You are here
Home > নারী ও শিশু > টিটেনাসের টিকা : বাঁচতে হলে জানতে হবে

টিটেনাসের টিকা : বাঁচতে হলে জানতে হবে

টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ যা প্রধানত মাংসপেশী ও স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। প্রাণঘাতী এই সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াটির নাম ক্লসট্রিডিয়াম টিটানি। এর বাসস্থান হল মাটি ও ময়লা আবর্জনা। যে কোন ছোটখাটো কাটাছেঁড়ার মধ্য দিয়ে এটি মানুষের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে। মানবদেহে এসে এটি এমন একটি টক্সিন তৈরী করে যার প্রভাবে স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয় এবং চোয়াল ও কিছু নির্দিষ্ট স্থানে মাংসপেশীর সংকোচন ঘটে। টনিক আপনার জন্যে নিয়ে এলো টিটেনাসের বিস্তারিত।

টিটেনাসের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে মাথাব্যথা, মাংসপেশীর আড়ষ্টতা যা চোয়াল থেকে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে ঘাড়, তারপর হাত, পেট ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও ঢোক গিলতে সমস্যা হওয়া, অস্থিরতা, জ্বর, ঘেমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় মুখের পেশী শক্ত হয়ে গিয়ে এক ধরণের বিচিত্র মুখভঙ্গী তৈরী হতে দেখা যায়। যথাসময়ে চিকিৎসা না হলে টিটেনাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর আশংকা রয়েছে।

ধনুষ্টংকারের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে এমনকি মাসখানেকও লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ছোট একটি ক্ষত বা কাঁটার খোঁচার কথা ভুলে যাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। আর এ কারণেই টিটেনাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরী, যাতে আঘাত সামান্য হলেও আমরা এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাক্সিনটিকে উপেক্ষা না করি। এটি টিটেনাস সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার টক্সিনের বিরুদ্ধে আমাদের দেহকে সুরক্ষিত করে এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ থেকে বাঁচায়।

বাংলাদেশে ই,পি,আই (EPI) শিডিউল অনুযায়ী নবজাতকের ৬ থেকে ১৪ সপ্তাহ বয়সের মধ্যে টিটেনাসের তিনটি টিকা দেয়া হয়। এছাড়া গর্ভকালীন ও নবজাতকের টিটেনাস থেকে রক্ষা পেতে ১৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে কিশোরীদের জন্য আরো ৫ ডোজ টিটেনাস ভ্যাক্সিন দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ময়লা কোন কিছু দিয়ে (বিশেষ করে লোহা জাতীয় কিছু) কেটে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ টিটেনাসের বুস্টার ডোজ দেয়া উচিত।

টিকা দেয়ার পর সেই স্থানে ব্যথা, লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া, জ্বর, গা ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। এগুলো সাধারণত আপনাতেই সেরে যায়। তবে কখনো গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা যেতে পারে্‌, যেমন শ্বাসকষ্ট, বমি, রক্তচাপ খুব কমে যাওয়া, পুরো শরীর লাল হয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

রোগ প্রতিষেধকের যথোপযুক্ত ব্যবহার আমাদের অনেক প্রাণঘাতী জীবাণুর হাত থেকে বাঁচাতে পারে। তবে তার জন্য চাই সম্ভাব্য রোগ ও তার প্রতিরোধে করণীয় কি তা জানা। তাই সচেতন হোন, কারণ সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Top