You are here
Home > প্রচ্ছদ > বিএনপির আন্দোলন কোন বছরঃ কাদের

বিএনপির আন্দোলন কোন বছরঃ কাদের

স্টাফ রিপোর্টারঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ কাজে লাগিয়ে আন্দোলনের আশায় ছিল। কিন্তু এবারও তারা হতাশ হয়েছে। গত আট বছরে ১৬টি ঈদ গেল। বিএনপি বলে এই ঈদ না, ওই ঈদ; এ বছর না, ওই বছর—আন্দোলন হবে কোন বছর?

আজ শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আট বছরে আট মিনিটের জন্যও রাস্তায় যেতে পারেনি, এরা কী আন্দোলন করবে? এদের আন্দোলন তো আষাঢ়ের তর্জন-গর্জনই সার। আট বছরে ১৬টি ঈদ গেল। এখন তারা ঈদ গেলে বলে পরীক্ষার পর। এরপর তারা বলে এই ঈদ না, ওই ঈদ; এ বছর না ওই বছর—আন্দোলন হবে কোন বছর।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ভেবেছিল ঈদের সময় রাস্তাঘাটে একটা বিশৃঙ্খলা হবে। সারা দেশে দুর্ভোগ, ভোগান্তি হবে। দেশে কোনো যানজট না থাকায় কোনো জনদুর্ভোগ ছিল না। বিএনপি চাতকের মতো চেয়েছিল, কোনোভাবে এই দুর্ভোগ থেকে একটি আন্দোলনের ‘এজেন্ডা’ পাওয়া যায় কি না। কিন্তু সেটা মাঠে মারা গেছে। তিনি বলেন, তারা ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ থেকে যে ইস্যু খুঁজেছিল, তারা তা পায়নি। এরপর তারা বাজেট নিয়ে কিছু করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা করল। কিন্তু দেশের মানুষ খুশি হওয়ায়, বিএনপি হতাশ হয়েছে।

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সরকারের সঙ্গে বসতে চায়—এ বিষয়ে সরকার বা আওয়ামী লীগের মনোভাব জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটি নির্বাচন কমিশন হয়েছে। মানুষ ভোট দেবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। দেশে একটি সংবিধান আছে। দুনিয়ার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যে নিয়ম জারি আছে, আমরা কেন তার বাইরে যাব?’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গত এক বছরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় না হামলার ঘটনা ঘটল?… আমাদের দেশের সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে, জনগণকে সম্পৃক্ত করে যখন আমরা টেররিজমের বিরুদ্ধে একটা ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম বানাতে পারব এবং সেটিই হবে টেররিজম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। কিন্তু সেটি এখনো গড়ে ওঠেনি।’

সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটার রেকর্ড বিএনপির। ট্র্যাক রেকর্ডে আওয়ামী লীগের কারও নাম নেই। এটা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে। তারেক জিয়া সম্পর্কে আর সিঙ্গাপুরে কোকোর ব্যাপারটা সবাই জানে। সেখানে তারেক জিয়ার মানি লন্ডারিং সবার কাছে পরিচিত ও আদালতে প্রমাণিত। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কারও বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ রকম সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে, কোনো নেতা যদি মানি লন্ডারিং করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ১৯টি উপকমিটি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যেসব নেতা অন্য কমিটিতে আছেন, তাঁরা উপকমিটিতে সহকারী সম্পাদক পদ পাবেন না। সদস্য পদ পেতে পারেন, কিন্তু সহকারী সম্পাদক নয়। এবার সহকারী সম্পাদক পদে ১০০ জনের বেশি পদ দেওয়া হবে না। এ ছাড়া আটটি জেলায় আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। সেটিও আগামী সপ্তাহের মধ্যে নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Top