You are here
Home > খেলাধুলা > বাংলাদেশকে চমকে দিতে তৈরি তরুণ লেগ স্পিনার

বাংলাদেশকে চমকে দিতে তৈরি তরুণ লেগ স্পিনার

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

মিচেল স্টার্ক যে বাংলাদেশ সফরে নেই, সেটা গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার দল ঘোষণার সময় জানা গেছে। তাঁর জায়গায় কোনো পেসারকে না নিয়ে লেগ স্পিনার মিচেল সুয়েপসনকে কেন নেওয়া হয়েছে, সেটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাচক ট্রেভর হন্স।

দলে একজন বাড়তি স্পিনার নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আসছে অবশ্যই বাংলাদেশের কন্ডিশনের কথা বিবেচনা করে। ১৪টি প্রথম শ্রেণিতে ৪১ উইকেট নেওয়া সুয়েপসনের এখনো পা রাখা হয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। ২৩ বছর বয়সী এই স্পিনার সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন গত ডিসেম্বরে, শেফিল্ড শিল্ডে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। শেফিল্ড শিল্ডে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে খুব যে দারুণ বোলিং করেছেন, তা নয়। ৪ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ১০টি। ৪৩ গড় আর ৪.৩৫ ইকোনমি বলছে, উইকেটের জন্য তাঁকে যথেষ্ট রান খরচ করতে হয়েছে।
জানুয়ারিতে বিগ ব্যাশ খেলার পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটই খেলা হয়নি সুয়েপসনের। তবুও কেন বাংলাদেশ সফরে তাঁকে নেওয়া? সুয়েপসন অনেক দিন ধরেই আছেন জাতীয় দলের ‘পাইপলাইনে’। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল পারফরম্যান্স (বাংলাদেশে যেটি এইচপি) দলের হয়ে গত বছর ভারত সফর করেছেন। গত বছর জুলাইয়ে একই দলের হয়ে সফর করেছেন শ্রীলঙ্কাতেও। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মূল দলও ছিল শ্রীলঙ্কা সফরে। ভারত সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সুয়েপসন তখন বোলিং করেছেন স্মিথদের নেটে।
সেখানেই সুয়েপসনের বোলিংয়ে মুগ্ধ হন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে লেখা এক কলামে তিনি লেখেন, ‘আমাকে বলতে হবে, কিছু তরুণ স্পিনারকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এক সেশনে কুইন্সল্যান্ডের লেগি সুয়েপসন আমার নজর কেড়েছে।…সে এখনো তরুণ। যেভাবে দ্রুত উন্নতি করছে, এটা ধরে রাখতে পারলে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে তার।’
সুয়েপসনের সামনে জাতীয় দলের দরজাটা প্রায় খুলেই গিয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে। অ্যাডাম জাম্পাকে না নিয়ে ভারত সফরে অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা দেওয়া হয় তরুণ এই লেগ স্পিনারকে। যদিও চার টেস্টের সিরিজে তাঁর সুযোগ মেলেনি একাদশে। অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে দলে রেখেছিল আসলে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের সঙ্গে পরিচয় করে দিতে। জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে থাকার অভিজ্ঞতা ভীষণ রোমাঞ্চিত করেছে সুয়েপসনকে, ‘আগে একটু-আধটু টেস্ট ব্যাটসম্যানদের নেটে বোলিং করেছি। তবে ড্রেসিংরুমে কখনো তাদের সঙ্গে বসা হয়নি। এটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার ছিল। তাদের পাশে বসতে পেরে মনে হয়েছে এটা কত বড় মঞ্চ। একটা ম্যাচও খেলার সুযোগ পাইনি, তবুও বিরাট অভিজ্ঞতা হয়েছে। দলের সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে। অনেক কিছু শিখেছি।’
বাংলাদেশ সফরে সুয়েপসনের টেস্ট অভিষেক হবে কি না, এখনই বলার উপায় নেই। সুয়েপসন বিষয়টি সময়ের হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন, ‘স্কোয়াডে সবার শেষে সুযোগ পেয়েছি। দলে থাকা অন্য দুই স্পিনার (অ্যাশটন অ্যাগার ও নাথান লায়ন) তাই আমার আগেই থাকবে। তবে আপনি জানেন না সামনে কী হবে, কী ধরনের পিচ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।’
ন্যাশনাল পারফরম্যান্স দলে রেখে ভারত-শ্রীলঙ্কা সফরে পাঠানো, পরে স্মিথদের সঙ্গে ভারত সফরে রাখা—হুট করে টেস্টের টুপি না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা হচ্ছে সুয়েপসনকে। পরিচর্যা-পর্ব শেষে এবার বাংলাদেশ সফরে তরুণ লেগির কাছ থেকে তাহলে ফল চাইবে অস্ট্রেলিয়া! সূত্র: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

Leave a Reply

Top