You are here
Home > জাতীয় > দেশে নদী থাকবে না বলে শঙ্কা সংসদীয় কমিটির

দেশে নদী থাকবে না বলে শঙ্কা সংসদীয় কমিটির

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের নদী রক্ষার জন্য একটি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন থাকলেও তার কার্যক্রম নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির সভাপতি মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের নদীগুলো রক্ষায় সুদূর প্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। তা না হলে দেশের নদী থাকবে না এবং দেশ বাঁচবে না।

সংসদ ভবনে আজ অনুষ্ঠিত নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৫৩তম বৈঠকে উপস্থাপিত ৫২তম বৈঠকে কার্যপত্রে এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। কার্যপত্রে দেখা যায় কমিটির সভাপতি বলেছেন, নামেই নদী রক্ষা কমিশন। তাদের কোনো কাজ চোখে পড়ে না। দেশের নদীগুলো রক্ষায় সুদূর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। নদীসমূহের ডিজিটাল ও কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজ তৈরি এবং সারা দেশের নদীসমূহের তথ্য সংগ্রহের জন্য স্ব স্ব এলাকার লোক নিয়োগ করার পক্ষে মত দেন তিনি। একইসঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এর জমি সংক্রান্ত মামলাগুলো ষ্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত নিস্পতির সুপারিশ করেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার স্বীকার করেন, দেশের নদীগুলো রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন থাকলেও কাজ করতে পারছে না তারা। বিদ্যমান আইনের ত্রুটির কারণে বেদখল নদী ও নদী তীর দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। এজন্য ১৩টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের কাজ করতে হয় বলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে হয় নদী কমিশনকে। এছাড়া নদী কমিশনের নিজস্ব ভবন ও লোকবল নেই বলেও কমিটিকে অবহিত করেন তিনি।

এসময় নদী কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, জনবল পেলে কমিশনের কাজে গতিশীলতা আসবে এবং আইনটি সংশোধিত হলে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে দেশের নদীসমূহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। বৈঠকে প্রথমে সারা দেশের নদী ও খালগুলো সরেজমিন চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়। কমিটি নদী কমিশনকে কার্যকর করতে মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটি সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম।  নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, মো. নূরুল ইসলাম সুজন, এম আব্দুল লতিফ, রণজিৎ কুমার রায়, মমতাজ বেগম অ্যাড্ভোকেট এবং বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
আজকের বৈঠকে নৌ বন্দরগুলোতে আউট সোর্সিং বন্ধ করে স্থায়ী জনবল নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বিআইডব্লিউটিসির আওতাধীন নৌ বন্দরগুলোতে আউট সোর্সিং-এর মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংগ্রহ করায় একদিকে যেমন অর্থের অপচয় হচ্ছে, অপরদিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন কমিটির সদস্যরা। একইসঙ্গে বন্দরের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের ঝুঁকিভাতা প্রদানের সুপারিশ করে কমিটি।

সংসদ সচিবালয় জানায় বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সমুদ্রপথে বাণিজ্যের প্রসারসহ আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং মংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত নয় বছরে (২০০৯ হতে জুন ২০১৭ পর্যন্ত)  ৪২৩ কোটি ৬৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বৈঠকে আরো জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ-কমান্ডোদের দুঃসাহসী অভিযানকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি চলচ্চিত্র নির্মানের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বৈঠকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও  মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Top