তেঁতুলিয়ায় বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল করলো বিবাদীগণ – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > তেঁতুলিয়ায় বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল করলো বিবাদীগণ

তেঁতুলিয়ায় বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল করলো বিবাদীগণ


মুুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় :

পঞ্চগড় জেলাধীন তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধায় বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিবাদী আজিজার, সহিদুল এবং তহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত ৫এপ্রিল/২০২০ রবিবার উল্লেখিত গত ইং ২৮/১০/২০১৯ তারিখে ১২৩/১৯ নং মামলার গত ইং ২৮/১১/২০১৯ তারিখের যুগ্ম জেলা জজ আদালত পঞ্চগড় শ্যাম সুন্দর রায়ের স্বাক্ষরিত আদেশ নামার নকলকে তোয়াক্কা না করে করোনা ভাইরাস মহামারীতে চেয়ারম্যানের ইন্ধনে ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়ে বাদী আব্দুল হামিদের ফলজ, বনজ, টিনের ছাপড়া, বাংলা খড়ের ঘর এবং পাথর ভাঙ্গা মেশিন দখল করে চৌহদ্দিতে টিনের ঘেরাও করেন।


অত্র ১২৩/১৯ নং মামলার বাদী আব্দুল হামিদ জানান, আমি প্রায় দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাবান্ধা মৌজার জে.এল.নং-১এর এস.এ ১০৯নং খতিয়ানের এস.এ ৮৮নং দাগের মোট জমি ২.১৪একরের মধ্যে ১.০০একর জমিতে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে নিয়ত ছিলেন। যার দলিল নং ২২৯৬/১৮ তারিখ: ০২/১০/২০১৮ইং এবং দলিল নং ২৬৯৮/১৮ তারিখ: ১৩/১১/২০১৮ইং মূলে ০.৬৫একর জমি এবং বায়নানামা ও শহিদুল ইসলাম পিতা-মৃত মফিজ উদ্দিনের সেচ্চায় মৌখিক ভাবে দেয়া জমি মিলিয়ে মোট ১.০০একর জমি ভোগদখলে থাকাবস্থায় ৮৪/২০১৯ নং মামলার ১নং বিবাদী কুদরত-ই-খুদা(মিলন) চেয়ারম্যানের ইন্ধনে আদালত কর্তৃক ১২৩/১৯ নং মুল মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া কালতক অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দ্বারা বারিত বিবাদী আজিজার, সহিদুল, তহিদুল জোরপূর্বক বাদীর দখলকৃত জমি ঘেরাও করে নেন।


আব্দুল হামিদ আরোও জানান, আমি গত ইং ০৯/০২/২০১৯ তারিখে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় ৩৭৪নং জিডির আবেদন করিলে তারই প্রেক্ষিতে এ.এস.আই সাজেদুর রহমান ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১০৭/১১৭(সি) ধারা মোতাবেক গত ইং ১২/০২/২০১৯ তারিখে ২২/১৯নং প্রতিবেদনে আব্দুল হামিদ দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগদখল করেন উল্লেখ করা হয়েছে। এটাও উল্লেখ করেন যে, বিবাদী পক্ষ বাদীর শান্তিপূর্ণ ভোগদখলীয় জমিতে বেদখল দেওয়াসহ বিঘ্ন ঘটানো ও জমিতে থাকা ঘরবাড়ি, পাথরের সাইড, পাথর ভাঙ্গা মেশিন, গাছপালা, সীমানার খুটি ভাংচুর করাসহ তথায় জোরপূর্বক ঘরবাড়ী নির্মাণ করিয়া যেকোন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা সংঘটিত হওয়ার আশংকা রয়েছে তদন্তকালে ঘটনার প্রাথমিকভাবে সত্যতার কথা উল্লেখ করেন।


এছাড়াও বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, পঞ্চগড় মহোদয় কার্যালয়ের গত ২৩/০৫/২০১৯ইং তারিখের ২২৭/১৯ নং প্রসেস মোতাবেক এম.আর ৮৪/২০১৯নং মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভার:) মো: খমির উদ্দিন চৌধুরী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাদী আব্দুল হামিদ দখলে ছিলেন কিস্তু বিবাদীদের ভোগদখলে ছিলেন না। তিনি প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করেন, বিরোধীয় জমি ব্যক্তি মালিকানা হওয়ায় সরকারি কোন স্বার্থ জড়িত নাই।


স্থানীয় ঝাড়োয়া পাড়া গ্রামের মো: শহিদুল ইসলাম পিতা-মৃত মফিজ উদ্দিন জানান, আব্দুল হামিদ দীর্ঘদিন ধরে উপরোক্ত জমিটিতে ভোগদখলে ছিলেন। পরবর্তীতে উক্ত জমিটি মিলন চেয়ারম্যান তার নিজের নামে ক্রয় না করে সহিদুল, আজিজার, তহিদুলের নামে ক্রয় করে আব্দুল হামিদের ভোগদখকৃত জমি সহ তার ক্রয়কৃৃত জমি জোরপূর্বক রাতারাতি দখলপূর্বক টিনের ঘেরাও করে নিয়েছেন। আমার জমিটি খুশিতে আব্দুল হামিদকে দেওয়ার কারনে, আমার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ২৬শতক জমিও তারা দখল করে নিয়েছেন। তিনি আরোও বলেন, আমার তো কোন লোকজন নেই যে, আমি মারামারি করে জমি দখল নিব। তাই আইনের আশ্্রয় নিয়ে জমিটি দখল নিতে হবে।


এ ব্যাপারে ১নং ইউপির ১নং ওয়ার্ড সদস্য মো: রইসদ্দিন জানান, জমিটি আব্দুল হামিদের দখলেই ছিলো। কিভাবে সহিদুলেরা দখল করলো বলতে পারতেছিনা। চেয়ারম্যানের কথা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, শুনতেছি চেয়ারম্যানই নাকি দখল করেছেন। তবে সঠিক টা জানিনা।


এতে ১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা (মিলন) কে মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি জানান, সহিদুল জমিটি ক্রয় করেছে দখল তো করবেই, আব্দুল হামিদ একটা বাটপার, কত বার সে জমি দখল করবে বলে ফোনটি কেটে দেয়। আরোও কিছু জিজ্ঞেস করার থাকলেও তিনি তার সুযোগ দেননি।


অপরদিকে তেতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহিরুল ইসলাম জানান, উক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে এবং ঘেরাও করেছে এটা অনেক পুরোনো ইস্যু এ ব্যাপারে আদালতে মামলা হয়েছে। উক্ত বিরোধীয় জমিতে প্রস্তাবিত “বাংলাদেশ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র” সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে, এই সম্পর্কে ওসি মহোদয়কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, “বাংলাদেশ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র” করার জন্য বাংলাদেশ সরকার বরাবরে প্রস্তাব করা হয়েছে, সরকার যদি অধিগ্রহন নেয় তাহলে বিরোধীয় জমির মালিককে টাকা দিয়ে জমিটি অধিগ্রহন নিয়ে নিবে। আর যদি অধিগ্রহন না নেয় তাহলে বিরোধীয় জমির যে প্রকৃত মালিক তারই মালিকানাধীন থাকবে।

Leave a Reply

Top