You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > মন্দির চত্বরে গরু জবাই, দায়ভার চাপিয়ে দিয়ে অধঃস্তন কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত

মন্দির চত্বরে গরু জবাই, দায়ভার চাপিয়ে দিয়ে অধঃস্তন কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ :

নওগাঁর মহাদেবপুরে বরেন্দ্রভুমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিও)’র নির্বাহী পরিচালকের আদেশে এক মন্দির চত্বরে গরু জবাই কারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে সেই দায় সংস্থার এক অধঃস্তন কর্মচারীর উপর চাপিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান এলাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টিসহ ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে।

সামিয়ক বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী সমন্বয়ক অর্থ ও প্রশাসন মোঃ আজিজার রহমান গতকাল সোমবার দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন যে, রমজান শুরুর পূর্বের দিন ১৩ এপ্রিল সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীরা বরাবরের মত মাংস ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য একটি গরু ক্রয় করা হয়। গরুটি কোথায় জবাই করা হবে এ নিয়ে শলা পরামর্শ করার এক পর্যায় সংস্থার উর্ধতন জনৈক কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমানের মৌখিক কথা মত মন্দিরের স্থানে গরু জবাই করার সিদ্ধান্তের কথা নির্বাহী পরিচালক মোঃ আব্দুর রউফকে জানিয়ে তঁার মতামতের ভিত্তিতে সেখানে গরু জবাই করা হয়।

পরবতর্ীতে এ নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়ায় উক্ত নির্বাহী পরিচালক এবং ঐ কর্মকর্তা সম্পূর্নভাবে সমন্বয়ক অর্থ ও প্রশাসনকে দায়ী করে নিজেরা দায়মুক্ত হন এবং তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য উক্ত আজিজার রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। উক্ত আজিজার রহমান একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সংস্থাটির জন্মলগ্ন থেকে সম্পৃক্ত রয়েছেন। যার কারনে এলাকার সাধারন মানুষ তার প্রতি অত্যন্ত সহনশীল।

নির্বাহী পরিচালক এবং ঐ কর্মকর্তা দাবী করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক স্থানীয় জনৈক সুকেশ চন্দ্রকে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিকট বলতে এবং সাম্রপদায়িক ইস্যু তৈরী করতে চাপ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সাংবাদিক সম্মেরনে উপস্থিত থেকে উক্ত ইউপি সদস্য এ কথা অস্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঐ লিখিত বক্তব্যে বিএসডিও’র নানা অনিয়ম দুনর্ীতি তুলে ধরা হয়। তুচ্ছ কারন দেখিয়ে তঁার ইচ্ছামত যখন তখন যাকে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। এমন কি চাকুরীচ্যুত হওয়ার পর তাদের নায্য পাওয়া পর্যন্ত পরিশোধ করা হয় না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রামবাসীদের মধ্যে বেলাল হোসেন, স্থানীয় ইইনয়ন পূজা কমিটির সাধারন সম্পাদক ও আওয়ামীলীগ নেতা কনক কুমার মন্ডল, আবউদল খালেক সরদার, এস এম জাফর সাদেকসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত কনক কুমার মন্ডল দাবী করেছেন আজিজার রহমান হিন্দ্র সম্প্রদায়ের নিকট অতি প্রিয় মানুষ। তিনি এই কাজ করতে পারেন না। নির্বাহী পরিচালকের নির্দেশেই সেখানে গরু জবাই করা হয়েছে।

এ ব্যপারে মোবাইল ফোনে ব্এিসডিও’র নির্বাহী পরিচালক উক্ত আব্দরু রউফ এবং সংশিল্ষ্ট কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান মন্দিরের জায়গায় গরু জবাই করতে কোন মতামত দেন নি। বরং উক্ত আজিজার রহমান তার নিজের মতেই এই কাজ করেছেন।

Top