You are here
Home > সারা বাংলা > মশক নিধনে ব্যাপক প্রস্তুতি গাজীপুর মেয়রের

মশক নিধনে ব্যাপক প্রস্তুতি গাজীপুর মেয়রের

ইমন খানঃ

করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে এডিস মশা। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ানা রোগের প্রধান এই বাহক গত বছর দেশের অনেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিলো। করোনা সংকটের মধ্যে বৃহৎ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এডিস মশা। এই মশা নিয়ন্ত্রণে রেখে নগরবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে বিস্তর কর্মপরিকল্পনা শুরু করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব এ্যাডঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। মশা নিয়ন্ত্রণে তিন স্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে তিনি। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে আঁটঘাট বেধে কাজেও নেমে পড়েছেন তিনি। জানা গেছে, ৩২৯ দশমিক ৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনটিতে ৫৭ জন সাধারণ কাউন্সিলরের পাশাপাশি রয়েছেন ১৯ জন নারী কাউন্সিলর। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সব কয়টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের যুক্ত করে একযোগে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে চান জাহাঙ্গীর আলম। সে লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং মশার ওষুধ সরবরাহ করেছেন। সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি মেয়র নিজস্ব অর্থ দিয়ে বেশ কিছু ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করে গাজীপুর এলাকার জনস্বাস্থ্য ঠিক রাখতে তিন ধাপে মশক নিয়ন্ত্রণ কাজ পরিচালনা করতে চান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। এর মধ্যে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী- এই তিন ধরণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে তৈরি করেছেন তিনি। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, প্রতিদিন দুইবার ওষুধ প্রয়োগ। এর মধ্যে ভোরে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য নিয়মিত লার্ভিসাইডিং প্রয়োগ। কিউলেক্স মশার লার্ভিসাইডিং শুধুমাত্র নর্দমায় করা হতো। কিন্তু এডিস মশা যেহেতু জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে জন্মায়, সেজন্য এই মশার লার্ভা ধ্বংসে পরিষ্কার পানি থাকতে পারেন-এমন স্থানেও লার্ভিসাইডিং করা হচ্ছে। এছাড়া বিকালে উড়ন্ত মশা মারতে অ্যাডাল্টিসাইডিং করা হচ্ছে নিয়মিত। সিটি করপোরেশনের সব কয়টি ওয়ার্ডে একযোগে শুরু হচ্ছে এই কাজ। এর বাইরে মধ্যম মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসরত সব কয়টি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি এবং বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করতে চান মেয়র জাহাঙ্গীর। বাসা-বাড়িতে এবং ছাদ বাগানে জমে থাকা পানি এডিস মশার বড় উৎস। তাই এসব জায়গায় মশক নিয়ন্ত্রণ কাজ করার জন্য সমন্বিত ও অংশগ্রহনমূলক পরিকল্পনা জরুরী। সকল নাগরীকদের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কাজেযুক্ত করে মধ্যমমেয়াদী পরিকল্পনা সাজিয়েন গাজীপুরের মেয়র।

প্রতিটি নাগরিক যেনো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঠিক রাখেন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সেজন্য গণমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে মধ্যম মেয়াদি পরিকল্পনায় সমাজের গণমান্য ব্যক্তিদের যুক্ত করে মশক কাজ পরিচালনার বিষয়টি রেখেছেন গাজীপুরের মেয়র। সার্বিকভাবে সিটি করপোরেশন এলাকার জনস্বাস্থ্য ঠিক রাখতে এবং টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহন করতে চান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। সে লক্ষ্যে মশা নিয়ে গবেষণার জন্য একটি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কীটতত্ত্ববিদের যুক্ত করে মশা নিয়ে গবেষণা এবং প্রয়োজনীর পরামর্শ আগাম পাওয়ার জন্য এ ধরণের ল্যাব অত্যান্ত জরুরী বলে মনে করেন মেয়র। এর বাইরে অন্যান্য উন্নত দেশের মশক ব্যবস্থাপনা গ্রহন, বৈশ্বিক বিভিন্ন কর্মকৌশল নিয়ে অধ্যয়ন এবং মাঠে তা প্রয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেবেন গবেষণা ল্যাবের বিশেষজ্ঞরা। জানা গেছে, সরকারের দেওয়া বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ফগার, স্প্রে মেশিন এবং কীটনাশক কিনেছেন মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু প্রায় ৪০ লাখ মানুষের এই নগরে সরকারের দেওয়া অর্থ জনস্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ গাজীপুর সিটির মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরো জনবল প্রয়োজন সিটি করপোরেশনের। কিন্তু এখন বসে থাকার সময় নয়। তাই নিজের অর্থ দিয়ে কোমড় বেধে কাজে নেমে পড়েছেন মেয়র। বিত্তবান কাউন্সিলররাও নিজের ওয়ার্ড ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে নিজের অর্থ খরচ করে কীটনাশক ও বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জামাদি কিনেছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং পোল্যান্ড থেকে ফগার মেশিন এসেছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। এসব মেশিন এবং কীটনাশক দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরো মেশিন আনা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। এছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরামর্শ নিয়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কাজ চলমান রয়েছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দেশের প্রখ্যাত কীটতত্ত্ববিদের পরামর্শও নিয়মিত নেওয়া হচ্ছে। মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘একদিকে করোনা মহামারি চলছে। অন্যদিকে ডেঙ্গু রোগ ভয়াবহ হতে পারে-এমন পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাই এখন আর বসে থাকার সময় নেই। কারণ যেকোন মূল্যে নগরবাসীকে রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। মশা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তির নানা মেশিনারিজ নিয়ে এসেছি। উন্নতমানের এবং কার্যকর কীটনাশকও আনা হয়েছে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে। সকল কাউন্সিলরগণও মশা নিয়ন্ত্রণে নিজেদের সর্বোচ্চটা করছেন। আশা করছি এডিস মশার নিয়ন্ত্রণে আমি সফল হবো।’ গাজীপুর সিটিতে বসরবাসরত সকল নাগরিকদের প্রতি মেয়র বলেন, ‘এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারণ বাসা-বাড়িতে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার সবচেয়ে বড় উৎসস্থল। বাসায় বাসায় গিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা অনেক সময় মশার ওষুধ প্রয়োগ করতে পারেন না। তাই আমি আশা করবো এক দিনের বেশি পানি জমতে দেবেন না আপনারা। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতেই এই দায়িত্বটা আপনাদের নিতে হবে। আমরা সম্মিলিত চেষ্টায় এডিস মশাকে পরাজিত করবো।’

Leave a Reply

Top