You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > প্রেমিকার লাশ ৭ টুকরা করল হিংস্র প্রেমিক

প্রেমিকার লাশ ৭ টুকরা করল হিংস্র প্রেমিক

স্থানীয় প্রতিনিধি : প্রেমিকার লাশ সাত টুকরা করল হিংস্র প্রেমিক। বরগুনার আমতলী পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কের এ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লব তালুকদারের বাসায় আলমগীর হোসেন পলাশ এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি তার প্রেমিকা মালা আকতারকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে এসে ধারালো অস্ত্র (বটি) দিয়ে কুপিয়ে সাত টুকরা করে হত্যা করেছেন। পুলিশ ঘাতক প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বরগুনা সদর উপজেলার গুদিঘাটা গ্রামের মোঃ মন্নান খানের কন্যা মালা আকতারের সাথে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসোন্দা গ্রামের আবদুল লতিফ খানের ছেলে আলমগীর হোসেন পলাশ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে মন দেয়া নেয়া চলছিল। মালা সম্পর্কে আলমগীর হোসেন পলাশের মামাতো শালি। সপ্তম শ্রেণীতে লেখাপড়া অবস্থায় পলাশের সাথে মালার সম্পর্ক হয়। মালা কলাপাড়া মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজে একাদ্বশ শ্রেণীর ছাত্রী।

গত রোববার সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেন পলাশ প্রেমিকা মালাকে নিয়ে আমতলী তার (পলাশ) আত্মীয় এ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবের বাসায় বেড়াতে আসে। তিন দিন ধরে পলাশ এ বাড়িতে অবস্থান করেন। মঙ্গলবার মালা পলাশকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু পলাশ এতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায় মঙ্গলবার দুপুরে আলমগীর হোসেন পলাশ মালা আকতারকে ধারালো অস্ত্র (বটি) দিয়ে কুপিয়ে মাথা, দু’হাত, দু’পা, গলার নিচ থেকে কোমর পর্যন্ত দু’টুকরো মোট সাত টুকরো করে হত্যা করেন। এ সময় ওই বাসায় কেউ ছিল না। ঘাতক পলাশ লাশ সাত টুকরো করে ওই বাসার বাথরুমের মধ্যে দুটি ড্রামে ভরে আটকে রাখে।

এ ঘটনা ঘটিয়ে দুপুরে ঘাতক আলমগীর হোসেন পলাশ আত্মীয় এ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবকে জানান। বিপ্লব কৌশলে আলমগীর হোসেন পলাশকে বাসায় থাকতে বলেন। বিপ্লব আলমগীরকে বাসায় মধ্যে আটকে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে ঘাতক আলমগীর হোসেন পলাশকে গ্রেফতার করে। পরে তার কথিত মতে টয়লেট থেকে দুটি ড্রামে ভরা খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ঘাতক আলমগীর হোসেন পলাশ ঘটনার সত্যতা পুলিশের কাছে স্বীকার করে বলেন, সপ্তম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় আমি মালার সাথে প্রেম করে আসছি। মালার বাবা মা ঢাকা থাকেন। মালার লেখাপড়ার খরচ আমি চালাই। গত রোববার বিয়ে করার জন্য মালাকে নিয়ে আমতলী আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে আসি। মঙ্গলবার সকালে মালা আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। আমি বিয়ে করবো বলে মালাকে আশ্বস্ত করলেও তা মানতে রাজি না। একপর্যায় আমি ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র (বটি) দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করি। এ সময় বাসায় কেউ ছিল না। আমতলী থানার ওসি মো. শহিদ উল্লাহ বলেন খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছি। ঘাতক পলাশকে আটক করেছি। পলাশ ঘটনার সকল সত্যতা স্বীকার করেছে।

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন ঘাতক ঘটনার সকল সত্যতা স্বীকার করেছে। ঘাতক পলাশকে গ্রেফতার করে লাশ উদ্ধার করেছি। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।

 

Leave a Reply

Top