফ্রিজ, সোফা আর নিজের গয়না বিক্রি করেও সংসার চালিয়েছেন তাঁর মা, টেনে নিয়েছেন আওয়ামী লীগকেও।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আসলে আমার আব্বা, মায়ের মতো একজন সাথী পেয়েছিলেন বলেই কিন্তু তিনি তাঁর সংগ্রাম করে সফলতা অর্জন করতে পেরেছিলেন। জীবনের সব আশা আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে, সব ভোগ-বিলাস বিসর্জন দিয়ে আমার বাবার পাশে থেকে থেকে এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন আমার মা।’

এ সময় কাঁদতে শুরু করেন শেখ হাসিনা। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে ছিলেন অনেক আওয়ামী লীগ নেতাও। কিন্তু বাংলাদেশ আর দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে তাতে সায় দেননি শেখ ফজিলাতুন্নেসা। তার সেই সিদ্ধান্তের কথা জেল গেটে জানিয়ে এসেছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই। পরে দেখা যায়, শেখ ফজিলাতুন্নেসাই সঠিক ছিলেন। আবার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাতেও জড়ানোর চেষ্টা করেছিল পাকিস্তানিরা। প্রধানমন্ত্রী আফসোস করে বলেন, পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পারলেও তাকে প্রাণ দিতে হয়েছিল এ দেশেরই ঘাতকদের হাতে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় ঘাতকের দল জানত যে এ দেশের স্বাধীনতার পেছনে আমার মায়ের অবদান আছে। তাই আমার মায়ের ওপরেও তাদের আক্রোশ ছিল। শুধু আমার কষ্ট লাগে যে সারাটা জীবন তিনি কষ্ট করে গেলেন আর তারপরেই একই সাথে ছেলে, ছেলের বৌ এবং স্বামী সবাইকে নিয়েই চলে গেলেন।’

শেখ ফজিলাতুন্নেসার জন্মদিনকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি তোলা হয় অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে।

Leave a Reply

Top