বেনাপোলে ফ্লেভার ঘোষণায় কোটি টাকার ‘ভায়াগ্রা পাউডারের’ চালান আটক – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > বেনাপোলে ফ্লেভার ঘোষণায় কোটি টাকার ‘ভায়াগ্রা পাউডারের’ চালান আটক

বেনাপোলে ফ্লেভার ঘোষণায় কোটি টাকার ‘ভায়াগ্রা পাউডারের’ চালান আটক

মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী,বেনাপোল (যশোর) :

বেনাপোলে প্রথমবারের মতো অবৈধভাবে ভারত থেকে আমদানি করা ২শ‘ কেজি ‘ভায়াগ্রা পাউডারের’ চালানসহ ফ্লেভার, সিরিঞ্জ, ইমিটেশন জুয়েলারি, শাড়ি, ওড়না, কামিজ, সালোয়ার, থ্রী-পিস, শার্ট, প্যান্ট আটক করেছে বেনাপোল শুল্ক কর্মকর্তারা। যার বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে। বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডাব্লিউসিও) এর ১৮২ সদস্য দেশকে মাদক, বিস্ফোরক ও এ ধরনের ক্ষতিকর পণ্য চোরাচালানের বিষয়ে দীর্ঘদিন সর্তকবার্তা দিলেও বাংলাদেশেই প্রথম উদঘাটিত হলো। এ ঘটনায় বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বেনাপোল কাস্টম ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, ঢাকার ১৫৩/৩ কঁাঠাল বাগান (কলাবাগান) এলাকার রেড গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ৫শ‘ কেজি ফ্লেভার আমদানির জন্য চলতি বছরের ২ এপ্রিল শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় একটি ঋণপত্র খোলেন (এলসি নং-২৯৬৬১৯০১০০৩৬)। পণ্য চালানটি ভারত থেকে ১০ এপ্রিল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। যার মেনিফেস্ট নং-১৩৬১৩বিবি। পণ্যচালানটি খালাস নিতে ১৩ এপ্রিল সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজ বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেন। বিল অব এন্ট্রি নং-সি-২৫৫৭৭। আমদানি পণ্যচালানটি ধরা পড়ার কিছুদিন আগে অসাধু একটি চক্রের অবাধে আমদানিযোগ্য পণ্যের আড়ালে অপঘোষণার মাধ্যমে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে ভায়াগ্রা নিয়ে যাবে মর্মে আমাদের কাছে গোপন সংবাদ আসে। সে আলোকে সন্দেহজনক পণ্যচালানটি নজরদারীতে রাখা হয়। এর পর কাস্টম হাউসের চৌকষ কর্মকর্তাদের একটি দল দিয়ে চালানটির আমদানি দলিল ও কায়িক পরীক্ষায় ৫শ‘ কেজি ফ্লেভারের সাথে ঘোষনা বহির্ভর্ূত ২শ‘ কেজি সাদা পাউডার, এক লাখ ৯৪ হাজার পিস সিরিঞ্জ, একশ‘ ১০ কেজি ইমিটেশন জুয়েলারি, তিনশ‘ ৩ পিস শাড়ি, ১৪ পিস ওড়না, ১০ পিস কামিজ, ৯ পিস সালোয়ার, ৩৮ পিস থ্রী-পিস, ১৯ পিস শার্ট ও একশ‘ ২২ পিস প্যান্ট পাওয়া যায়। প্রাপ্ত পণ্যতালিকা পর্যালাচনা ও যাচাই করা হয়। রিপোর্ট নিয়ে কমিশনারের কক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পর্যালাচনা করা হয়। পরীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়ার পর রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য তোলা হয় ফ্লেভার ও সাদা পাউডার জাতীয় পণ্যের প্রতিনিধিত্বশীল নমুনা। অধিক সতর্কতার জন্য কাস্টম হাউসের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবে রমন স্পেক্টোমিটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষা শেষে ফ্লেভার সঠিক পাওয়া গেলেও ২শ‘ কেজি সাদা পাউডার পরীক্ষায় ভায়াগ্রার উপাদান আছে বলে সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক একাধিকবার পরীক্ষা করে একই ফলাফল পেয়ে রিপোর্ট দেন। ডাব্লিউসিও প্রদত্ত রমন স্পেক্টোমিটারের পরীক্ষায় জানা যায় ভারত থেকে খাবারের ফ্লেভারের আড়ালে আমদানিকৃত আলোচ্য ভায়াগ্রা পাউডার। অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য বিবেচনায় অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে নমুনা খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) পাঠানো হয়। দীর্ঘ আড়াই মাস পর কুয়েট পরীক্ষা করে পণ্যটিকে সিলডেনাফিল সাইট্রেট (ভায়াগ্রার মূল উপাদান) হিসেবে রিপোর্ট দেয়। কুয়েটের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরেই অপঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। মূলত বৈধ পণ্যের আড়ালে আমদানিযোগ্য পণ্য অপঘোষণা দিয়ে অপঘোষণার জরিমানা ও শুল্ককর পরিশোধের দোহাই দিয়ে কাস্টমস কর্মকতাদের বোকা বানিয়ে ভায়াগ্রা পাউডার পাচারের অপচেষ্টা করে। চালানটির আমদানিকারক ও খালাসের কাজে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজ কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

তিনি আরো জানান, বিশ্বব্যাপী মানবসমাজের নীরব ঘাতক ভায়াগ্রার পণ্য উদঘাটনে বেনাপোল কাস্টম হাউসের বিরল প্রাপ্তি ও গৌরবের। একইভাবে এমন চোরাচালান প্রতিহতকরণ বেনাপোল স্থলবন্দর ও বেনাপোলবাসীর জন্য কৃতিত্বের। ডাব্লিউসিও এ নিয়ে প্রতিনিয়ত উদ্বেগ প্রকাশ করে যাচ্ছে। সকল সদস্য দেশ এগুলো পাচাররোধে চেষ্টা করলেও বাংলাদেশ সম্প্রতি প্রথম সাফল্য পেল। গর্বের এ উদঘাটনের বিষয়টি ডড়ৎষফ ঈঁংঃড়সং ঙৎমধহরুধঃরড়হ (ডঈঙ), জবমরড়হধষ ওহঃবষষরমবহপব খরধংরড়হ ঙভভরপব (জওখঙ), ঈঁংঃড়সং ঊহভড়ৎপবসবহঃ ঘবঃড়িৎশ (ঈঊঘ) সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হবে। ডাব্লিউসিও সদস্য দেশসমূহকে এ পাচার ধরণ ও কৌশল সম্পর্কে জানাবে। প্রয়োজনে অধিকতর তদন্ত করবে। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার দিপা রাণী হালদার জানান, আমদানিকারক কোনো ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়। তবুও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পূর্বানূমতি ব্যতীত আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-২০১৮ এর শর্ত ভঙ্গ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ভায়াগ্রা আমদানি করেছে। চালানটি আটক করা হয়েছে। বর্তমানে আমদানিকারক কেবল ৫শ‘ কেজি ফ্লেভার ব্যতীত অন্য পণ্য দাবি করছে না। ২৫ প্যাকেজ (৫শ‘ কেজি) ফ্লেভার ব্যতীত অন্যান্য পণ্যের বিষয়ে জানা নেই মর্মে পণ্যচালান খালাসের কাজে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজ লিখিতভাবে জানান। এ ব্যাপারে সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জালিয়াতি ও অবৈধ পণ্য সুকৌশলে আমদানির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাবার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Top