You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > বিয়ের দাবিতে প্রেমিকা স্মৃতি সরকারের অনশন

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকা স্মৃতি সরকারের অনশন

স্থানীয় প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সদর ইউনিয়নের রায় পাড়া গ্রামের শুভ্র তালুকদারের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকা স্মৃতি সরকার অনশন শুরু করেছেন। অনশনকারী স্মৃতি সরকার (২২) জেলার দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের রবিন্দ্র সরকারের দ্বিতীয় মেয়ে ও সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের ছাত্রী। প্রেমিক শুভ্র তালুকদার (২৪) তাহিরপুর উপজেলার রায় পাড়া গ্রামের সুনিল তালুকদারের বড় ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় স্মৃতি সরকার (২২) কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ করে প্রেমিক শুভ্র তালুকদারের রায় পাড়ায় অবস্থিত বাড়িতে চলে আসে। এসে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু প্রেমিক শুভ্র এতে রাজি না হলে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে। এই খবর জানাজানি হলে পুলিশ, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা এসে মধ্য রাত পর্যন্ত ছেলে ও মেয়ে পক্ষের সাথে আলোচনা করে।

একপর্যায়ে সবাই মেয়েকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে স্মৃতি সরকার জানায়, গত ৩-৪ বছর পূর্বে প্রেমিক শুভ্র তার মামার বাড়ি দিরাই উপজেলার কাইলানী গ্রামে বেড়াতে যায়। পারিবারিকভাবে তাদের মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। এই সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মাঝে গভীর ভালোবাসার সর্ম্পক গড়ে উঠে। গত দুই মাস আগে তারা দুজন মিলে সুনামগঞ্জ জেলার সার্বজনীন কালী মন্দিরের পুরোহিতের মাধ্যমে মালা বদল করে শাঁখা ও সিঁদুর পরিয়ে দেয় প্রেমিক শুভ্র। এর পর তারা জেলার মিজান হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে হোটেলে রাত্রিযাপন করে। এর পর তাদের একাধিক বার দৈহিক সম্পর্ক হয়েছে।

স্মৃতি সরকার এই প্রতিবেদককে আজ বৃহস্পতিবার সকালে আরো জানায়, আমাদের বিয়ের ছবি আছে। হোটেলে ছিলাম তার ভিডিও ফুটেজ আছে। প্রেমিক শুভ্রই তাকে বাড়িতে আসার কথা বলেছে। এলাকার সবাই বলেছে আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে বিয়ের আয়োজন করা হবে। আমার বাবা ও মা অসুস্থ রয়েছেন। আমাকে বিয়ে করে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি না দিলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন জানান, এই মেয়ের কাছে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট রয়েছে যে তাদের বিয়ে হয়েছে এবং তারা একাধিকবার রাতে সুনামগঞ্জের মিজান হোটেলে রাত্রিযাপন করাসহ বিভিন্ন সাক্ষী প্রমাণ আছে। আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছেলের বাবার সাথে কথা বলেছি। ছেলের বাবা বিয়ে দিতে রাজি, কিন্তু মেয়ের পরিবারের সাথে কয়েক দফা কথা হলেও মেয়ের বাবা ও মা অসুস্থ থাকায় ভালোভাবে কথা শেষ হয়নি। তাই মেয়েকে তাহিরপুর বাজার কমিটির সাবেক চেয়ারম্যার রতন গাঙ্গুলীর জিম্মায় তার বাড়িতে রাখা হয়েছে। আমরা এই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি আশা করি সুষ্ঠুভাবেই সমাধান হবে।

তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, মেয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। মেয়ে ছেলের বাড়ি আসার পর ছেলে ও মেয়ে পক্ষের লোকজনের সাথে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কথা বলে বিষযটি সমাধান করছেন। সমাধান হলে আমরা আর কিছু করব না।

Leave a Reply

Top