You are here
Home > খোলা আকাশ > ভালো থাকিস ভাই ; সাধুর শোকে কাঁদলো আকাশ, কাঁদলো বাতাস, কাঁদলো মানুষ

ভালো থাকিস ভাই ; সাধুর শোকে কাঁদলো আকাশ, কাঁদলো বাতাস, কাঁদলো মানুষ

হুমায়ূন সাধু, এক স্বপ্নবান আত্মার নাম। চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্রতী নিয়ে যিনি ঢাকা শহরে এসেছিলেন। এক আড্ডায় তিনি বলেছিলেন, ‘গণমানুষের জন্য আমি সিনেমা নির্মাণ করবো। যা দেখে বাংলার মানুষ আনন্দিত হবে’। সেই পরিকল্পনা মাফিক দীর্ঘ সময় নিয়ে সবকিছু গুছিয়েও এনেছিলেন। কিন্তু কিছুতেই আর কিছু হলো না। হঠাৎ বিদায় নিলেন তিনি। ফেসবুকে তার নামের উপরে এখন থেকে লেখা থাকবে ‘রিমেম্বারিং’!

তার মৃত্যুতে কাঁদছে হেমন্তের আকাশ। সকাল থেকেই থেমে থেমে জল ঝরছে আকাশ থেকে। তার শোকে কাঁদছে হাজারো শুভানুধ্যায়ি ও ভক্তকূল। তার অকাল প্রয়াণ সত্যি সত্যিই কাঁদিয়েছে সব শ্রেণির মানুষকে।

শুক্রবার আসর নামাজের বিকাল পৌনে ৫টার দিকে দ্বিতীয় দফায় জানাজা শেষে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার মেটাল রহিম মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে চিরনিদ্রায় দাফন হয় তার।

তার মৃত্যুতে দিনব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে স্মৃতিচারণ করেন নাটক, চলচ্চিত্র ও সাহিত্যের মানুষেরা।

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর হাত ধরেই অভিনয় ও নির্মাণে এসেছিলেন সাধু। ফারুকীকে গুরু মানতেন। তার মৃত্যুতে শোকার্ত ফারুকী। ফেসবুকে একাধিকবার স্মৃতিচারণ করেন তিনি। একবার এক পোস্টে সাধুকে নিয়ে ফারুকী লিখেন: তুই সময় দিছিলি আমাদের তৈরি হওয়ার। আমরা হয়তো তৈরিও হইছিলাম। কিন্তু মানুষ বোধ হয় কখনোই প্রিয়জনের বিদায়ের জন্য তৈরি হইতে পারে না রে, সাধু!

সাধুর মৃত্যুতে শোকার্ত অভিনেত্রী জয়া আহসান লিখেন: যখন জীবন আর সিনেমা এক হয়ে য়ায়…সাধু । বিউটির ওই হৃদয় নিংড়ানো কান্না যে সত্যি হয়ে উঠবে এটা তো ভাবিনি ভাই… কতো কতো স্মৃতি আর দীর্ঘ‍শ্বাস ঘুরে ঘুরে আসছে।

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী লিখেন: সাধুর সাথে একটা নাটকেই অভিনয় করেছিলাম। বয়স আর উচ্চতা দুটোতেই আমার চেয়ে ছোট। অন্তত ওর জীবনটা বড় হতে পারতো! বিধাতার বিচার টা যেন কেমন! প্রথম দেখাতেই জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম, কেমন আছিস ভাই? উত্তরে যা বলেছিল, এখনো কানে বাজছে! আর কখনোই দেখা হবে না সাধুর সাথে। ভালো থাকিস ভাই।

সাধু অভিনীত ‘ঊন মানুষ’ ও ‘চিকন পিনের চার্জার’ নাটক দুটো শেয়ার করে নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী লিখেন, মানুষ চিরকাল বেঁচে থাকে কাজে।

নির্মাতা আকরাম খান সাধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে লিখেন: ব্যক্তিগত ভাবে আমি হুমায়ূন সাধুকে চিনতাম না। মাঝেমধ্যে যখন দেখা হতো ও আমার দিকে তাকিয়ে একটা লাজুক সৌজন্যের হাসি দিত আমিও হাসি দিয়ে সম্ভাষণ জানাতাম। ওর জন্য গর্ব হতো আর একধরণের অনুপ্রেরণাও পেতাম । কিভাবে এত প্রতিকূলতা নিয়ে মানুষটা একটার পর একটা দেয়াল ভেঙে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে । চিত্রগ্রাহক রিপনকে ফারুকির হাতে আমিই তুলে দিয়েছিলাম। রিপন ছিল আমার পরিবারেরই একজন । ক্যানসারে ও মারা যাবার পর গভীর বেদনা বোধ করেছিলাম । হুমায়ুন সাধুর অকাল মৃত্যুর পর আবার সেই পুরানো ক্ষত থেকে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। এই মেধাবী মানুষটির পরিবারকে জানাই সমবেদনা আর সারোয়ার ফারুকিকে জানাই ভালোবাসা। এই তথাকথিত অস্তিত্বহীন মানুষটাকে কাছে টেনে তার সামনের আলোকিত জীবনের দরজা খুলে দেবার জন্য।

নির্মাতা অনিমেষ আইচ লিখেন: সাধুর আত্মা শান্তি পাক। ভালোবাসা নিও ভাই।

নির্মাতা মাহমুদ দিদার লিখেন: সাধুর জন্যে পরাণ পুড়ছে। ফেরেশতার সুরত নিয়ে আমাদের লোকালয়ে এসেছিলো সাধু । আহা মায়া! নায়ক হে! বিদায়।

সহকর্মী ও নির্মাতা আশুতোষ সুজন লিখেন, সাধু। তোমার জন্মের সময় কারা হেসেছিল,আর কারা কেদেঁছিল,আমি জানি না।কিন্তু তোমার এই অকাল চলে যাওয়ায়,আমি কাঁদছি …পুরো ছবিয়াল কাদঁছে…শুনতে কি পাও তুমি অদ্ভুত সেই বেসুরো সুর…।

মোস্তফা কামাল রাজের সঙ্গে ছিলো বেশ সখ্যতা। সাধুর মৃত্যুতে রাজ লিখেন: তোমার সাথে আর চ্যাটিং হবে না রাতে। ভালো থাকো তুমি! তোমার সাথে আর কাজটা হলো না!

এ প্রজন্মের নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ লিখেন: ভাই, আমি বিশ্বাস করি আপনি অনেক অনেক ভালো থাকবেন । একজন ভালো মানুষ আল্লাহ’র কাছে অবশ্যই উত্তম পুরস্কার পাবেন । নিশ্চিত পাবেন। উইল মিট সুন । উই আর কামিং টু, টিল দ্যান ভালো থাইকেন বড় ভাই।

Leave a Reply

Top