You are here
Home > জাতীয় > জিএসপি ইস্যুতে চলতি সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ

জিএসপি ইস্যুতে চলতি সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ

স্টাফ রিপোর্টারঃ চলতি সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু।
পিয়েরে মায়াদু বলেছেন, এ সপ্তাহে শ্রমিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিশেষ অনুচ্ছেদের আঙ্গিকে বাংলাদেশকে পরীক্ষামূলকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। সেখানে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার (জিএসপি) বিষয়টি অবধারিতভাবে আসবে। তাই ইইউর জিএসপি ইস্যুতে চলতি সপ্তাহ সরকার ও বেসরকারি খাতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, ইইউর মানুষের প্রত্যাশা, বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার ও মানবাধিকার বিষয়ে স্থিতিশীল উন্নতি হবে। বাংলাদেশি পণ্যের বড় রপ্তানি বাজার ইইউ।
ইইউ রাষ্ট্রদূত আরও বলেছেন, ‘জাতিসংঘের লেবার কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ইপিজেড আইন সংশোধনের জন্য সংসদ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এটিকে আমরা খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। রাষ্ট্রদূত হিসেবে এই উদ্যোগকে আমি স্যালুট জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, প্রক্রিয়াটি চলমান থাকবে। একই সঙ্গে শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।’
রাজধানীর মতিঝিলে গতকাল সোমবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) ভোজসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু। ভোজসভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মেট্রো চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহসভাপতি গোলাম মঈনুদ্দিন, সাবেক সভাপতি লায়লা রহমান কবির, সাবেক সহসভাপতি কামরান টি রহমান প্রমুখ।
গত জুনে আইএলওর সর্বশেষ সম্মেলনে বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষ অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়। তাতে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্যের তদন্ত করা এবং ইউনিয়নের নিবন্ধন স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে করতে বলা হয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধার বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় ইইউ। এ জন্য গত মার্চে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। এদিকে পোশাকশিল্প শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইইউর উদ্যোগে গঠিত সাসটেইনেবল কমপ্যাক্টের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শ্রমিক অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশকে সন্তোষজনক অগ্রগতি তুলে ধরতে হবে।
মেট্রো চেম্বারের ভোজসভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। তখন জিএসপি প্লাসের জন্য বাংলাদেশ যোগ্য হবে। জিএসপি প্লাসের আওতায় পোশাকসহ প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এটি অর্জনের শর্ত খুবই কঠিন। জাতিসংঘের ১৭টি কো-কনভেনশন স্বাক্ষর ও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হয়। এর মধ্যে শ্রমিক অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার মতো বিষয় আছে।
ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে তিনটি চ্যালেঞ্জ আছে বলে মন্তব্য করেন পিয়েরে মায়াদু। এগুলো হচ্ছে সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিগত সফলতা অর্জন। তিন চ্যালেঞ্জের বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেন ইইউর এই কূটনীতিক।
গত ডিসেম্বরে আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে পিয়েরে মায়াদু বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিক হয়রানি ও নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে। শ্রম ইস্যুতে জাতিসংঘে বিশেষ অনুচ্ছেদ যুক্ত হওয়া ভালো কিছু নয়। তিনি বলেন, শ্রমিক অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশকে অনেক উন্নতি করতে হবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেডে) ততক্ষণ পর্যন্ত ইউরোপীয়রা বিনিয়োগ করবে না, যতক্ষণ না শ্রম আইন জাতিসংঘের কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য না হচ্ছে। শ্রম আইনের আওতায় সারা দেশের সব শিল্পকারখানাকে নিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি।
বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কম আসার পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাঠামোগত জটিলতাকে দায়ী করেন পিয়েরে মায়াদু। তিনি বলেন, স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একই আইন করতে হবে। বিশেষ করে শুল্ক-কর, লাইসেন্স ও মুনাফা বণ্টন। তা ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার প্রসঙ্গ টেনে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ আনার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিলেও এখনো সমস্যা আছে। বিশ্বব্যাংকের করা ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬। সরকার পাঁচ বছরের মধ্যে এই সূচক দুই অঙ্কের ঘরে আনার কথা বলছে। তবে অল্প সময়ে এটি অর্জন উচ্চাভিলাষী। তবে আমরা আশা করি, এটি হবে।’ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সঠিক দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হলে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্বের সব দেশের কূটনীতিকেরা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘আমরা ইইউর কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আশা করি, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে। গত জাতীয় নির্বাচনের মতো আরেকটি নির্বাচন হবে না।’
নিহাদ কবির বলেন, পণ্য বাণিজ্যে আমদানিতে ইইউ কঠোর মান মেনে চলে। মান উন্নয়নের এই চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ আন্তরিক উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভালো অগ্রগতি করেছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রূপান্তরে আমাদের সহায়তা দরকার। একই সঙ্গে আমাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাদের সহায়তামূলক মূল্য দেওয়া দরকার। এসব ইতিবাচক উদ্যোগে আগামী বছরগুলোতে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।

Leave a Reply

Top