You are here
Home > জাতীয় > টাকার অভাবে আটকে আছে হাইস্পিড ট্রেন প্রকল্প

টাকার অভাবে আটকে আছে হাইস্পিড ট্রেন প্রকল্প

টঙ্গী-ভৈরবের বদলে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা হয়ে কুমিল্লার লাকসাম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ এবং ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালানোর প্রকল্প নেয়া হয়েছিল চলতি বছরের শুরুতে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে দেড় ঘণ্টায় চট্টগ্রাম যাতায়াত করা সম্ভব হতো। কিন্তু প্রায় এক বছরেও যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি আগায়নি এতটুকু। কারণ এই প্রকল্পের টাকা কোত্থেকে আসবে সেটা নিশ্চিত হয়নি এখনও।

এই প্রকল্পটি বাংলাদেশে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব নিয়ে আসতো। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় মন্থর গতির ট্রেনের বদনাম ঘুঁচত তখন। আর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ধীরে ধীরে অন্যান্য রুটেও দ্রুত গতির ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা ছিল মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু প্রথম পরিকল্পনার কাজই শুরু হয়নি এক বছরে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেনগুলো টঙ্গী জংশন হয়ে নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কুমিল্লার লাকসাম হয়ে চলাচল করে। এ রুটের দৈর্ঘ্য ৩২০ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার। এই রুটে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিরাট। এই রেল ভ্রমণে সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।

কিন্তু এই রুটের বদলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর দিয়ে সেতু তৈরি করে কুমিল্লার লাকসাম পর্যন্ত নতুন লাইন তৈরির কথা বলা হয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দূরত্ব কমবে প্রায় ৯০ কিলোমিটার। এতে বর্তমান গতিতে ট্রেন চললেও পৌনে দুই ঘণ্টা সময় কমবে এই রুটে। কিন্তু রেলপথ মন্ত্রণালয় নতুন এই রুটে প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতির আধুনিক ট্রেন চালাতে চায়। ফলে ২৩০ কিলোমিটার দূরত্ব পারি দিতে তখন সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার মতো। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩০ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। এতে চীন থেকে দ্রুতগতির এক্সপ্রেস ট্রেন কেনার কথাও বলা ছিল।

গত জানুয়ারিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের লক্ষ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় রেলপথ মন্ত্রণালয়। ১০৯ কোটি টাকার এই কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল অক্টোবরে। কিন্তু অর্থায়নের ব্যবস্থা না হওয়ায় এই প্রকল্প শুরু করা যায়নি।

প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে চায়না রেলওয়ে ইইয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) সই হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ডেভেলপমেন্ট অব প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুমোদনও করেছে। চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশও করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। কিন্তু এর পর আর আগায়নি কাজ।

জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, এখনও এই প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহ হয় নাই। অর্থ সংগ্রহের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ইকোনোমিক ডিভিশনে পাঠানে হয়েছে। যখন ফান্ড (তহবিল) নিশ্চিত হবে তখনই এই প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।

রেলমন্ত্রী বলেন, অর্থ সংগ্রহের জন্য বিআরডি’র ইকোনোমিক ডিভিশনে পাঠানো হয়েছে। যখন ফান্ডিং নিশ্চিত হবে, তখনই এই প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। এই প্রকল্প এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পের জন্য জন্য ফান্ড সংগ্রহ করে বিআরডি। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে, যদি কোথাও থেকে অর্থায়ন পাওয়া যায়। ফান্ড নিশ্চিত হলেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

অর্থায়নের জন্য তাহলে কী করা হবে? জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, যোগাযোগ খাতের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অর্থের সংস্থান। যদিও জাপানের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নেয়ার চেষ্টা চলছে। তবে বিকল্প হিসেবেও একাধিক দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

মুজিবুল হক বলেন, ‘প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য কোন সময় সীমা নাই। হাইস্পিড ট্রেন লাইন প্রকল্পের জন্য যা অর্থায়নের প্রয়োজন, যদি কেউ এগিয়ে আসে আর সরকারের নীতিমালার সাথে মিলে, তবে আমরা তাদের সাথে চুক্তি করব।

Leave a Reply

Top