জুলধা এলাকায় ঘর তুলতে বাধা ও মোটা অংকের চাঁদা দাবীর অভিযোগ – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > জুলধা এলাকায় ঘর তুলতে বাধা ও মোটা অংকের চাঁদা দাবীর অভিযোগ

জুলধা এলাকায় ঘর তুলতে বাধা ও মোটা অংকের চাঁদা দাবীর অভিযোগ

সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার, কর্ণফুলী :

চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা এলাকজায় পাকা বাড়ী করতে বাধা ও ঘর তুলতে ৫ লক্ষ টাকা চঁাদা দাবীর অভিযোগ। ভুক্তভোগীরা বলেন চঁাদা দিতে যাব কেন ? এই সম্পত্তি আমাদের বাপ দাদার পৈত্রিক পাওয়া। ভুক্ত ভোগীরা আরো অভিযোগ করেন আমরা চঁাদা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে এবং চঁাদা দিবনা বললে তখন চঁাদাবাজ বদরুল হক ও আবুল হাশেম গং লাঠি সোটা হাতে নিয়ে ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে এবং আমাদের কয়েকজনকে রক্তাক্তও করে। তারা বার বার চঁাদা দাবী করাতে আমরা চাঁদা না দেওয়ার কারণে উক্ত সন্ত্রাসী বাহিনী ও চাঁদাবাজরা আমাদের বিরুদ্ধে চার চারটি মিস মামলা করেন। প্রথম মামলা করেন মিস মামলা নং ১৩৩৯/২০২০ইং কর্ণফুলী, ২য় মামলা নং ১১৮৫/২০২০ইং কর্ণফুলী ধারা ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৫, ৩য় মিস মামলা নং ১৫২/২০২০ইং কর্ণফুলী, ৪র্থ মিস মামলা নং ১৪৮৭/২০২০ইং ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৫। ৪টি মিস মামলার মধ্যে সব কটি মামলা আমাদের পক্ষে রায় দেয় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা আদালতে। আমাদের পক্ষে রায় বা ডিগ্রী প্রদান করেন মাননীয় আদালত। প্রথম আদেশ নং ৫/তারিখ ১২-১০-২০২০ইং, ২য় আদেশ নং ০২/তারিখ ০২-১১-২০২০ইং, ৩য় আদেশ নং ০৩/ ১১-০১-২০২১ইং, ৪র্থ আদেশ নং ০২/ তারিখ ০৯-০২-২০২১ইং এবং বিজ্ঞ আদালতের শুনানীতে মিস মামলা ১৩৩৯/২০২০, ১১৮৫/২০২০ এবং ১৫২/২০২০ মামলাগুলো উভয় পক্ষের শুনানী অন্তে নিস্পত্তি বা মামলা খারিজ করেন। আদালত আবারও আদেশ ক্রমে উপরোক্ত অবস্থায় ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় প্রসিডিং গ্রহনের উপাদান না থাকায় মামলা নথিজাত করেন। এব্যাপারে আদালতের আদেশ ক্রমে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। কর্ণফুলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুকান্ত সাহাকে সঠিক ও সুষ্ঠ আন্তরিকতার সাথে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করার আদেশ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্ণফুলী সুকান্ত সাহার কাছে অত্র প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি বাদী বিবাদীকে সামনে রেখে প্রতিবেদন আদালতের রায় অনুযায়ী সঠিক তদন্ত পূর্বক যেটি আদালতের রায় সে অনুযায়ী আমি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছি আদালতের কাছে ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়ে । আদালতে মিস মামলাগুলোর ডিগ্রী প্রদানের জায়গা বিএস দাগসহ উল্লেখ করেন। দাগগুলো বিএস ৩৫৩০/ জমির পরিমাণ ০.৪২০০ একর, বিএস ১৮৪৪ নং খতিয়ানের বিএস ৩৫৩০ দাগের ০.৩৬৭৫ একর ভূমি জরিপ চুড়ান্ত প্রচার হয়। আরো উল্লেখ আছে প্রতি পক্ষের স্বত্ত্ব বদিউল আলম গং দের নামে বিএস ৩৫৩০ দাগে ০.০৫২৫ একর ভূমি নিয়ে বিএস ৪২৫৭ নং খতিয়ান সৃজিত আছে। ১৮৪৪ বিএস দাগে নালিশী বিএস নং ৩৫৩০/ দাগে ০.০০৪২ একর এবং অনালিশী বিএস ৩৫২৮ / দাগে ০.