You are here
Home > প্রচ্ছদ > ধান্দাবাজি করে মন্ত্রিত্ব চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী

ধান্দাবাজি করে মন্ত্রিত্ব চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ধান্দাবাজি করে ভবিষ্যতে রাজনীতি চলবে না, মন্ত্রিত্ব চলবে না, এমপিগিরি চলবে না। যাঁরা দেশকে নেতৃত্ব দেবেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং দেশকে পরিচালনা করবেন, তাঁদের আরও বেশি জানতে হবে। আরও বেশি বই পড়তে হবে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘এই খানে আমি বক্তৃতা দিলাম আধা ঘণ্টা। অথচ ৩০ সেকেন্ডও পড়ে আসিনি। এই হলো আমাদের বাস্তব অবস্থা। এভাবে চলবে না। যে যেখানে আছেন, পড়তে হবে, অবশ্যই শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আমাদের আরও গুরুত্ব দিতে হবে।’
আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রাজধানী বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইস্ফেন্দিয়ার জাহেদ মিলনায়তনে এক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ কথা বলেন। পাঠাভ্যাস কর্মসূচির সেরা সংগঠকদের সম্মাননা দিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পুরস্কার দেওয়ার এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ভালো জ্ঞান, প্রযুক্তি, ভালো দক্ষতা না থাকলে কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভবিষ্যতে দেওয়া যাবে না। এক ঘণ্টা বক্তৃতা দিলে ৩০ ঘণ্টা পড়া উচিত। এক হাজার মানুষের সামনে বক্তৃতা দিলে, তখন এক হাজার মানুষের এক হাজার ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। এই সময়টা যাতে ফলপ্রসূ করা যায়, সেই অনুসারে বক্তাকে আগে ভালো করে ৩০ ঘণ্টা পড়া উচিত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ব্যক্তিদের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তাঁর পকেটের কলমগুলো দেখিয়ে বলেন, ‘এটা মানুষকে বিশ্বাস করানোর জন্য যে দেখেন পকেটে এতগুলো কলম। আজকেও একজন জিজ্ঞেস করেছে, আপনার পকেটে এতগুলো কলম কেন? আমি বললাম, ভাই, অশিক্ষিত লোক মন্ত্রী হইছি তো, এটা দেখে হয়তো তাঁরা বিশ্বাস করবে নিশ্চয়ই অনেক গুরুত্বপূর্ণ লোক। তাই কয়েকটা কলম পকেটে রাখি।’
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের (সেকায়েপ) পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ২৫০টি উপজেলার ১২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বই পড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বই পড়ানোর কাজে সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব নেন একজন শিক্ষক বা লাইব্রেরিয়ান। ২০১৬ সালে সারা দেশে ১ হাজার ১৮৪ জন সংগঠক সেরা সংগঠক হিসেবে নির্বাচিত হন।
আজকের অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের ৪৪টি উপজেলার ১৭৫ জন সেরা সংগঠকদের পুরস্কার দেওয়া হয়। সম্মাননা হিসেবে নির্বাচিত সেরা সংগঠকদের চার হাজার টাকার ব্যাক ড্রাফট, বই ও সনদ দেওয়া হয়।
সেকায়েপ প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহামুদ-উল-হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Top