ঢাকা হতে পারে ‘পানির বাগান’ – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > জাতীয় > ঢাকা হতে পারে ‘পানির বাগান’

ঢাকা হতে পারে ‘পানির বাগান’

প্রথম আলো কার্যালয়ে আজ শনিবার ‘নদীর দূষণমুক্ত পানি চাই: উপায় ও আশু করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকেরা।

স্টাফ রিপোর্টারঃ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, টঙ্গী খাল, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীঘেরা নগর ঢাকা। এর ভেতরে জালের মতো এঁকেবেঁকে আছে অন্তত ৫২টি খাল। এত নদী আর খাল বুকে জড়িয়ে আর কটা শহর আছে এ বিশ্বে? কিন্তু এই অসামান্য নগরের জলাশয়গুলো দূষণে বির্পযস্ত। খালগুলোর বেশির ভাগই এখন অদৃশ্য।

‘নদীর দূষণমুক্ত পানি চাই: উপায় ও আশু করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ আলোচকেরা বলেন, নদী ও খালের দূষণ ও দখল রোধ অবশ্যই সম্ভব। এই নগরকে সত্যিই ‘পানির বাগান’ বানানো যায়। ঢাকাও হতে পারে আরেকটি ‘ভেনিস’। এর জন্য আর কথা নয়, দরকার কাজের। চাই সমন্বিত পরিকল্পনা, এর বাস্তবায়ন, সুষম ব্যবস্থাপনা আর সর্বোপরি দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
আজ শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও প্রথম আলো।
বৈঠকে খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও বুয়েট অ্যালামনাইয়ের সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘লন্ডনের টেমস নদীর দূষণে ভয়াবহ কলেরা দেখা দিয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় সেই নদী তার হাল ফিরে পেয়েছে। ঢাকার নদী-খাল রক্ষায় আমরা চরম ঔদাসীন্য দেখিয়েছি। তবে এর হাল ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আমাদের হাতে সময় আছে। এসব জলাশয়ের পানির মান ফিরিয়ে এনে ব্যবহার করে তোলা সম্ভব।’
প্রবীণ শিক্ষাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী তাঁর এই আশার কথা বলার পেছনে উদাহরণও তুলে ধরেন। বুড়িগঙ্গার দূষণের অন্যতম উৎস হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পের স্থানান্তর, কিংবা হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি খাল উদ্ধার করে সেখানে দৃষ্টিনন্দন পরিসর সৃষ্টি—এগুলোই সেই উদাহরণ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে যে অনেক কিছুই সম্ভব, এসব তারই প্রতিফলন। আর ঢাকার নদী-খাল দূষণমুক্ত হলে তা সারা দেশের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করবে।
বুয়েট অ্যালামনাইয়ের মহাসচিব সাদিকুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘নদীর বিপর্যয় আমাদের জাতীয় জীবনের বিপর্যয়। এর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। আর দরকার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।’
কেমন করে সৌন্দর্যমণ্ডিত জলাশয়গুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হলো, বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপনায় এরই ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন বুয়েটের পানিসম্পদ বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মতিন। তিনি বলেন, শিল্পদূষণ, গৃহস্থালি বর্জ্য, পয়োবর্জ্য নগরের আশপাশের নদীগুলোর বিপর্যয়ের মূল কারণ। জলাশয়ের আকার এখন চরম রূপ ধারণ করেছে। নদী-খালের দখল হওয়া জমি বিক্রি হচ্ছে উচ্চ মূল্যে। আবদুল মতিন বলেন, নদীকে ভালো রাখার বড় উপায় এর কর্মকাণ্ড বাড়ানো। পরিবহন ও যাত্রী পরিবহনের অবারিত সুযোগ আছে ঢাকার নদীপথে। এর সুষম ব্যবহার দরকার।
কেমন করে হবে সেই স্বপ্নের ঢাকার প্রশান্ত জলাশয় ফিরিয়ে আনা? একেবারে সুনির্দিষ্ট স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিশদে তুলে ধরেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা ও এর সংশ্লিষ্ট নদী প্রবাহের দূষণের অন্যতম উৎস পয়োবর্জ্য। এর দূষণ কমাতে এক থেকে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডাইভারশন-কাঠামোর মাধ্যমে বুড়িগঙ্গার উত্তর তীর থেকে পাগলায় পয়োশোধনাগারে নিয়ে যেতে হবে পয়োবর্জ্য। কামরাঙ্গীর চর, কেরানীগঞ্জ ও পশ্চিম নারায়ণগঞ্জের পয়োবর্জ্যের ব্যবস্থাপনা দরকার। বালু ও শীতলক্ষ্যার দূষণের কমাতে দাশেরকান্দিতে পরিকল্পনাধীন পয়োশোধনাগার দ্রুত নির্মাণের ওপর জোর দেন এই পানি বিশেষজ্ঞ।
দূষণের বড় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা, দূষণকারীর জরিমানা, নদীর মালিকানা সুনির্দিষ্ট করাসহ একগুচ্ছ পরামর্শ দেন মুজিবুর রহমান।
এখনকার দূষিত সব নদী-খালের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি পরিকল্পিত স্বপ্নের জলাশয়ের বেশ কিছু চিত্র তুলে ধরে চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন স্থপতি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদস্যসচিব ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, ‘ঢাকা জলাকীর্ণ শহর ছিল। আবারও সেই ঢাকাকে ফিরিয়ে আনা যায়। এ জন্য আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে। সেই স্বপ্ন দেখার ধৃষ্টতা আমাদের আছে।’ তাঁর উদাহরণে সেই হাতিরঝিলের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু পানি পরিসরের উদাহরণ উঠে আসে। সেসবের মধ্যে আছে নড়াই খাল থেকে বালু নদ, হাতিরঝিলের সঙ্গে ধানমন্ডি লেক, নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইল খাল। তিনি বলেন, এসব জায়গাকে হাতিরঝিলের চেয়েও সুন্দর করে গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকা অমিত সম্ভাবনার শহর। এটি প্রকৃতি শিক্ষার জায়গা হতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সব সময় শুনি ভূমিদস্যুরা ভূমি দখল করছে। শুধু শুনি, কিন্তু একজন ভূমিদস্যুরও নাম শোনা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, আশুলিয়ার বিশাল প্লাবনভূমিতে অজস্র সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। একটি সাইনবোর্ডও যদি রাজউক সরাতে পারত, তবে তাদের অস্তিত্ব আছে বলে মনে হতো।
বৈঠকের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। বক্তব্য দেন রাজউকের চেয়ারম্যান বজলুল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক আখতার মাহমুদ, স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক কাজী এম আরিফ, বুয়েট অ্যালামনাইয়ের সচিব (মেম্বার সার্ভিসেস) মাহতাব উদ্দিন, ঢাকা ওয়াসার উপদেষ্টা আবুল কাশেম, বুয়েটের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ইশরাত ইসলাম, বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ বিভাগের পরিচালক সত্য প্রসাদ মজুমদার, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার মনজুর মোরশেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সুলতান আহমেদ এবং ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শহীদুল ইসলাম।

Leave a Reply

Top