৪০০ একর সর্বমোট ভূমির উপর প্রতিপক্ষগণ নির্মানাধীন গৃহে বসবাসরত অবস্থায় আছেন প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ বছর যাবত এবং তারা এই পর্যন্ত ভোগ দখলে আছেন ফোরকান গংরা এবং জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট চট্টগ্রামের নির্দেশে উক্ত নালিশী ভূমি দখল তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে কর্ণফুলী উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো: মহিউদ্দিন পলাশকে সুষ্ঠ তদন্ত ও সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেদন তৈরী করে দাখিল করার আদেশ দেন। এবিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো: মহিউদ্দিন পলাশ এর সাথে তার মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই মামলা মোকদ্দমা এবং হামলা, মোটা অংকের চঁাদা চাওয়া নিয়ে জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মো: ওসমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন গৃহ নির্মাণে বাধা সৃষ্টি কারীরা নির্মানাধীন ভবনের ভিতরে আমাদের জায়গা আছে। পরে একটা বৈঠকের ব্যবস্থা করা হলে উক্ত বৈঠক চলাকালীন অবস্থায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের উসকানী মুলক বাক্য ব্যবহার করে চঁাদাবাজ ও ভূমি দস্যু বদরুল হক ও আবুল হাসেম গংরা চঁাদা দাবী বিষয়ে উক্ত সদস্যের কাছে জানতে চাইলে সেটা সত্যি বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন ৫ লক্ষ টাকা না দেওয়া পর্যন্ত বিল্ডিং এর কাজ বন্ধ থাকবে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকী দিতে থাকে। আমি গোপন সূত্রে জানতে পেরেছি। এসব চঁাদাবাজির কথা গুলো তিনি প্রশাসন মহলের কাছে ও ভূমি কর্মকর্তাসহ সবার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। যেন অতি সত্ত্বর আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে উক্ত অসহায় ৪টি পরিবারকে অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করা থেকে একটি সুরাহা করে দেন। এব্যাপারে জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের মো: রফিক বলেন আমার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মো: ওসমান একবার বৈঠক করার ব্যবস্থা করেছিল। বৈঠক চলাকালীন তারা যখন লাঠিসোটা নিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে সংঘর্ষ শুরু করে দেয় এবং বিবাদী বা ফোরকান গংদেরকে রক্তাক্ত করেন এবং গুরুতর সংঘর্ষ শুরু করেন। তারপর আর বৈঠক হয়নি। পরবর্তীতে এই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলা গুলোতে বিজ্ঞ আদালত থেকে রায় বা ডিগ্রী পায় ফোরকানগংরা। পরে আরো একটি ১৪৪ মিস মামলা করাতে গৃহ নির্মাণের কাজ করতে পারতেছেনা। তিনি আরো বলেন লক ডাউনের কারনে আদালত সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালাতে মামলাটি স্থগিত। আদালতের পরিপূর্ণ কার্যক্রম শুরু হলে এই মামলাটিও ফোরকান গংদের পক্ষে রায় হবে। তিনি আরো বিশেষ অনুরোধক্রমে বলেন প্রয়োজনে আদালতে রায়ের পরে আমি নিজে দাড়িয়ে থেকে তাদের বিল্ডিং এর কাজ সম্পন্ন করে দেব। এব্যাপারে ভুক্তভোগী ফোরকান বলেন আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সে কারনে আমাদের উপর জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার করে যাচ্ছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন আমাদের বিপক্ষদেরকে রাজনৈতিক কিছু নেতা শেল্টার দেয় বলে আমাদের কাছে খবর আছে। মো: ফোরকান বলেন আমার এবং আমাদের পরিবারে বেশী কিছু দরকার নাই। আমি শুধু ভূমি প্রশাসনসহ অন্যান্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি এই যে, আমি যেন আমার আরো ৩টি ভাইকে নিয়ে কষ্টের টাকা একটি ঘর করতেছি সেইটা যেন অতি সত্ত্বর কাজ শুরু করতে পারি। এটাই আমার বিভিন্ন প্রশাসনের প্রতি আবারো আকুল আবেদন।

Top