You are here
Home > বিনোদন > নায়ক-নায়িকারাই প্রযোজক বাগাতে ব্যস্ত

নায়ক-নায়িকারাই প্রযোজক বাগাতে ব্যস্ত

বিনোদন ডেস্কঃ তিনবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি। বেশ কয়েক বছর ধরে ঈদে এই অভিনেত্রীর কোনো সিনেমা মুক্তি পায় না। তবে ছোট পর্দায় ঠিকই তাঁর দেখা মিলে। গত কয়েক বছর ধরে ঈদের নাটকে অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে। এবারও তিনি একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। ‘মেন্টাল’ নামের এই নাটকে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন হাসান জাহাঙ্গীর

মেন্টাল নাটকের শুটিং কি পুরোটাই শেষ করতে পেরেছেন?
না। অল্প কিছু দৃশ্যের কাজ বাকি আছে। এবারের ঈদে এই নাটক ছাড়াও আরেকটির কাজ করার সম্ভাবনা আছে।
‘মেন্টাল’ নাটকের গল্পটা সম্পর্কে বলুন?
খুব আহামরি গল্প তা বলব না। তারপরও কোথায় যেন একটা বৈচিত্র্য পাবেন দর্শকেরা। নাটকে আমি খুবই সুন্দরী একটা মেয়ে। আমাকে একটা ছেলে খুব ভালোবাসে। কিন্তু সেই ছেলের সঙ্গে আমার বিয়ে হয় না। ছেলেটার মধ্যে একটু পাগলামি স্বভাব থাকে। শেষের দিকে অন্য একটা ছেলের সঙ্গে মেয়েটার বিয়ে হয়। এরপর ঘটতে থাকে অন্য ঘটনা।

বহু বছর ঈদে আপনার কোনো সিনেমা রিলিজ নেই। এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ কাজ করে কি?
আসলে পুরো চলচ্চিত্রশিল্পের অবস্থাই তো এখন খারাপ। আগে বছরে যে হারে সিনেমা মুক্তি পেত, এখন তা অনেক কমে গেছে। ঈদে সিনেমা রিলিজের সংখ্যা তো আরও কম। ভালো গল্পের সিনেমা নেই। হাতে গোনা দু-একটি ট্র্যাকের সিনেমা হচ্ছে। বৈচিত্র্যপূর্ণ সিনেমা কেউ বানাচ্ছেন না। আমি শাবনূর ও মৌসুমী আপুরা একটা সময় অন্য রকম গল্পের সিনেমায় কাজ করেছি। এখন সে ধরনের সিনেমা তো মোটেও হচ্ছে না।
কেন এমন মনে হচ্ছে আপনার?
আমাদের এখানে আগে সিনেমায় ভালো বিনিয়োগকারী ছিল। গুণী নির্মাতার সংখ্যাও ছিল অনেক বেশি। এখন তো অনেক নির্মাতা মারা গেছেন। দু-একজন নির্মাতা যাঁরা আছেন, তাঁরাও আবার ঠিকমতো কাজ পাচ্ছেন না। শিল্পীদেরও কিন্তু কাজে লাগাতে হয়। শিল্পীদের কথা মাথায় রেখে আগে গল্প তৈরি করা হতো, যা এখন একেবারে নেই বললেই চলে। ওই যে ডিজিটালের নাম করে সস্তা সব সিনেমা বানানো হচ্ছে। কে কত কম বাজেটে সিনেমা বানাতে পারে এবং কে কীভাবে প্রযোজককে খুশি করতে পারে, তা নিয়েই ব্যস্ত যেন সবাই। আগে মাল্টি কাস্টিং নিয়ে কাজ হতো। এখন তো নামমাত্র দু-একজন শিল্পী নিয়ে কাজ হয়। এসব শিল্পীর কতটুকু দর্শক গ্রহণযোগ্যতা আছে, তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাতে রাজি নই। পরিচালকেরাও কাজ করার ক্ষেত্রে প্রযোজকের সঙ্গে অকারণে সমঝোতা করে যাচ্ছেন। নামমাত্র এখন সিনেমা হচ্ছে।
আপনাদের সময় কীভাবে সিনেমা তৈরি হতো তাহলে?
আমাদের সময় এবং তারও আগে শিল্পী মাথায় রেখেই গল্প তৈরি হতো। এরপর পরিচালক ওই সব শিল্পীর সঙ্গে কথা বলতেন। শিল্পীদের শিডিউল অনুযায়ী শুটিংয়ের দিনক্ষণ ঠিক করতেন। এখন তো দেখা যায়, নায়ক-নায়িকারাই প্রযোজক আনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বিশেষ করে নতুন নায়িকারা তাদের বন্ধুদের প্রযোজক বানাতে শুনি। সেসব সিনেমার প্রধান কাস্টিং থাকেন নতুন নায়িকারাই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ-ও দেখা যায়, এসব নতুন নায়িকার সঙ্গে প্রযোজকের প্রেমের সম্পর্ক আছে। এসব প্রযোজকের মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পের কোনো লাভ হয় না। একটা সময় দেখা যায়, নায়িকারূপী ওই সব গার্লফ্রেন্ড ওই প্রযোজককে বিয়ে করে সিনেমাও ছেড়ে দেন।
আপনি কতটা নিশ্চিত?
শুধু আমি কেন, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট সবাই এসব জানেন। অনেক সিনেমায় কাজ করার পর আমরা এফডিসিতে গাড়ি নিয়ে ঢুকতাম। আর এখন তো সিনেমায় কাজ শুরুর আগেই নায়িকারা গাড়ি নিয়ে এফডিসিতে ঢুকছেন!
তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া সত্ত্বেও আপনাকে যেভাবে সিনেমায় নিয়মিত পাওয়া যায়নি।
শিল্পীর অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সে অভিনয়ে আরও দক্ষ হয়। তখন বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে একজন অভিনয়শিল্পী কাজ করে থাকেন। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের সব দেশে আমরা এমনটা দেখি। দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য যে একমাত্র আমাদের দেশে যখন একজন শিল্পী অভিনয়ে আরও পরিণত হন তখনই তাঁর কাজ কমে যায়।

Leave a Reply

Top