You are here
Home > প্রচ্ছদ > ‘নির্বাচনের সময় কথা না শুনলে কমিশনারকেও জেলে ঢোকাবে’ : ফখরুল

‘নির্বাচনের সময় কথা না শুনলে কমিশনারকেও জেলে ঢোকাবে’ : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কথা না শোনায় আজ তাঁরা ইউএনওকে জেলে ঢোকাচ্ছে। নির্বাচনের সময় কথা না শুনলে নির্বাচন কমিশনারকে জেলে ঢুকিয়ে দেবে। আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র আর ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’

আজ মঙ্গলবার বরিশাল টাউন হলে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন এমপি আর ভোটারবিহীন ভোটের যে সংসদ, সেই সংসদের সংশোধিত সংবিধানে নির্বাচন এই দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’ নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এখন থেকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ছিলেন আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যে কারণে তাঁর সময়ে জাতীয় নির্বাচনে সংসদে গিয়েছিল আওয়ামী লীগের ৩৯ জন সংসদ সদস্য। অথচ আজ আমাদেরকে সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না। ঢাকায় মানিক মিয়া এভিনিউ ডিভাইডার দিয়ে বিভক্ত করাসহ আরো নানাভাবে সমাবেশ করার জায়গাগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। তাদের পক্ষে জনগণ নেই। সভা-সমাবেশ করলে লোক হয় না। যে কারণে আজ সমাবেশের জায়গাগুলো নষ্ট করা হচ্ছে।’

দেশে তিন ধরনের শিক্ষানীতি চলছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে গেলে ১৫-২০ লাখ টাকা লাগে। পরীক্ষার দাবিতে ছেলেরা রাস্তায় নামলে গুলি করে তাদের চোখ অন্ধ করে দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর আবার তারা মিথ্যাচারও করে। বলে যে নিজেদের কোন্দলে নাকি এসব ঘটনা ঘটেছে। তাদের মিথ্যাচার আকাশ ছুঁয়েছে। তারা প্রবৃদ্ধির যে হার দাবি করে তাও মিথ্যা। গবেষণা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এ দেশে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ২-এর বেশি নয়। মিথ্যা বলতে বলতে দেশকে তারা ধ্বংসের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মানুষকে ১০ টাকা কেজির চাল খাওয়ানোর কথা বলে এখন ৫০ টাকায় চাল খাওয়াচ্ছে। সব জিনিসপত্রের দম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পলায়নের কোনো ইতিহাস নেই বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সেই ইতিহাস কেবল আপনাদেরই আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনাদের নেতারা ভারত আর পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবরণের দিনে আপনাদের দলের নেতা বোরখা পরে পালাতে গিয়ে বর্ডারে ধরা পড়েছিলেন, ১/১১-তে আপনারা আমেরিকায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পালিয়ে যাওয়ার কেনো ইতিহাস নেই।’

দলের যুগ্ম মহাসচিব এবং বরিশাল মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বহু নেতা। একটানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজির হন দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

বক্তব্যের শেষপর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন এবং আগামী নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া ও ভোট কেন্দ্রগুলোতে দুর্গ গড়ে তোলার জন্যে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি বিলকিস জাহান শিরিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল (উত্তর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম নান্নু, কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক এমপি বরিশাল (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন, বরিশাল মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হায়দার আলী খান লেনিন, বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিন, বশির আহম্মেদ, আবুল কালাম আজাদ, কামরুজ্জামান রতন এবং শামিমা আকবরসহ আরো অনেকে।

Leave a Reply

Top