You are here
Home > প্রচ্ছদ > মাংসের দাম হঠাৎ বাড়ল, আরও বাড়ার শঙ্কা

মাংসের দাম হঠাৎ বাড়ল, আরও বাড়ার শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার থেকে গতকাল মঙ্গলবার তিন কেজি গরুর মাংস কিনেছেন রহমত আলী ও শাহনাজ আলী দম্পতি। প্রতি কেজির দাম ৫২০ টাকা রেখেছেন বিক্রেতা। অথচ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনই ২৬ রমজান পর্যন্ত প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে ওই বিক্রেতার জবাব, নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি করলে দোকান বন্ধ রাখতে হবে।

বেশ ক্ষোভের সঙ্গে রহমত আলী বললেন, ‘একই বাজার থেকে দুই সপ্তাহ আগে কিনলাম ৪৯০ টাকায়। আজকে ৫০০ টাকা করে রাখতে বললাম। একদাম ৫২০ টাকায় বিক্রি করছে। উল্টো বলল, এখন কিনে নাকি জিতেছি। দুই-তিন দিন পর দাম নাকি ৬০০ টাকা হবে।’

মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে গত ২৩ মে প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংসের দাম ৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি); গত বছরের রমজান মাসে নির্ধারিত দামের চেয়ে যা ৫৫ টাকা বেশি। এ ছাড়া বিদেশি জাতের (বোল্ডার) প্রতি কেজি গরু ও মহিষের মাংস ৪৪০ টাকা, খাসির মাংস ৭২৫ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৬২০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়। পরে উত্তর সিটি করপোরেশনও (ডিএনসিসি) তাদের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর জন্য একই দর নির্ধারণ করে।

মহাখালীর কাঁচাবাজারে পাশাপাশি তিনটি মাংসের দোকানে গতকাল গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫২০ টাকা দরে। আর খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকা দরে। শুধু মহাখালী নয়, কল্যাণপুর নতুন বাজার, মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজার, হাতিরপুল বাজার, কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটেও নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৪৫ টাকা বেশি দামে মাংস বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মাংস ব্যবসায়ীদের দাবি, ৪৭৫ টাকায় বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হয়, তাই বাড়তি দাম রাখা ছাড়া উপায় নেই। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি দোকানে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য লেখা তালিকা টানানো থাকলেও দাম রাখা হচ্ছে বেশি।

কল্যাণপুর বাজারের হারুন মাংস বিতানে গতকাল গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ৫০০ টাকা। দোকানের মালিক মোঃ হারুন বলেন, ‘রমজান মাসের প্রথম কয়েক দিন ৪৮০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন আর পোষায় না। সিটি করপোরেশন দাম নির্ধারণে মাংস ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখে নাই।’

নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে তৈরি করা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের তালিকা অনুযায়ী, গতকাল রাজধানীতে গরুর মাংসের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫০০-৫২০ টাকা, এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ৪৯০ টাকা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, গাবতলী পশুর হাটের ইজারাদার এখনো অতিরিক্ত খাজনা আদায় করায় দাম বাড়তি। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মাংস ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছে না। মাংস ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ২৬ রমজানের পর মাংসের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা কেউ বলতে পারবে না।

কয়েকজন মাংস ব্যবসায়ী বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দাম ২৬ রমজান পর্যন্ত কার্যকর। এরপর দাম আরও বেড়ে গিয়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। হঠাৎ দু-তিন দিনের ব্যবধানে দাম এত বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ বলতে পারেননি তাঁরা।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার বলেন, নির্ধারিত মূল্যতালিকা না টানানোয় এবং বাড়তি দামে মাংস বিক্রি করায় বেশ কয়েকজন মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন নির্ধারিত মূল্যেই মাংস বিক্রি হয়েছে, এখন বাড়তে পারে। সিটি করপোরেশন ২৬ রমজানের পর মাংসের দাম পুনরায় নির্ধারণ করে দেবে।

Leave a Reply

Top