ধুম্রকাঠি এবং আমাদের ক্ষতি – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > খোলা আকাশ > ধুম্রকাঠি এবং আমাদের ক্ষতি

ধুম্রকাঠি এবং আমাদের ক্ষতি

মনির মুন্‌না

বর্তমান সময়ে কিশোর থেকে শুরু করে তরুন, যুবক, বৃদ্ধ এমনকি মহিলারাও সিগারেটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছেন। সিগারেট যে সাস্থ্যের জন্য ভীষন ক্ষতিকারক সেটি আজ পরীক্ষিত, প্রমানিত এবং  সবর্জনস্বীকৃত। তবে অনেকেই এটিকে স্মার্ট হওয়া এবং কষ্টকে দূর করার প্রধান উপকরন মনে করেন।  প্রকৃতপক্ষে ধূমপান করে এসব কিছুই হওয়া যায়না। উল্টো ধূমপান করে ধূমপায়ীরা নিজের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেন।

কিভাবে সিগারেট আসলো

প্রায় ৮০০০ বছর আগে পৃথিবীতে তামাকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে ৬০০০ বছর আগে মধ্য আমেরিকায় তামাকের চাষাবাদ শুরু হয়। এটিকে প্রথম দিকে ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা হতো। খীষ্টপূর্ব ১০০০ শতাব্দির দিকে মায়ান সভ্যতার মানুষজন ধূমপান এবং তামাক পাতা চিবানো শুরু করে। মায়াম উপজাতির মানুষেরা তামাকের সঙ্গে আরও অনেক ভেষজ গাছ-গাছড়া মিশিয়ে অসুস্থ ও আহতের সেবা করতো। প্রাচীন গুহাচিত্র দেখে বোঝা যায় মায়ান পুরোহিতরা ধূমপান করতো। মায়ান সম্প্রদায়ের লোকজন বিশ্বাস করতো ধূমপানের মাধ্যমে আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। আস্তে আস্তে মায়ানরা সমগ্র আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে সাথে সাথে তাদের মাধ্যমেই তামাক গাছ সমগ্র আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে।

ইউরোপিয়ানদের মধ্যে সর্বপ্রথম তামাক গাছ আবিষ্কার করেন বিখ্যাত নাবিক ও আবিষ্কারক কলম্বাস। ১৪৪২ সালে তিনি যখন সান সালভাদরে গিয়ে পৌছান তখন সেখানকার লোকজন তাকে দেখে মনে করেন ঈশ্বর প্রেরিত স্বর্গীয় জীব। তারা তাকে খুশি করতে কাঠের তৈরী অস্ত্র, ফলমূল ও শুকনো তামাক উপহার দেন। কলম্বাস অন্য সবকিছু গ্রহন করলেও তামাক পাতাগুলো ফেলে দেন। ঠিক ওই বছরই বড়রিগো ডি যেরেয (Rodrigo De Jerez) কিউবায় আসেন এবং ইউরোপিয়ানদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম ধূমপান করেন। তিনি ছিলেন স্পানিশ। ধূমপান করে তিনি সবাইকে চমকে দেন। একজন মানুষের নাক ও মুখ দিয়ে ধোয়া বের হওয়া দেখে মানুষজন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতেন। তাকে ধূমপানরত অবস্থায় অনেকেই দেখে মনে করেন তাকে ভূতে ধরেছে ! সেজন্যে তাকে সাত বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। জেলে অবশ্য তিনি বন্দিদের সঙ্গে ধূমপান চালিয়ে যান। দিনে দিনে তামাকের চাহিদা বাড়তে থাকে। এভাবেই একসময় তৈরী হয় সিগারেট।

১৮১৫ সালের দিকে সিগারেট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। “The House Of Parliament” এ সিগারেট খাওয়ার সুবিধার্থে আলাদা রুমের বন্দোবস্ত করা হয়। তবে, ১৮২৮ সালের দিকে বিজ্ঞানিরা নিকোটিন আবিষ্কার করেন। যার ফলে সকলে বুঝতে পারে এটি একটি মারাত্মক বিষ। প্রসঙ্গতো উল্লেখ্য যে, ১৮৫২ সালের দিকে সিগারেট জ্বালানোর সুবিধার জন্যে দিয়াশলাই তেরী হয়।

সিগারেটের ক্ষতি সম্পর্কে সর্বপ্রথম প্রচারণা

১৯৫০ সালের দিকে সিগারেটের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সর্বপ্রথম প্রচারণা শুরু হয়। তখনকার গবেষনায় ধরা পড়ে ক্যান্সার আক্রান্ত ৯৫% মানুষই ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে ধূমপানে আসক্ত। ১৯৮০ সালের দিকে সিগারেট সম্পর্কে মানুষের দৃর্ষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে এবং এটির দামও হু হু করে বাড়তে থাকে।

১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ দ্বীপ গার্নসে সিগারেটের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়।

২০০৩ সালে প্যাকেটের গায়ে বড় করে সতর্ককরন লেখা যেমন- “Smoking Cause Cancer, Smoking Kills, Smoking Highly Injurious To Health, Smoking Harmful To Health” লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়।

২০০৪ সালে আয়ারল্যান্ডে প্রকাশ্যে ও কর্মক্ষেত্রে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়।

সর্বশেষ ২০১৭ সালে ফিলিপাইনে প্রকাশ্যে ধূমপানের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

শেষ কথা

ধীরে ধীরে বিশ্বের সব দেশে ধূমপান বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে। তবে সবচেয়ে কষ্টের কথা হচ্ছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে এটির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। যদিও বিভন্ন আইন রয়েছে তবে সেগুলো কাগজ কলমেই মধ্যেই সীমাবদ্ধ অথবা আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব রয়েছে। এটির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বোঝাতে হবে শখের বশবর্তী হয়ে পয়সা দিয়ে বিষ পান  করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ক্ষতি ছাড়া ধূমপানে কোন উপকার নেই। ধূমপান অকাল মৃত্যুর জন্যেও দায়ী। ধূমপান শুধুমাত্র নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেনা, পুরো পরিবার, পরিবেশ এবং দেশের ক্ষতি করে। তাই সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচতে আজি ধূমপানকে “না” বলা উচিৎ।

Leave a Reply

Top