বগুড়া-৪ আসনঃ মাঠে আছেন যারা – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > প্রচ্ছদ > বগুড়া-৪ আসনঃ মাঠে আছেন যারা

বগুড়া-৪ আসনঃ মাঠে আছেন যারা

স্থানীয় প্রতিনিধিঃ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই নির্বাচনী এলাকায় বড় দুই রাজনৈতিক দলের এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশীরা পথসভা, পোস্টারিং, সামাজিক ও দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য দর্শনীয় স্থানে দলীয় প্রধানের ছবির পাশাপাশি নিজের ছবি সংবলিত পোস্টার, ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন তারা।

সরকারদলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চেয়ে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাই মাঠে বেশি তৎপর। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। চলছে সমর্থক, কর্মিবাহিনী ও ভোট ব্যাংক গোছানো। তবে এলাকা ও জনগণের সাথে দূরত্ব কমানোর প্রচেষ্টার সূচনা হয়েছে গত ঈদুল ফিতর নামাজের কোলাকুলি থেকে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বগুড়া-৪ নির্বাচনী আসন নন্দীগ্রাম-কাহালু উপজেলা নিয়ে গঠিত। বর্তমানে এই আসনের সংসদ সদস্য হচ্ছেন বগুড়া জেলা জাসদের সভাপতি এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন তানসেন। তবে এবার নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ দিকে এই আসনে খমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে বিভিন্ন সূত্র থেকে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী, জেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি, মোঃ রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, জজকোর্টের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট হেলালুর রহমান, কামাল উদ্দিন কবিরাজ। কে মনোনয়ন পাবেন তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দলের কারণে নানা কথা শোনা যায়। নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগে প্রকাশ্য কোনো কোন্দল না থাকলেও কাহালু উপজেলায় আওয়ামী লীগে কোন্দল এখনো নিরসন হয়নি।

অন্য দিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, সাবেক সংসদ সদস্য জেড আই এম মোস্তফা আলী মুকুল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রাফি পান্না, জেলা বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পপতি আলহাজ মোশারফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ জিয়াউল হক মোল্লা, নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি আহসান বিপ্লব রহিম, জেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফজলে রাব্বী তোহা।

কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থান থাকলেও দলে কোন্দল আছে। জামায়াত এখানে বিএনপির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। তারা বিএনপির কাছে বেশ জোরালোভাবে এ আসনটি দাবি করছে। জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে যার নাম এসেছে তিনি হলেন জেলা জামায়াতের সাবেক নেতা ও বর্তমান কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী।

অন্য দিকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা যুবসংহতির আহ্বায়ক শাহীন মোস্তফা কামাল (ফারুক), জেলা জাপা নেতা মো: নূরুল আমিন বাচ্চু এবং জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাংবাদিক আবদুস সালাম বাবু।

বর্তমান সংসদ সদস্য তানসেন ছাড়াও জাসদের মনোনয়ন নেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দলের জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল হাকিম বেগ। এ দিকে বাংলাদেশ জনতা পার্টির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মামদুদুর রহমান চৌধুরী এ আসনে জোটগতভাবে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, আগামী নির্বাচনে তাদের দল অংশগ্রহণ করলে মনোনয়ন কে পাবে এখনি চূড়ান্ত করে বলা যাচ্ছে না। তবে বর্তমান সংসদ সদস্যের বিপে অবস্থান শক্ত করতে তারা নানামুখী চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তা ছাড়া দলের নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করে চলছেন। এ ছাড়া দলীয় সব কর্মসূচিতে তারা অংশ গ্রহণ করছেন।

অন্য দিকে, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, আগামী নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন নিতে এখন লড়াই চলছে। সে ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ল্য নিয়ে দুই উপজেলায় নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন প্রত্যাশীরা। অপর দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

এ দিকে জাসদ প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য তানসেন এবারো দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বলা যেতে পারে, আগামী নির্বাচনে সব দল অংশ নিলেও মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির কে হবেন প্রার্থী তা নিয়ে এখনো চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দু’দলের নেতাকর্মীরা তাকিয়ে আছেন দলের হাইকমান্ডের দিকে।

Leave a Reply

Top