You are here
Home > প্রচ্ছদ > ভোগান্তির শেষ নেই

ভোগান্তির শেষ নেই

স্টাফ রিপোর্টারঃ সড়কে বিশাল গর্ত। তাতে জমে আছে পানি। গাড়িচালককে সতর্ক করতে ভাঙা অংশে পুঁতে দেওয়া হয়েছে গাছের ডাল। সড়কের অস্তিত্ব বলতে গর্তের পাশে পিচ ঢালাইয়ের কিছু অংশ। এর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। আরাকান সড়কের চট্টগ্রাম নগর অংশের সিঅ্যান্ডবি বালুরটাল এলাকার এখন এই হাল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ চিত্র দেখা যায়।

আরাকান সড়কের নগর অংশের ৬ দশমিক ৩ কিলোমিটারের মধ্যে বহদ্দারহাট মোড় থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার ছোট-বড় ও গভীর খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। পানির পাইপ বসানোর জন্য ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) উড়াল সড়কের র‍্যাম্প (গাড়ি ওঠা-নামার পথ) নির্মাণ এবং বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সড়কের এই অবস্থা হয়েছে।

ভাঙা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। গতকাল মৌলভী পুকুরপাড় এলাকা থেকে তোলা ছবি

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ছয়-সাত মাস ধরে এই অবস্থা। ভাঙা অংশ সাময়িক সংস্কার করা হয়। কিন্তু তা টিকে দু-এক দিন। এরপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না।

নগরের ব্যস্ততম এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে কালুরঘাট শিল্প এলাকা, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল ও বিনোদনকেন্দ্র স্বাধীনতা কমপ্লেক্স। এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে নগরের মোহরা ও চান্দগাঁও ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এ ছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একাংশ, কাপ্তাই উপজেলা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর মানুষের নগরের সঙ্গে যোগাযোগ এই পথে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস ও টেম্পো, পণ্যবাহী ট্রাক-মিনিট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের বহদ্দারহাট মোড় থেকে শুরু হওয়া এই সড়কের অন্তত ১১টি স্থানে ছোট-বড় ও গভীর খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বহদ্দারহাটের সোনালী ব্যাংকের সামনে, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখে, বুড়ির পুকুরপাড়, পুরাতন চান্দগাঁও থানার সামনে, শরাফত উল্লাহ পেট্রলপাম্প এলাকা, মৌলভী পুকুরপাড়, সানোয়ারা কারখানা, সিঅ্যান্ডবি মোড়, বালুরটাল, বাহির সিগন্যাল ও কাপ্তাই রাস্তারমাথা এলাকার সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে। এর মধ্যে সিঅ্যান্ডবি মোড়, বালুরটাল ও মৌলভি পুকুরপাড় এলাকায়ও সড়কের এক পাশ বন্ধ। আরেক পাশ দিয়ে চলছে গাড়ি। ওই অংশও ভাঙাচোরা।

এ ছাড়া এম এ মান্নান উড়ালসড়কের র‍্যাম্পের নির্মাণকাজের জন্য বহদ্দারহাট মোড় থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত এক পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে উড়াল সড়কের র‍্যাম্পের নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানান সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান।

 সড়কের দুপাশের দুরবস্থার জন্য দুই পাশের দোকানগুলোতে বেচাকেনা অর্ধেকের বেশি কমে গেছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। বুড়ির পুকুরপাড় এলাকার গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে তাঁর প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বিক্রি কমে গেছে। একই কথা বলেন বহদ্দারহাট এলাকার ব্যবসায়ী আবু বক্করও।

আরাকান সড়কের নগর অংশের সিঅ্যান্ডবি মোড়ে ভাঙা সড়কে উড়ছে ধুলাবালু। গতকাল দুপুরের চিত্র

গতকাল দুপুরে রাউজানের নোয়াপাড়া থেকে নগরের বহদ্দারহাটে ফিরছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। তাঁর সঙ্গে কথা হয় বুড়ির পুকুরপাড় এলাকায়। তিনি বলেন, দুর্ভোগ নিয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে হয়েছে। ফিরতেও একই অবস্থা।

আরাকান সড়কের খানাখন্দের কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ নিয়মিত নষ্ট হয় বলে জানান কাপ্তাই বাস-মিনিবাস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, আগে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা পর্যন্ত যেতে একটি বাসের সময় লাগত সর্বোচ্চ দেড় ঘণ্টা। এখন লাগে তিন ঘণ্টা।

সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়াসার ছাড়পত্র না পাওয়ায় আরাকান সড়ক সংস্কার করা যাচ্ছে না বলে জানান সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নগরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো সংস্কারের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এ প্রকল্পে আরাকান সড়ক সংস্কারের জন্য প্রায় পৌনে ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ উন্নীতকরণ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, অক্টোবরে প্রকল্পের কাজ  পুরোপুরি শেষ হবে। তবে যান চলাচলের জন্য সড়কের খানাখন্দ সাময়িক সংস্কার করে দেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Top