You are here
Home > দূরনীতি ও অপরাধ > ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলাদা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলাদা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত

স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও সরাইল উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত একটা থেকে তিনটার মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন ইউসুফ মিয়া (২৭) ও রুকন মিয়া ওরফে শবদালী (৪৫)। ইউসুফ মিয়ার বাড়ি উপজেলার কুটি ইউনিয়নের মাইজখার গ্রামে। বাবার নাম নুরুল ইসলাম। রুকন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের সুহিলপুর (নোয়াবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা। বাবার নাম ইয়াকুব মিয়া। দুটি লাশই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ভাষ্য, গতকাল সন্ধ্যায় ইউসুফ মিয়াকে ৯০ কেজি গাঁজাসহ তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাঁকে নিয়ে গভীর রাতে কুটি ইউনিয়নের কালামুড়িয়া এলাকায় মাদক উদ্ধার করতে গেলে তাঁর সহযোগীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। শুরু হয় বন্দুকযুদ্ধ। একপর্যায়ে সহযোগীদের গুলিতে নিহত হন ইউসুফ মিয়া।

ওসি বলেন, নিহত ব্যক্তি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও ৪৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কামরুজ্জামান জানান, গতকাল দুপুর দুইটার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের উচালিয়াপাড়া মোড় থেকে রুকন মিয়াকে চুরি করা একটি অটোরিকশাসহ আটক করা হয়। রাতে পুলিশ রুকন মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্র ও বিভিন্ন সময় চুরি করা অটোরিকশা উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। রাত একটার দিকে ইসলামাবাদ এলাকায় পৌঁছালে অস্ত্রধারী ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল রুকন মিয়াকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রুকন মিয়া গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রুকন মিয়া পুরোনো অটোরিকশা কেনাবেচার আড়ালে বিভিন্ন জেলায় অটোরিকশা চুরির নেতৃত্ব দিতেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল রাতের ঘটনায় সরাইল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অহিদুর রহমান, কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম ও শাহাদৎ হোসেন আহত হন। তাঁদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পাইপগান, তিনটি তাজা কার্তুজ, গুলির চারটি খোসা, একটি ছুরি ও দুটি বল্লম উদ্ধার করা হয়েছে।

সরাইল থানার ওসি রুপক কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, রুকন মিয়ার বিরুদ্ধে সরাইল ও সদর থানায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে চারটি মামলা রয়েছে। গতকাল রাতের ঘটনায় আরও দুটি মামলা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Top