You are here
Home > আন্তর্জাতিক > মমতার নতুন চাল তিস্তা নিয়ে পাল্টা চাপ দিতে

মমতার নতুন চাল তিস্তা নিয়ে পাল্টা চাপ দিতে

স্টাফ রিপোর্টার :
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে তাঁর ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, এর পাল্টা চাপ দিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের নদীর পানিকেই হাতিয়ার করলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাংলাদেশের তিন নদী আত্রেয়ী, ট্যাঙ্গন ও পুনর্ভবা বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ঢুকে আবার বাংলাদেশে ফিরে গেছে। মমতার দাবি, বাংলাদেশে এই নদীগুলোর ওপর বাঁধ নির্মাণ হয়েছে, পানি-প্রবাহও নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার ফলে গ্রীষ্মকালে ভারত একেবারেই পানি পাচ্ছে না।

আর এই অনুযোগ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের এই তিন নদীর পর্যাপ্ত পানি পাওয়া নিশ্চিত করতে এবার অনুরোধ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। একই সঙ্গে তিনি বললেন, বাংলাদেশের মাথাভাঙা নদীর পানির দূষণ কমানোর জন্যও যেন এই ‘বন্ধু’ দেশের সঙ্গে ভারত সরকার কথা বলে। স্পষ্টতই, তিস্তার পাল্টা হিসেবে মমতাও এবার নদী নিয়ে চাপের রাজনীতি শুরু করলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ‘রাজ্যের দাবিদাওয়া’ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মমতা দেখা করেন। আধা ঘণ্টার এই বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গ ওঠেনি বলে তিনি জানান। তিস্তার বিকল্প হিসেবে যে প্রস্তাব তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়েছিলেন, তা নিয়েও মোদির সঙ্গে তিনি কোনো আলোচনা করেননি। বৈঠক শেষে সাউথ অ্যাভিনিউয়ে দলীয় সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির সরকারি বাংলোয় সংবাদ সম্মেলন করে মমতা বলেন, বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু দেশ। ওই দেশের কয়েকটি নদী নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেই সমস্যা সমাধানের কথাই প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি।

মাথাভাঙা নদীটি ভারতে ঢুকে নাম নিয়েছে ‘চূর্ণী’। মমতার দাবি, বাংলাদেশে দূষণের কারণে চূর্ণীর পানি কোনো কাজে লাগছে না। পাশাপাশি যে তিন নদীর পর্যাপ্ত পানির দাবি তিনি জানালেন, সেগুলো আত্রেয়ী, ট্যাঙ্গন ও পুনর্ভবা।
মমতা বিশেষভাবে তুলে ধরেন আত্রেয়ী নদীর কথা। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেন, সীমান্ত থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে দিনাজপুর জেলার মোহনপুরে বাংলাদেশ আত্রেয়ীর ওপর একটা ‘রাবার ড্যাম’ তৈরি করেছে। এর ফলে ভারতে ঢোকা আত্রেয়ীতে পানি একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। তিনি বলেন, এ বছর এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে আত্রেয়ীর বাঁধ থেকে আচমকা পানি ছাড়ায় দক্ষিণ দিনাজপুর প্লাবিত হয়ে যায়। এতে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে বলে মমতার দাবি। তিনি বলেন, আত্রেয়ীর ওপর নির্ভরশীল জনতার জীবন পর্যুদস্ত। ভারতের পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকও এ সমস্যার কথা স্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর অনুরোধ, বাংলাদেশের উপযুক্ত মহলে বিষয়টি তিনি যেন তোলেন।
মাথাভাঙা নদীর (নদিয়া জেলায় যার নাম চূর্ণী) পানি দূষণের বিষয়টি নিয়েও বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চূর্ণীর পানি পরীক্ষা করে দেখেছে তা এতই দূষিত যে মাছ চাষ তো দূরের কথা, ওই পানি কোনো কাজেই লাগবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় মমতা অবশ্য ১৯৯৬ সালে গঙ্গা চুক্তির প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। ফরাক্কায় বিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বার বার ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কলকাতা বন্দর। কলকাতার পাশাপাশি হলদিয়া বন্দরও ব্যাপক পলি সমস্যায় ভুগছে। নাব্যতা কমছে দিন দিন। বড় জাহাজ আসতে পারছে না। মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। ভাঙন এতটাই মারাত্মক যে জাতীয় সড়কের সঙ্গে নদীর দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র দুই কিলোমিটার। তাঁর অভিযোগ, সমস্যার সমাধানে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজও তা পালিত হয়নি। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি।

Leave a Reply

Top