You are here
Home > জাতীয় > বাজেট নিয়ে মানুষ মহা আতঙ্কে আছেঃ এরশাদ

বাজেট নিয়ে মানুষ মহা আতঙ্কে আছেঃ এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টারঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট। কিন্তু জনগণের কাছে এটা নিকৃষ্ট বাজেট। মানুষ মহা আতঙ্কে আছে। অর্থমন্ত্রী এই বাজেটকে সর্বোৎকৃষ্ট বাজেট বলেছেন। আমি রংপুরে যাই, গ্রামে যাই। গ্রামের মানুষ আমাকে বলে ‘বাহে তোমরা কি হামারে মারি ফেলার চান? ৫০ টাকা কেজি চাল খাই। বাজেট পাস হলে এর দাম আরোও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রীকে আপিন বলেন’। আমি মনে মনে বললাম কী করে বলব? প্রধানমন্ত্রী তো আমার সাথে দেখা করেন না! আজ জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এরশাদ এসব কথা বলেন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজের সাফাই গেয়ে এরশাদ বলেন, আমার কোন দোষ ছিল না। দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে আমাকে ক্ষমতা নিতে হয়েছিল। বিচারপতি সাত্তার নির্বাচন করবেন। আমি সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলাম, নির্বাচনের জন্য তাকে সাহায্য করেছিলাম। কিন্তু এক বছরের মাথায় তিনি বললেন, ‘আমার মন্ত্রী সভার সকল সদস্য দুর্নীতিপরায়ণ। আমি দেশ পরিচালনায় অপারগ। সেনাবাহিনীর সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাই। ’ আমরা প্রস্তুত ছিলাম না, কারণ দেশ পরিচালনা করা সহজ ব্যাপার নয়। এটা আমি উপলব্ধি করি। আমি ক্ষমতা নিতে চাইনি। কিন্তু কোন উপায় ছিল না, বাধ্য হয়ে এই দায়িত্ব আমাকে গ্রহণ করতে হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমি বলেছিলাম, নির্বাচন দিয়ে শৃঙ্খলা ফিরে আসার পর আবার ব্যারোকে ফিরে যাব। আমি আমার কথা রেখেছিলাম। ১৯৮৪ সালে নির্বাচন দিয়েছিলাম। ওই নির্বাচনে সকলে অংশগ্রহণ করলে আমি ব্যারাকে ফিরে যেতে পারতাম। দুঃখের বিষয়ে তখন বিএনপি, জামাত, আওয়ামী লীগ কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। এখানে আছেন মেনন সাহেব, ইনু সাহেবও অংশগ্রহণ করেননি। এর ফলশ্রুতিতে আমাকে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি সৃষ্টি করতে হয়েছিল। আমাকে মাঝে মাঝে বলা হয় স্বৈরাচার। কিন্তু আমার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছিল। দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে আমাকে ক্ষমতা নিতে হয়েছিল। এ জন্য আমাকে ৬টি বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ৬ বছর জেলে ছিলাম। সেখানে কথা বলার একটি লোক ছিল না। পড়ার একটি বই ছিল না। আকাশ দেখতে পাইনি। চাঁদ দেখতে পাইনি। ১২টি ঈদে অংশ নিতে পারিনি। ঈদের দিনে একটি মিষ্টি খেতে চেয়েও পাইনি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বাজেট প্রসঙ্গে বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন এটা তার সর্বশ্রেষ্ট বাজেট। কিন্তু জনগণ মনে করছে এটা নিকৃষ্ট বাজেট। অবাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেট দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি এই বাজেটে যে ঘাটতি দেখিয়েছেন সেটা কি তিনি পূরণ করতে পারবেন? বৈদেশিক ঋণ ও ব্যাংক থেকে তিনি ঘাটতি পূরণের কথা বলেছেন। গত বাজেটের ৬৫% ঘাটতে পূরণ হয়েছে। ৩৫% পূরণ হয়নি। এবারও হবে না। তিনি বলেছেন প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু কিভাবে এই প্রবৃদ্ধি আগামী বছর অর্জন করবেন? এই বাজেটে বিনিয়োগ কর্মসংস্থান কত তার কোনো হিসাব উনি দেননি। এরশাদ বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ছাড়া বাজেটের এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। এসময় সরকারি বিভিন্ন সেক্টরে নিয়োগ বাণিজ্য চলছে দাবি করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, পুলিশের কনস্টবলের জন্য ৫ লাখ টাকা, শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১০ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে এটা দু:খজনক।

ব্যাংকিং খাতকে ক্যান্সার আক্রান্ত বলে আখ্যায়িত করে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ আরো বলেন, মানি মার্কেট ক্যান্সারের আক্রান্ত। ব্যাংকের অবস্থা করুন। সীমাহীন লুটপাট। কারা এটা করল? তারা কি সরকারের চেয়ে শক্তিশালী? তারা কি ধরা ছোয়ার উর্ধে। আমরা তাদের নাম জানতে পারলাম না কেন? অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি ব্যাংকিং খাতে লুটপাটকারীদের নাম প্রকাশ করার আহবান জানান। এরশাদ আরো বলেন, শেয়ার মার্কেটকে অর্থ লুটপাটের প্রাণকেন্দ্র করা হয়েছে। এই শেয়ার মার্কেটের কারণে অসংখ্য মানুষ আত্মহত্যা করেছে।

শিক্ষাখাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বলেন, শিক্ষাখাতে কোচিং বানিজ্য। প্রশ্নফাঁস সবকিছু শিক্ষাকে নষ্ট করছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলেন, আমরা সবাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাই। আমি সিঙ্গাপুর যাই। কারণ দেশের ডাক্তারদের ওপর আস্থা রাখতে পারি না। কেউ ডাক্তারের কাছে গেলেই বড় বড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ধরিয়ে দেয়। আর কমিশন খায়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি রংপুরে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করুন। রংপুর তো আপনারই বাড়ি। স্বামীর বাড়ি মানে নিজের বাড়ী। এটা করা হলে মানুষ খুশি হবে। তিনি বলেন, সিগারেটে ১০০ ভাগ কর আরোপ করুন আর বিড়িতে ২ শতাংশ করার দাবি।

Leave a Reply

Top