You are here
Home > খোলা আকাশ > সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ

সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ

উপমহাদেশে সংবাদপত্র সম্পর্কিত প্রথম রেগুলেশন জারি হয় ১৭৯৯ সালে গর্ভনর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির শাসনামলে। ওই রেগুলেশনে বলা হয় যে, সকল সংবাদপত্রে তিনজনের নাম অবশ্যই থাকতে হবে, যথা মুদ্রাকর, প্রকাশক ও সম্পাদক।

১৮২৩ সালে গভর্নর জেনারেল এডামসের এক অধ্যাদেশ বলে সংবাদপত্রে লাইসেন্স প্রথা প্রবর্তিত হয়। ১৮৩৫ সালে লাইসেন্স প্রথা রদ হলেও ১৮৫৭ সালে পুনরায় তা চালু হয়।

১৮৬০ সালে জারি হয় পেনাল কোড বা দন্ডবিধি আইন। মানহানি ও অশ্লীলতার বিষয় এ আইনে স্থান পায়। ১৮৭০ সালে তাতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিষয়ও যুক্ত হয়। ১৮৯৮ সালে শ্রেণী শত্রুতা সৃষ্টির অপরাধের বিষয় এ আইনে সন্নিবেশিত হয়।

১৮৬৭ সালে প্রেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অব বুকস অ্যাক্ট পাস হয়। এ আইনে সকল সংবাদপত্র এবং পুস্তকের কপি নিবন্ধীকরণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ১৮৭৮ সালে পাস হয় ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট। এ আইনে সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক সকল লেখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার লাভ করে।

১৮৯৮ সালে ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোড বা  ফৌজদারি কার্যবিধি জারি হয়। এ আইনের কতিপয় ধারা সংবাদপত্রকে স্পর্শ করে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ (ক) (খ) (গ) (ঘ) (ঙ) (চ) ধারায় সংবাদপত্র বিষয়ে সরকারকে কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতামূলক বা বিদ্রোহের উসকানিমূলক বা নাগরিকদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা সৃষ্টিকারী বা ধর্মবিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞামূলক কোনো লেখা যদি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়, তবে সরকার তার প্রত্যেকটি কপি বাজেয়াপ্ত করতে পারে এবং যে স্থানে ঐগুলি থাকে সেই স্থানে ম্যাজিস্ট্রেটের পরওয়ানামূলে পুলিশ যেতে পারে; তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এ বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের গোচরে আনতে পারে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৮ ধারায় বলা হয়েছে যে ম্যাজিস্ট্রেট সেইসব ব্যক্তিকে মুচলেকা দেবার আদেশ দিতে পারেন যারা রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক বা শ্রেণীর সংঘর্ষ সৃষ্টিকারক বা বিচারককে ভীতি প্রর্দশনমূলক বা অবমাননাকর কোনো কিছু প্রকাশ করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিককে তার নির্দেশিত স্থানে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেন।

১৯০৮ সালে নিউজপেপার (ইনসাইটমেন্ট টু অফেন্সেস) অ্যাক্ট পাস হয়। হিংসাত্মক রচনা প্রকাশিত হলে কাগজ সীজ করার ক্ষমতা এ আইনে ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া হয়। ১৯১০ সালে পাস হয় প্রেস অ্যাক্ট। রাষ্ট্রদ্রোহিতা, হত্যা প্রভৃতি অপরাধে উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী কোনো লেখা প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট ছাপাখানাকে তা জমা দিতে আদেশ দেয়ার অধিকার এই আইন সরকারকে দেয়।

১৯২২ সালে প্রেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অব বুকস অ্যাক্ট, দি কাস্টমস অ্যাক্ট এবং পোস্ট অফিস অ্যাক্ট সংশোধন করা হয়। ওই বছর ১৯০৮ ও ১৯১০ সালের আইন দুটি রদ করা হয়। ১৯২৩ সালে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট পাস হয়। এ আইনে গোপনীয় সংবাদ প্রকাশ না হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ১৯৭৩ সালে দি প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিক্লেয়ারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট পাস হয়। এই আইনবলে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট সংবাদপত্র প্রকাশের অনুমতি দিতে পারেন। ১৯৭৪ সালে নিউজ পেপার এমপ্লয়ীজ (কন্ডিশন অব সার্ভিস) অ্যাক্ট পাস হয়। এ আইনে সাংবাদিক এবং সংবাদপত্র কর্মীদের সুযোগ-সুবিধার বিধান রাখা হয়।

এছাড়াও স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট ১৯৭৪, কপিরাইট অ্যাক্ট, কনটেম্পট অফ কোর্ট অ্যাক্ট, চিলড্রেন অ্যাক্ট, ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোড প্রভৃতি আইন বাংলাদেশের সংবাদপত্রকে কোনো না কোনো ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।


প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪

১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ আইন পাস হয়। এ আইন অনুযায়ী প্রেস কাউন্সিল গঠিত হয় ১৯৭৯ সালের ১৮ আগস্ট। কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা পনের। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে কর্মরত আছেন কিংবা যিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিযুক্ত হবার যোগ্যতা রাখেন, কেবল তিনিই প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হতে পারেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তাকে মনোনয়ন দান করেন।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল

রূপকল্প (Vision)
বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা সমূহের মান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন;
 
অভিলক্ষ্য (Mission)

গণমাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অপেশাদারী কর্মকান্ড থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা এবং সাংবাদিকতার আচরণ বিধি, বস্ত্তনিষ্ঠ সংবাদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সচেতন ও উদ্ভুদ্ধ করা ;


বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল


কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহ (Strategic Objective)

 
১. সংবাদপত্র, সংবাদসংস্থার মান সংরক্ষণ ;
 
২. গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক প্রণিত আচরণ বিধি মেনে
চলার জন্য উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান ;
 
৩. সংবাদপত্রে হলুদ সাংবাদিকতার চর্চা হতে বিরত রাখার জন্য উৎসাহিত করা;
 
৪. দু:স্থ ও অসহায় সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক সহায়তা তহবিল গঠন করা।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল

কার্যাবলী (Function) :
১. সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা সমূহের স্বাধীনতা সংরক্ষণে সহায়তা করা
 
২. উচ্চ পেশাগত মানের সহিত সামঞ্জন্যপূর্ণ সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা
এবং সাংবাদিকদের জন্য একটি আচরণ বিধি প্রণয়ন করা ;
 
৩. সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা এবং সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে জনসাধারণের
রুচির উচ্চমান সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ববোধ উভয়ের যথোচিত লালন পালন করা ;
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল

৪. সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত সকল ব্যক্তিবর্গের মধ্যে দায়িত্ববোধ
ও জনসেবার মনোভাব সৃষ্টিতে উৎসাহিত করা ;
 
৫. জনস্বার্থ ও জনগুরুত্ব সম্পন্ন তথ্য সরবরাহ এবং বিস্তার রোধের
সম্ভাবনাময় যে- কোন অবস্থা পর্যালোচনা করা ;
 
৬. বাংলাদেশের যে-কোন সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থার বিদেশ উৎস
হইতে প্রাপ্ত বিষয় সমূহ, এইরূপ বিষয় সরকার কর্তৃক বা কোন ব্যক্তি, ব্যক্তিবর্গের সমিতি বা অন্য কোন সংগঠন কর্তৃক আনীত সহযোগীতা প্রাপ্তির সকল বিষয় পর্যালোচনা করা;
৭. জাতীয় ও বিদেশী সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা এবং প্রভাব সম্পর্কে অনুশীলন ও
গবেষণা করা ;
 
৮. সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য
সুযোগ সুবিধা প্রদান করা ;
 
৯. কারিগরি বা অন্যান্য গবেষণার উন্নতি বিধান করা;
 
১০. সংবাদপত্র প্রযোজনায়, প্রকাশনায় অথবা সংবাদ সংস্থা পরিচালনায় নিয়োজিত
সকল শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যথাযথ কার্যকর সম্পর্ক উন্নত করা;
 
উপযুক্ত কার্যাবলী সম্পাদনে প্রাসঙ্গিক বা সহায়ক অনান্য কার্যক্রম গ্রহণ।


প্রেস কাউন্সিল আইন ১৯৭৪

ধারা ১২। সতর্ক, ভৎর্সনা ও তিরস্কার করার ক্ষমতা।–
(১) কোন অভিযোগ প্রাপ্ত বা অন্য কোনভাবে পাইয়া, যেইক্ষেত্রে কাউন্সিলের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোন সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থা সাংবাদিকতা নীতিমালার মান বা জনসাধারণের রুচির বিরুদ্ধে অপরাধ করিয়াছে অথবা কোন সম্পাদক বা কর্মরত সাংবাদিক পেশাগত অসদাচরণ করিয়াছে বা সাংবাদিকতা নীতিমালার বিধি লঙ্ঘন করিয়াছে সেইক্ষেত্রে কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থা, সম্পাদক বা সাংবাদিকদে বক্তব্য পেশের সুযোগ দিয়া এই আইনের অধীনে প্রণীত প্রবিধি মোতাবেক তদন্ত করিতে পারিবে, এবং ইহা যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, ইহার প্রয়োজন আছে, তাহা হইলে কাউন্সিল কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, সম্পাদক বা সাংবাদিককে ক্ষেত্রমতে সতর্ক, ভৎর্সনা বা তিরস্কার করিতে পারিবে।

(২) কাউন্সিল যদি এই মত পোষণ করে যে, ইহা করা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ও সমীচীন তাহা হইলে কাউন্সিল সেইরূপ কোন সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থা, সম্পাদক বা কর্মরত সাংবাদিকের বিরূদ্ধে এই ধারায় প্রচলিত তদন্ত সংক্রান্ত যে-কোন রিপোর্ট কাউন্সিল যে-কোন সংবাদপত্রে অভিযুক্ত সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, সম্পাদক বা সাংবাদিকের নাম সহ প্রকাশ করিতে পারিবে।
(৩) কোন আদালতে কোন বিষয় বিচারাধীন থাকিলে সেই বিষয়ে তদন্ত পরিচালনায় উপ-ধারা (১) এর কোন কিছুই কাউন্সিলকে ক্ষমতা প্রদান করিয়াছে বলিয়া অনুমিত হইবে না।

(৪) উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন প্রদত্ত কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত, ক্ষেত্রমতে চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই বিষয়ে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারা :

‘৫৭। ইলেকট্রনিক ফর্মে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও উহার দন্ড।
(১) কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটিবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীনে অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদন্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন।’

Leave a Reply

Top