You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > বাগেরহাট রামপালে সংখ্যালগু শীল বংশের বারোয়ারী পুকুর দখল 

বাগেরহাট রামপালে সংখ্যালগু শীল বংশের বারোয়ারী পুকুর দখল 

(বাগেরহাট) থেকে সৈয়দ ওবায়দুল হোসেন  ||

বাগেরহাটের রামপালে একটি শীল বংশের পৈতৃক বারোয়ারী পুকুর দখলে নিতে চায় এক প্রভাবশালী প্রতিবেশী। নিজেদের পৈতৃক পুকুর ও জমি রক্ষার দাবীতে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন নিবেদন করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে ভুক্তভোগীরা উল্লেখ করেছেন যে, উপজেলার শিব নগর গ্রামের সমর কুমার শীল গংয়েরা শিব নগর মৌজার জেএল ৫৭, এসএ ১১২ ও ৯১০ নং দাগের ৩১ শতাংশ জমিতে থাকা বারোয়ারী পুকুরটি প্রায় শত বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ওই পুকুরটি প্রতিবেশী আ. রশিদ শেখ ও বারিক শেখ নিজেদের দাবী করেন। এ পর্যায়ে তারা ওই পুকুরের একটি অংশে জোরপূর্বক ঘিরে বালু ভরাট শুরু করেন। এতে বাঁধা দিলে সমর শীলদের পরিবারের সদস্যদের কয়েক দফা মারপিট করেন। তর্কিত ওই পুকুর নিয়ে ৭/৮ বার স্থানীয়ভাবে মাপা হয় এবং সীমানা নির্ধারণ করে পিলার গেড়ে দেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণ ভোগদখলের জন্য সমর শীলরা খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের সুপারিশ করা একটি আবেদন পত্র বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান গত ১৫-১২-২০২১ তারিখ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস গত হলেও তারা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে হতাশা প্রকাশ করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও প্রতিপক্ষ সেটি মানছে না। প্রতিকার চেয়ে আবেদন করার পরে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার সুযোগে প্রতিপক্ষ বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে ১৪৪ ধারার একটি মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মিমাংশা করা হলেও সমস্যার সমাধান মিলছে না বলে ভুক্তভোগীরা দাবী করে আরও বলেন আমরা একই মৌজার আলাদা মানচিত্রের দাগ খতিয়ানে থাকি। অথচ প্রতিপক্ষ তাদের ভোগদখলীয় খতিয়ান ও দাগ উল্লেখ করে আমাদের বিবাদী করে হয়রানিমূলক মামলা করছে।  তারা আমাদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারার মামলা করে আবার তারাই নতুন করে বালি ফেলছে ও কলা কেটে নিয়ে গেছে। সংখ্যালঘু ওই শীল বংশের মানুষেরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে  বলে দাবী করেন। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের আ. রশিদ ও লিয়াকত শেখের সাথে কথা হলে তারা বলেন আমরা ওই পুকুরের মধ্যে আমাদের জমি আছে তাই আমরা বালি ফেলেছি। এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, তর্কিত জমি নিয়ে বাগেরহাটের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ এর একটি মামলা চলমান রয়েছে। শীল পরিবারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান হবে। তাদের প্রতিপক্ষ রশিদ ও লিয়াকত কে পূর্বে দুইবার ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হননি। তারা সময় ক্ষেপণ করেছেন।  আজকে (১২-০৪-২২) আবারও ডাকা হয়েছে।#  

Top