You are here
Home > জাতীয় > ‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে মানবিক বিপর্যয় রোধ করা যাবে না’

‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে মানবিক বিপর্যয় রোধ করা যাবে না’

স্টাফ রিপোর্টারঃ সারা বছর নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে মানবিক বিপর্যয় রোধ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজারে মতিঝর্ণা ও বাটালি হিলের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি দেখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের দুটি পাহাড়ে বসতি দেখে সাংবাদিকদের আরও বলেন, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে দেড় শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চারজন মারা গেছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাজিক হাহাকার এবং এটা থাকবে। শুধু ত্রাণ বিতরণ, লাশ সরানো কিংবা উদ্ধার কার্যক্রম চালালে চলবে না। এ জন্য আমাদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। সারা বছর নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে মানবিক বিপর্যয় রোধ করা যাবে না।’
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সেখানে উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা সহ্য করা হবে না। কারণ, লাখ লাখ মানুষের জীবনের ব্যাপার আছে। পাহাড়ে তাঁদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আমি রাঙামাটি ও বান্দরবানে গিয়েছি। সেখানেও অনেকে মারা গেছেন। কিন্তু মানুষ বেঁচে থাকলে তো জীবিকা। জীবন রক্ষার জন্য জোর করে সরিয়ে নিতে হবে। এটা আমি উচ্ছেদ বলব না, বলব উদ্ধার। ঝুঁকিপূর্ণ জীবন থেকে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে উদ্ধার করতে হবে। আবার তাঁদের বিকল্প হিসেবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে বলেন, ‘মেয়র সাহেব, আপনি এবার বাজেটে যে বরাদ্দ পাবেন, তাতে আপনার প্রথম কাজ হবে, চট্টগ্রামের অগণিত দুর্ভোগকবলিত মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে উদ্ধার করা। আপনি মেয়র হওয়ার পরও আপনাকে আমি বলেছি, আপনার প্রথম কাজ হলো জলাবদ্ধতা নিরসন করা। কিন্তু রাতারাতি পরিবর্তন হবে না। চট্টগ্রামের মেয়র যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে তো অনেক পরিবর্তন হবে। মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে একটা উদ্যোগ নিয়েছে, সেটারও রেজাল্ট এসেছে।’
জবাবে মেয়র নাছির বলেন, ‘আমি এর মধ্যেই অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি।’ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আবার বলেন, ‘গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি বছর বর্ষা শুরুর আগেই মৌসুমি বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা। যেকোনো প্রকারে জলাবদ্ধতা দূর করতে হবে।’
মন্ত্রীর সঙ্গে সিটি মেয়র ছাড়াও স্থানীয় সাংসদ আফসারুল আমীন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, রাউজান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী, লালখানবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এফ কবির আহমেদ প্রমুখ। পরে বাটালি হিল থেকে মন্ত্রী সরাসরি চলে যান ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তর হালিশহরের ফইল্যাতলি বাজার এলাকায়। সেখানে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

Leave a Reply

Top